সরকারকে রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় আলেম ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এ আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে তিনি এ বিষয়ে একটি স্টাটাস দেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এই দেশে পাথর ছুড়ে অন্ধ করে দেওয়াও কিছু মানুষের কাছে বিনোদন! কী ভয়ানক অসুস্থ সমাজে বসবাস করছি আমরা। চলন্ত ট্রেনে প্রায়ই পাথর নিক্ষেপ এবং অন্ধ হওয়ার মতো নির্মম ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়। যারা এই অমানবিক অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের অধিকাংশই ঝরে পড়া কিশোর।
এই নৃশংসতা থামাতে সরকারকে রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও নজরদারি বাড়ানো, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সেই সাথে রেললাইনের পাশের মসজিদের ইমাম, আলেম ও সচেতন নাগরিক সমাজকে এই বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে উদ্যমী তরুণেরা মাঝে মাঝে পাহারার ব্যবস্থা করতে পারে।
রেল তুলনামূলক নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত মাধ্যম। লক্ষ লক্ষ যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে রেলপথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি।’
একই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি লেখেন, পাথর ছোড়া শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর লক্ষণ। যখন একটি কিশোর অন্যের চোখ নষ্ট করে আনন্দ খুঁজে পায়; তখন বুঝতে হবে সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়—পরিবার, শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক পরিবেশেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
একই সমাজে আমরা কিশোর গ্যাং, মাদক, পর্নোগ্রাফির প্রভাব, আত্মহত্যার প্রবণতা, সহিংসতা ও নানা বিকৃত আচরণের উত্থানও দেখছি। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; একই অবক্ষয়ের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।
তাই শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন।
আরটিভি/এমএ




