ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ইসলামে যেসব বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা নিষিদ্ধ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নিছক বিনোদন বা হাসাহাসির নামে অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা অনেক সময় মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করে। সামান্য কৌতুকও কারও মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। ইসলাম কৌতুককে সম্পূর্ণ নিষেধ করেনি তবে অন্যের মনঃকষ্টের কারণ হয় বা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে এমন ঠাট্টা-বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর আমি তো আদমসন্তানকে সম্মানিত করেছি...” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭০)। মানুষের মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম।” নারীদেরও একে অপরকে বিদ্রূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)

যেসব বিষয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকা জরুরি

১. দ্বীন ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা

আল্লাহ, পবিত্র কুরআন, রাসুলুল্লাহ (সা.), সুন্নাত কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে বিদ্রূপ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা অজুহাত পেশ কর না, তোমরা তো ইমান আনার পর কুফরি করেছ।” (সুরা আত-তওবা, আয়াত ৬৫-৬৬)

২. কারও শারীরিক গঠন বা ত্রুটি নিয়ে উপহাস

উচ্চতা, গায়ের রং, অন্ধত্ব, খাটো হওয়া কিংবা কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে কৌতুক করা মানুষের মনে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর একটি ঘটনার প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেন, “তুমি এমন একটি কথা বলেছ, তা যদি সমুদ্রের পানির সঙ্গেও মিশিয়ে দেওয়া হতো, তবে তা সমুদ্রের পানিকে বিষাক্ত করে ফেলত।” (তিরমিজি, ২৫০২)

৩. বিকৃত বা মন্দ নামে ডাকা

কারও নাম বিকৃত করা বা অপছন্দনীয় উপাধিতে ডাকা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা একে অপরের নিন্দা কর না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।” (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)

৪. কারও ভুল, বিপদ বা অতীতের গুনাহ নিয়ে খোঁটা দেওয়া

মানুষ ভুল করতে পারে এবং যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারে। কারও ব্যর্থতা, বিপদ কিংবা অতীতের গুনাহ নিয়ে হাসাহাসি করা অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তুমি তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ কর না।” (তিরমিজি, ২৫০৬)

৫. দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক অবস্থা বা অসংগতি নিয়ে ঠাট্টা

কারও ছেঁড়া পোশাক, কম দামি জিনিসপত্র, সাধারণ জীবনযাত্রা কিংবা আর্থিক অনটন নিয়ে ঠাট্টা করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ করে।” (মুসলিম, ২৫৬৪)

রসিকতায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত

ইসলাম জীবনকে নিরস করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে আনন্দ-কৌতুক ও রসালাপ করতেন। তবে তাঁর কৌতুকের বৈশিষ্ট্য ছিল—তাতে কোনো মিথ্যা, অন্যায় বা কারও প্রতি অপমান থাকত না। হাদিসে এসেছে, সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনিও আমাদের সঙ্গে কৌতুক করেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তবে আমি সত্য বৈ অন্য কিছু বলি না।” (তিরমিজি, ১৯৯০)

হাসি-ঠাট্টা জীবনের আনন্দের খোরাক হলেও তা যেন কারও আত্মসম্মানে আঘাত না হানে এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন না করে। অন্যের শারীরিক গঠন, দারিদ্র্য, ভুলত্রুটি বা দ্বীনের অনুশাসন নিয়ে ঠাট্টা করা থেকে জবানকে সংযত রাখা জরুরি। সত্য ও শালীনতার গণ্ডির মধ্যে থেকে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আরও পড়ুন
আল ওয়াহদাহ ফাউন্ডেশনের ফ্রি পবিত্র কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন