ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামে যেসব বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা নিষিদ্ধ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নিছক বিনোদন বা হাসাহাসির নামে অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা অনেক সময় মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করে। সামান্য কৌতুকও কারও মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। ইসলাম কৌতুককে সম্পূর্ণ নিষেধ করেনি তবে অন্যের মনঃকষ্টের কারণ হয় বা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে এমন ঠাট্টা-বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর আমি তো আদমসন্তানকে সম্মানিত করেছি...” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭০)। মানুষের মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম।” নারীদেরও একে অপরকে বিদ্রূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)

যেসব বিষয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকা জরুরি

১. দ্বীন ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা

আল্লাহ, পবিত্র কুরআন, রাসুলুল্লাহ (সা.), সুন্নাত কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে বিদ্রূপ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা অজুহাত পেশ কর না, তোমরা তো ইমান আনার পর কুফরি করেছ।” (সুরা আত-তওবা, আয়াত ৬৫-৬৬)

২. কারও শারীরিক গঠন বা ত্রুটি নিয়ে উপহাস

উচ্চতা, গায়ের রং, অন্ধত্ব, খাটো হওয়া কিংবা কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে কৌতুক করা মানুষের মনে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর একটি ঘটনার প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেন, “তুমি এমন একটি কথা বলেছ, তা যদি সমুদ্রের পানির সঙ্গেও মিশিয়ে দেওয়া হতো, তবে তা সমুদ্রের পানিকে বিষাক্ত করে ফেলত।” (তিরমিজি, ২৫০২)

৩. বিকৃত বা মন্দ নামে ডাকা

কারও নাম বিকৃত করা বা অপছন্দনীয় উপাধিতে ডাকা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা একে অপরের নিন্দা কর না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।” (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)

৪. কারও ভুল, বিপদ বা অতীতের গুনাহ নিয়ে খোঁটা দেওয়া

মানুষ ভুল করতে পারে এবং যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারে। কারও ব্যর্থতা, বিপদ কিংবা অতীতের গুনাহ নিয়ে হাসাহাসি করা অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তুমি তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ কর না।” (তিরমিজি, ২৫০৬)

৫. দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক অবস্থা বা অসংগতি নিয়ে ঠাট্টা

কারও ছেঁড়া পোশাক, কম দামি জিনিসপত্র, সাধারণ জীবনযাত্রা কিংবা আর্থিক অনটন নিয়ে ঠাট্টা করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ করে।” (মুসলিম, ২৫৬৪)

রসিকতায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত

ইসলাম জীবনকে নিরস করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে আনন্দ-কৌতুক ও রসালাপ করতেন। তবে তাঁর কৌতুকের বৈশিষ্ট্য ছিল—তাতে কোনো মিথ্যা, অন্যায় বা কারও প্রতি অপমান থাকত না। হাদিসে এসেছে, সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনিও আমাদের সঙ্গে কৌতুক করেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তবে আমি সত্য বৈ অন্য কিছু বলি না।” (তিরমিজি, ১৯৯০)

হাসি-ঠাট্টা জীবনের আনন্দের খোরাক হলেও তা যেন কারও আত্মসম্মানে আঘাত না হানে এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন না করে। অন্যের শারীরিক গঠন, দারিদ্র্য, ভুলত্রুটি বা দ্বীনের অনুশাসন নিয়ে ঠাট্টা করা থেকে জবানকে সংযত রাখা জরুরি। সত্য ও শালীনতার গণ্ডির মধ্যে থেকে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
আল ওয়াহদাহ ফাউন্ডেশনের ফ্রি পবিত্র কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন