ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিয়ে কি ফরজ, নাকি সুন্নত? জানুন শরিয়তের ব্যাখ্যা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। জীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি এবং বংশবৃদ্ধির এক সুন্দর ও পবিত্র অনুঘটক হলো বিয়ে। এটি শুধু দুটি মানুষের সামাজিক বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আত্মিক ও দাম্পত্য প্রশান্তি অর্জনের এক অপূর্ব ইসলামি মাধ্যম। তবে মানুষের জীবনে বিশেষ পরিস্থিতিতে কারো মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে— কোনো মানুষ কি চাইলে সারা জীবন বিয়ে না করে একা কাটিয়ে দিতে পারে? ইসলামি শরিয়তে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং একজন ব্যক্তির শারীরিক ও সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে বিয়ের বিধান কেমন হয়, তা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বিয়ে না করে সারা জীবন চিরকুমার বা চিরকুমারী হয়ে থাকা ইসলামে নিরুৎসাহিত ও অপছন্দনীয় (মাকরুহ) একটি বিষয় হলেও, এটিকে সর্বাবস্থায় সরাসরি ‘হারাম’ বা কবিরা গুনাহ বলা যায় না। শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং পাপাচারের আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে বিয়ের হুকুম বা বিধান ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।

ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের শরঈ হুকুম—

ওয়াজিব (অবশ্যকরণীয়): কোনো ব্যক্তির যদি স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জেনা, ব্যভিচার কিংবা কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। এই অবস্থায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করে একা থাকা গুনাহের কারণ।

সুন্নতে মুয়াক্কাদা (সুনির্দিষ্ট সুন্নাত): যে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং তিনি নিজেকে হারাম কাজ থেকে মুক্ত রাখার সক্ষমতাও রাখেন, তার জন্য বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি মহানবী (সা.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।

মুবাহ বা জায়েজ: কোনো ব্যক্তির যদি যৌন চাহিদা একেবারেই না থাকে (যেমন— জন্মগত অক্ষমতা, বার্ধক্য কিংবা শারীরিক জটিলতা) এবং বিয়ে না করলেও কোনো প্রকারে গুনাহে জড়ানোর ন্যূনতম ভয় না থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে না করে একাকি জীবন কাটানো জায়েজ বা অনুমোদিত।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের তাগিদ

ইসলামে বৈরাগ্যবাদ বা চিরকুমার জীবনযাপনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং যথাসময়ে বিয়ের মাধ্যমেই চরিত্র রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—

وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদের বিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩২)

অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের তাগিদ দিয়ে এবং অহেতুক বৈরাগ্য বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন—

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কেননা রোজা তার কামভাব দমন করবে।’ (বুখারি ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, একাকি থাকা বা অহেতুক বিয়ে এড়িয়ে চলা তার আদর্শের অংশ নয়—

النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي

‘বিয়ে হলো আমার সুন্নত (আদর্শ)। সুতরাং যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাজাহ ১৮৪৬)

বিয়ে কেবল শারীরিক চাহিদাপূরণের হাতিয়ার নয়, বরং দ্বীনকে পূর্ণতা দেওয়ার এবং একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের শরিয়তি মাধ্যম। বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে বিনা কারণে সারা জীবন চিরকুমার থাকার মানসিকতা ইসলামী জীবনদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রতিটি সামর্থ্যবান ও সক্ষম মানুষের উচিত সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রবের ওপর ভরসা রেখে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে নিজের চরিত্র ও ঈমানকে হেফাজত করা।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শুভ মহালয়া আগামীকাল
বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য লগ্ন শুভ মহালয়া আগামীকাল (শনিবার)। এদিন মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হবে। মহালয়া তিথি শুধু শারদীয়া দেবীর পূজা শুরুর তিথি তা নয়, এই তিথি পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ (জলদান) করে শ্রদ্ধা জানানোরও। পক্ষকাল পিতৃপক্ষের অবসানের পরে শুরু হয় দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধির তিথি হলো মহালয়া। মহালয়া অমাবস্যা, শারদীয়া দেবী দুর্গার অমাবস্যার বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয়া দুর্গাপূজা। শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এই মহালয়া তিথিতে। এই তিথিতেই শারদীয়া দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। সকালে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে জানানো হবে আহ্বান। মহালয়া উপলক্ষ্যে চন্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা করা হবে। মূলত মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়ে যাওয়া। মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাণে আছে— দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলে অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন এবং দেবতাদের ১০টি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী নিয়ে দেবী দুর্গা ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করে। মহালয়ার ভোর থেকেই শুরু হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা। সনাতন ধর্মে বলা হয়, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। মৃত আত্মীয়পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনা করেন অনেকে। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল-তিল-অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করা হয়। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত আগামীকাল থেকেই দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শোনা যাবে। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। মহালয়া উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। আগামী ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা বহনকারী মহালয়া উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মন্দিরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওইদিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া শনিবার ভোরে রমনা কালী মন্দিরেও মহালয়া উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্র দানের মাধ্যমে তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসের নিজ আবাস থেকে মর্ত্যলোকে তার পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন, যা দুর্গাপূজা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়। এছাড়াও ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগে লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই চন্ডীপাঠ, চন্ডীপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোটক) চড়ে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস-কে বলেন, ‘এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে বাসুদেব ধর বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’ পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। উৎসব চলাকালীন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। আরটিভি/এসআর
শুভ মহালয়া আগামীকাল
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সুখ দেখে কখনো নিজের মনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে যে আমল করবেন
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়কে কাজে লাগাতে অনেকেই বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার পড়েন।
জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় যা পড়বেন 
আজকের নামাজের সময়সূচি
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা ব্যস্ততায় কাটে আমাদের প্রতিটি দিন। কাজ, পরিবার, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় আত্মিক প্রশান্তির কথা ভুলে যাই।
আজকের নামাজের সময়সূচি
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তিনি  এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সাংবাদিক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তার নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শায়খ আসলে সম্মানসূচক একটি ভূষণ। আমরা যেরকম ‘জনাব’, ‘শ্রদ্ধেয়’—এ ধরনের শব্দ দিয়ে মানুষকে সম্মানিত করার চেষ্টা করি, শায়খও অনেকটা তেমন। শায়খ শব্দটি মূলত সিনিয়রিটি বোঝায়। আরব বিশ্বে এটি খুব পরিচিত একটি সম্বোধন বা টাইটেল বলা যেতে পারে। সেখানে আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান করে শায়খ বলে সম্বোধন করেন। আলেমদের ক্ষেত্রে এটি একটু বেশি ব্যবহৃত হয়। তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। সেখানে বাংলা ভাষাভাষীরাও ‘শায়খ’ শব্দটি বলতে অভ্যস্ত। মূলত সেখান থেকেই ‘শায়খ’ শব্দটি আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয় যে এটি কোনো অর্জনের টাইটেল, তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়। মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দায়িত্বের বিষয় আছে, এটি তেমন নয়। আমাদের দেশে যেমন মাওলানা বা হুজুর বলে সম্বোধন করা হয়, সেখানে শায়খ বলে সম্বোধন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
আরও পড়ুন
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
ফেসবুকে পরিচয় থেকে ‘কাছে আসা’, ভারতে গিয়ে নারীর ভয়ংকর অভিজ্ঞতা
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
কেন অনামিকাতেই পরানো হয় বিয়ের আংটি