৩ টন বোমার শক্তি নিয়ে চাঁদে আঘাত হানতে যাচ্ছে রকেট, পৃথিবীতে প্রভাব পড়বে কি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:৫৯ পিএম


৩ টন বোমার শক্তি নিয়ে চাঁদে আঘাত হানতে যাচ্ছে রকেট, পৃথিবীতে প্রভাব পড়বে কি?
চাঁদ। ছবি সংগৃহীত

মহাকাশে মানুষের তৈরি প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান এক বিশাল পরিত্যক্ত রকেটের অংশ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বুধবার (৫ আগস্ট) এই সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণের তীব্রতা হবে প্রায় তিন টন টিএনটি বোমার শক্তির সমান।

মহাকাশে চন্দ্রযান পৌঁছে দেওয়ার পর ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের ওপরের অংশটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শূন্যে ভাসছিল। পরবর্তীতে চাঁদের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এটি চাঁদমুখী গতিপথ নেয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি চাঁদের দৃশ্যমান অংশের ‘আইন্স্টাইন ক্রাটার’ বা গহ্বরের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানবে। এই ধাক্কায় চাঁদের বুকে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া এবং ৫ মিটার গভীর নতুন একটি গহ্বর তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির মহাকাশ গবেষক উইলিয়াম জো জানান, সংঘর্ষের প্রভাবে সৃষ্ট ধূলিকণা ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, আঘাতের মুহূর্তের আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডের কম স্থায়ী হলেও পৃথিবী ও মহাকাশে থাকা বিশেষ টেলিস্কোপে তা কয়েক মিনিট পর্যন্ত দেখা যেতে পারে।

চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় এই সংঘর্ষ ও ধূলিঝড় থেকে পৃথিবীর বা ভবিষ্যতে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করা নভোচারীদের জন্য কোনো সরাসরি ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ‘লুনার রিকনসাইস্যান্স অরবিটার’ দিয়ে সংঘর্ষের আগের ও পরের স্থানের ছবি তুলবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাকাশে থাকা অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কতটুকু জরুরি, এই ঘটনা সেটিকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission