
রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসা-বাড়ি ও দোকান-রেস্টুরেন্টের বর্জ্য অপসারণে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের। মাসিক বেতন ও ভাঙারির টাকার লোভে পড়ে শিশুরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করলেও নির্বিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। প্রতিদিন প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও মানতে নারাজ তারা। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।
যে সময়ে স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কথা, সে সময় তাদের কাঁধে বর্জ্য পরিবহনের গাড়ির বেল্ট। প্রতিদিন সকাল বা বিকেলে বাসা বাড়ির সামনে ‘ময়লা ময়লা’ বলে চিৎকার আর এভাবে গাড়ি টেনে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান দেয় নগরবাসীকে।
বর্জ্য শ্রমিক শিপন নামে এক শিশু জানায়, সকাল ৮টা থেকে দুইটা পর্যন্ত কাজ করি। আমাকে এই কাজের জন্য মাসে চার হাজার টাকা দেওয়া হয়। ময়লা বাসা বাড়ি থেকে নামিয়ে গাড়িতে রাখি। এরপর সেগুলোকে স্পটে রেখে আসি।
যে সময় এসব শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে বা ঘরে খেলনা নিয়ে খেলাধুলা করার কথা; সে সময়টা কাটছে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে। বেতন কম তাই কদরও বেশি। এসব শিশুর শ্রমে-ঘামে নিজেদের সন্তানদের দুধে-ভাতে রাখলেও পরের সন্তানকে বিপজ্জনক কাজে ঠেলে দিতে বিন্দুমাত্র বাধে না নিয়োগকর্তাদের।
আরও পড়ুন :
ফুটপাতে রাত্রিযাপন রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের (ভিডিও)
ভাঙারির সামান্য টাকার লোভে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্য-ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার দায় সিটি করপোরেশনের, এমনটাই বললেন নগরবিদ, স্থপতি ইকবাল হাবিব।
দিনের পর দিন অলিগলি রাজপথে শিশুদের ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ কাজে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হলেও তা জানেন না সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, আপনার কাছে যদি তথ্য থাকে আমাকে দিন। আবর্জনা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে কোনো শ্রমিক নেওয়া যাবে না, তা বলে দেবো।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, যারা এ সকল কাজে শিশুদের যুক্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।
শিশু-কিশোরদের এমন অনিশ্চিত জীবন যাপনে ঠেলে দিয়ে কেবল শিশুদের নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতও নষ্ট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা।
জিএম/এমকে




