সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালানো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হটকারি সিদ্ধান্তে হতাশ বিশিষ্টজনরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থলের বেড়াল বেরিয়ে আসার আশঙ্কা থেকে হয়তো এমন কৌশল। অনুমতি নিতে গেলে অভিযানের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টিকে পুর্নবিবেচনার দাবি তাদের।
করোনা দুর্যোগকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর দশা নিয়ে দেশবাসী হতাশ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালের অমানবিক আচরণে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সাধারণ রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। রিজেন্ট হাসপাতাল কিংবা শাহাবুদ্দিন মেডিকেলের কেলেঙ্কারি উন্মোচিত হয় র্যাবের অভিযানের পরই। এর মধ্যে গেল ৫ আগস্ট একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। যাতে বলা হয় সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালানোর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে।
এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযান চালালে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি যেমন, তেমনি হাসপাতালগুলোও যে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে ব্যবসা করে যাচ্ছে সেদিকেও ইঙ্গিত করেছেন স্বাচিপের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সনাল। তিনি বলেন, তথ্য উপাত্তর গোপনীয়তার একটা বিষয় আছে। স্বাথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে গেলে, যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই সময়ের মধ্যে হাসপাতালের এই গোপনীয়তা কতটুকু থাকবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জড়িতদের সামনে আনার যে সম্ভাবনা ছিল, সেটিকে এই সিদ্ধান্ত বাঁধাগ্রস্ত করবে বলে আমি মনে করি। যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকতে পারে যারা মনে করছেন চুনোপুঁটি ধরতে গেলে বড় বড় রুই কাতলাও বের হয়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলে মত দিয়েছেন তারা। বলেছেন, জননিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবা দুটি বিষয় নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এসএ/এসএস




