
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের হার কমলেও ছয় মাসেও বাংলাদেশেতা নিম্নমুখী হচ্ছে না। বরং আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞের। এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
গেল ৮ মার্চ, দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই দ্রুত বাড়তে থাকে এর সংখ্যা। সবশেষ, বুধবার ১৪ হাজার ৬৩৮ টি পরীক্ষা করে করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ২ হাজার ৭৪৭ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯১ জন।
১০৩ তম দেশ হিসেবে শুরু করলেও একে একে সবাইকে পেছনে ফেলে করোনা তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬ তে। অথচ উৎপত্তিস্থল চীন আছে ৩৪ এ। করোনার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড দেশ ইতালিও এখন বাংলাদেশের পেছনে!
এই যখন পরিস্থিতি তখন বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর কার্যক্রমের অবস্থা পুরোই উল্টো। পর্যায়ক্রমে রেড জোনগুলো লকডাউনের কথা বলা হলেও ২৫শে জুলাই রাজধানীর ওয়ারিতে লকডাউন শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনা থেকেই হারিয়ে গেছে! বরং দোকানপাট, মার্কেট, গণ পরিবহনসহ দেশের সবকিছুই এখন স্বাভাবিক।আসছে রোববার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে অফিস করতেও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিও অনেকটা যেন কথার কথায় পরিণত হয়েছে।মাস্ক পরাটা যে বাধ্যতামূলক ইদানীং অনেকেই তা ভুলে যাচ্ছেন। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের হার কমতে থাকলেও ছয় মাস পরও বাংলাদেশে বাড়ছে।এমন অবস্থায় দেশে দ্বিতীয় ধাপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
আইইডিসিআর এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, আমরা যদি এখনও সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে না পারি, তাহলে কিন্তু জনবহুল স্থানগুলোতে হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এই সংক্রমণের হার দেখে খুশি হওয়া কোনও কারণ নেই। এখনই ব্যবস্থা নেয়া না হলে করোনাভাইরাস বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে থেকে যেতে পারে বলে আমি মনে করছি। সরকারকে সতর্ক হতে হবে এবং প্রতিটি রোগীকে করোনা শনাক্ত করে বসে থাকলে চলবে না, তাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে।
অন্যথায়, বাংলাদেশের অবস্থা যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো হতে পারে।
এসএ/ এমকে




