পেশাগত যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম লিংকডইন এখন অনেকের কাছে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার বা ডেটিং অ্যাপের নতুন জায়গা হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, চাকরির পাশাপাশি অনেকেই এই মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজছেন এবং সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে প্রেমের সম্পর্ক।
এসএফগেট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির ওয়েবসাইট জেটি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি আটজনের মধ্যে একজন লিংকডইনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
তবে এই প্রবণতা বাড়লেও বিষয়টি নিয়ে এখনো অনেকের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ মানুষের মতে, লিংকডইনের মাধ্যমে কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা তাদের সামাজিক বা পেশাগত ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, বয়সভিত্তিক হিসেবে সহস্রাব্দ প্রজন্মের ৩৩ শতাংশ মানুষ লিংকডইনকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরিতে ব্যবহার করেন। এরপর রয়েছে নতুন প্রজন্মের ২৭ শতাংশ, মধ্যবয়সী প্রজন্মের ১৯ শতাংশ এবং প্রবীণদের ৬ শতাংশ।
জরিপে বলা হয়েছে, লিংকডইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রোফাইলের ছবি, নিজের পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত ব্যক্তি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেন।
তবে সবাই এই প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। জরিপে ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, কেউ যদি প্রেমের উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে তারা অস্বস্তি বোধ করবেন। আর ২৬ শতাংশ মনে করেন, লিংকডইন শুধুই পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে থাকা উচিত।
জেটির পেশা–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাসমিন এসকালেরা বলেন, বর্তমানে মানুষ আগের মতো ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়কে আলাদা করে দেখেন না। তার মতে, এখন লিংকডইনের প্রোফাইলে শুধু একজনের চাকরির পরিচয় নয়, তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও ধারণা পাওয়া যায়। এ কারণেই অনেকেই এখন শুধু পেশাগত যোগাযোগ নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্র হিসেবেও এই মাধ্যমকে দেখছেন।
আরটিভি/জেএমএ



