ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘মৃতরা কি আমাদের কথা শুনতে পায়’ প্রশ্নোত্তর যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়েখ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, মানুষ মারা গেলে সে কি তার গোসল করানো, কাফন-দাফন, জানাজা এবং আত্মীয়-স্বজনের কান্না কিংবা কথাবার্তা ইত্যাদি শুনতে বা অনুভব করতে পারে?

এই প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর তাকে গোসল দেওয়ার সময় এবং কাফন-দাফন করানোর সময় তার আত্মীয়-স্বজনের মুভমেন্ট, তাদের কান্নাকাটি ও কথাবার্তা মৃত ব্যক্তি পুরোপুরি অনুভব করে বা শুনতে পায় এভাবে কোনো হাদিসে বলা হয়নি।

তবে সামগ্রিকভাবে মৃত ব্যক্তির এই জগতের আওয়াজ বা কথাবার্তা শুনতে পাওয়া প্রসঙ্গে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দুটি হাদিসের কথা আমরা জানতে পারি। তার একটি বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু), অপরটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)।

সহিহ বুখারিতে এসেছে, আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় এবং দাফন শেষে তার আত্মীয়-স্বজন ফিরে চলে যায়, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের চলে যাওয়ার সময় পায়ের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পায়।

এই কথা থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ কবরস্থ হওয়ার পর তার আত্মীয়-স্বজনের মুভমেন্ট কিংবা কবর জিয়ারত ইত্যাদি তারা অনুভব করতে পারে। সেটি ঠিক কীভাবে হয়, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

আরও পড়ুন

আল্লাহ তাআলা হয়তো একটা বিশেষ রুহ তাদের দিয়ে শুধু এটুকু অনুভব করার সুযোগ দেন, অথবা কবরে বরজখী জীবনের শাস্তি কিংবা নেয়ামত অনুভব করার সুযোগ হিসেবে আল্লাহ তাআলা তাদের এটি অনুভবের ক্ষমতা দিয়ে থাকেন।

অন্যদিকে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মৃত ব্যক্তির কবরে গিয়ে সালাম পেশ করে বা কবর জিয়ারত করে এবং মৃত ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে লোকটির পরিচিত হয়ে থাকে, তবে মৃত ব্যক্তি অনুভব করতে পারে যে কে তাকে সালাম দিয়েছে।

তখন আল্লাহ তাআলা এক প্রকার রুহ তার মধ্যে ফেরত দেন, যার ফলে সে সেই সালামের জবাব দিতে পারে। জিয়ারতকারী ব্যক্তি যখন সালাম পেশ করে, তখন তার উত্তর বা রিপ্লাই দেওয়ার ক্ষমতা সে লাভ করে।

এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, দাফন সম্পন্ন করার পর কবর জিয়ারত করা, কবরের পাশে গিয়ে সালাম পেশ করা এবং সালামের জবাব দেওয়া—এই বিষয়গুলো মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে এবং এইটুকু অনুভবের শক্তি আল্লাহ তাআলা তাকে দান করেন।

তবে তার আগের যে ধাপটি, অর্থাৎ দাফন করার পূর্ববর্তী সময়গুলোতে সে তার আত্মীয়-স্বজনের কথা ও আচরণ অনুভব করতে পারে কি না সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
‘মাদরাসা শিক্ষকের অপরাধে চুপ থাকেন কেন?’ যে জবাব দিলেন আহমাদুল্লাহ
অপ্রতিমসহ তিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহর স্ট্যাটাস