
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত কটূক্তি ও অনলাইন হয়রানির মানসিক চাপের মধ্যে জাপানি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার মিনা চানের মৃত্যু হয়েছে। ৫ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নিজ বাসভবনে টিকটক লাইভ চলাকালে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণীর মৃত্যু হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিটের দিকে মিনা চানের বাসায় পুলিশ পৌঁছে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাটি তদন্ত করছে সিউলের ইয়ংসান পুলিশ।
মিনা চানের মৃত্যুর খবর প্রথমে তার বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান। পরে ১১ আগস্ট পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরিবার জানায়, মিনা চানের ২৬তম জন্মদিনের দুই দিন আগে তাকে ‘বাড়ি’ ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য, কটূক্তি ও তীব্র সমালোচনা মিনা চানের ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। তার মৃত্যুর পর অনলাইন হয়রানি ও সাইবারবুলিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কে-পপ ব্যান্ড ENHYPEN-এর ভক্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন মিনা চান। তিনি ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও কসমেটিক্স নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে কয়েক লাখ অনুসারী থাকার কথা বলা হয়েছে।
মিনা চানের মৃত্যুর আগে অনলাইনে তাকে ঘিরে সমালোচনা ও হয়রানির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
মিনা চানের মৃত্যুর পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইন হয়রানি, সাইবারবুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরটিভি/এসকে


