
মানবসভ্যতা গড়ে ওঠার আগে পৃথিবীতে ভিনগ্রহীদের আগমনের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। তবে পৃথিবীর প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং অন্য নক্ষত্র থেকে সৌরজগতে বস্তু প্রবেশের ঘটনা এ সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রাখছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকদের মতে, লাখ লাখ বছর আগে কোনো উন্নত প্রযুক্তির সভ্যতা পৃথিবীতে এসে থাকলেও ভূক্ষয়, পলির স্তরে চাপা পড়া ও ভূত্বকের পরিবর্তনে তার চিহ্ন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ কারণে অক্ষত মহাকাশযানের বদলে অস্বাভাবিক রাসায়নিক উপাদান, আইসোটোপের বিন্যাস কিংবা ভূতাত্ত্বিক স্তরে কৃত্রিম প্রযুক্তির চিহ্ন খোঁজার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৭ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে থেকে আসা প্রথম শনাক্ত আন্তনাক্ষত্রিক বস্তু ‘ওউমুয়ামুয়া আবিষ্কার করেন। এর অস্বাভাবিক আকৃতি ও গতিবিধি নিয়ে কৃত্রিম প্রযুক্তির সম্ভাবনা আলোচনায় এলেও বস্তুটি ভিনগ্রহীদের তৈরি— এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রাচীন পিরামিড, বিশাল স্থাপনা কিংবা ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনিকেও ভিনগ্রহীদের আগমনের প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় এসব স্থাপনার নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর পরিচিত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বা মানবপ্রযুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না—এমন কোনো বস্তু কিংবা নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত চিহ্ন আবিষ্কৃত হলে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাবে। তবে সে ক্ষেত্রে স্বাধীন গবেষণাগারে পরীক্ষা ও ফলাফলের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রমাণ যাচাই করতে হবে।
বর্তমানে নাসার অনুসন্ধানেও ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব কিংবা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর সঙ্গে ভিনগ্রহীদের প্রযুক্তির সম্পর্কের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞানীদের অবস্থান স্পষ্ট— প্রাচীন পৃথিবীতে ভিনগ্রহীদের আগমনের সম্ভাবনা তাত্ত্বিকভাবে উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও, এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে



