ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

তাদের স্বপ্নগুলো কেন বারবার পুড়ে ছাই হয়, জানা যায় না কখনই

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪০ পিএম
ফাইল ছবি

বস্তির আগুনের রহস্যজট যেনো খুলতে চায় না কখনোই। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনগুলোও আলোর মুখ দেখে না। যে আগুনে নিম্ন আয়ের গরিব-দুঃখী মানুষগুলোর স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। বস্তিগুলো থেকে ভেসে আসা লাশের গন্ধেও হুঁশ ফেরে না সংশ্লিষ্ট মহলের। প্রতিটি বস্তির আগুনের পেছনে রহস্য লুকিয়ে থাকার অভিযোগ থাকলেও সেই রহস্য জটও খুলে না কখনও। যদিও বস্তিবাসীরা প্রতিবারই আগুন লাগার পেছনে প্রভাবশালীদের জমি দখলের অভিযোগ করেন। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে তারও কোনও নজির নেই। এসব অভিযোগের স্তুপগুলো কেবল বাতাসে ভেসে বেড়ায়, ঠাঁই পায় না তদন্ত প্রতিবেদনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ‘মহাখালী’, ‘মিরপুর’ ও ‘মোহাম্মদপুরের’ ৩ বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটেছে। এই ৩টি স্থানেরই নাম ‘ম’ আদ্যাক্ষরের। যার ফলে রহস্যজট আরও দৃঢ় হয়েছে। বস্তিতে ‘ম’ টার্গেটে পরিকল্পিত আগুন নয় তো এসব? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে।

তিন আগুনে ফায়ার সার্ভিসের ৩ কমিটি

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন আরটিভি নিউজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী, মোহাম্মাদপুর এবং মিরপুরের বস্তিতে লাগা আগুনের ঘটনায় আমরা পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমরা সাধারণত কিসের কারণে এবং কিভাবে আগুন লেগেছে সেই কারণগুলো খুঁজে বের করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে থাকি। তবে আমাদের এই তদন্ত প্রতিবেদনে কোনও ক্রিমিনাল অফেন্সের বিষয় আনা হয় না। কারণ ক্রিমিনাল অফেন্স খুঁজে বের করার দায়িত্ব অন্য সংস্থার।

ডিজি আরও বলেন, সাধারণত কোনও বস্তিতে আগুন লাগলে অভিযোগ উঠে ‘আগুন পরিকল্পিতভাবে লাগিয়ে’ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্রিমিনাল এ্যাক্টিভিটিস দেখার বিষয় আমাদের না। আমাদের দায়িত্ব হলো, কিভাবে এবং কি কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সেটি বের করা।

দুর্ঘটনার আদলে বস্তিতে আগুন সন্দেহজনক

এই ৩টি বস্তির আগুন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন আরটিভি নিউজকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরপর ৩টি বস্তিতে আগুনের ঘটনায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছে বস্তিগুলোতে ‘সুপরিকল্পিতভাবে’ একের পর এক আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রভাবশালী মহল এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। এসব আগুন বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা হতে পারে। বস্তির জমি দখলমুক্ত করার অন্যতম হাতিয়ার হলো ‘আগুন লাগিয়ে’ দেওয়া। আমি মনে করছি, ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত করে দেখা দরকার। যদি এসব আগুন ইচ্ছকৃতভাবে কেউ লাগিয়ে থাকে তাহলে তাকে দ্রুতই আইনে আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর অভিযোগে আমলে নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন এই মানবাধিকারকর্মী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, বস্তিতে ভয়বহ আগুনের ঘটনা ঘটলেও, যাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তাদের চিহ্নিত করা হয় না। এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত হয় না। আর যদিও তদন্ত হয়, তাহলে দোষীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে দুর্বলতার আশ্রয় নেওয়া হয়।

বস্তির আগুনের তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখার নজির নেই

বস্তির আগুনের তদন্ত প্রতিবেদন কখনও আলোর মুখ দেখার নজির নেই উল্লেখ করে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, আমি এখন পর্যন্ত বস্তির আগুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখার নজির দেখিনি। যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কাউকে দোষী শনাক্ত করা হয়েছে বা তার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। উল্টো আমরা দেখেছি কোনও কোনও বস্তিতে আগুন লাগার পর ওই বস্তির জায়গায় অন্য কোনও স্থাপনা গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠে ক্ষমতাশীন বা প্রভাবশালী মহলের কেউ কেউ।

বস্তিবাসীদের আবাস নিশ্চিত করা জরুরি, না হয় শঙ্কায় পড়বে উন্নয়ন

বস্তিতে বসবাস করা নাগরিকরাও দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতই অধিকার রাখে। সরকারকে এই বস্তিবাসীর আবাসস্থল নিশ্চিত করে করতে হবে। শহরের মধ্যে না হলেও শহরের আশপাশে কোথাও তাদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত স্থান দিতে হবে। এখনই পরিকল্পনা না নিলে শহরে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। বস্তিতে বসবাস করা পোষাক শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, গৃহকর্মীসহ নিম্ন আয়ের লোকজন শ্রমের বিনিময়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তাই তাদের ছোট করে দেখার কিছু নেই। বস্তির এই অসহায় মানুষগুলোকে অবহেলা করা উচিৎ নয়, বরং তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে আগলে রাখা জরুরি।

মহাখালীর ৭ তলা বস্তিতে আগুন, গায়ের কাপড় ছাড়া নেই কিছু আছিয়া পরিবারের

মহাখালী ৭ তলা বস্তিতে আগুন লাগে গত সোমবার দিনগত রাত পৌনে ১২ টার দিকে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। এই আগুনে নিঃস্ব হয়ে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান সাততলা বস্তির ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। বুধবারও (২৫ নভেম্বর) হয়তো তাদেরকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হবে। কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন বস্তিবাসী।

গৃহকর্মী বিধবা আছিয়া বেগম ২ ছেলে, ২ মেয়েকে নিয়ে এই বস্তির ছোট্ট একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন। বুধবার বিকেলে তিনি জানান, ভয়াবহ আগুনে তার ঘরসহ ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির আলম জানান, সাত তলা বস্তির প্রতিটি রুম এবং দোকান অবৈধ। এসব দোকান ও ঘর থেকে প্রতিমাসে ভাড়া, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিল বাবদ কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন স্থানীয় কাউন্সিলর সমর্থক ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ভুক্তভোগীরা মনে করছেন পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছিরের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার ওয়ার্ড সচিব মো. শাহ আলম বলেন, কাউন্সিলর বাসায় বিশ্রামে আছেন। তবে তিনি নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির খোঁজখবর রাখছেন।

মিরপুর বস্তিতে আগুন

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসেও মিরপুরের এই বাউনিয়া বাঁধ পুকুর পাড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ১১ মাসের মাথায় মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দিনগত রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে এখানেই ফের আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনও জানানো হয়নি। এ ঘটনায়ও কেউ হতাহত হয়নি। ৮ বছর যাবত এই বস্তিতে থাকেন রিকশাচালক আসগর বেপারী। তিনি বলেন, দুই-এক বছর পরপরই এই বস্তিতে আগুন লাগে। কিন্তু এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কখনোই জানা যায়নি।

তিনি বলেন, বস্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপ আছে। তারা বিভিন্ন সময় বস্তির ঘর ভাড়া, পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব জড়ান।

মিরপুরের আগুন নিয়ে সংসদ সদস্য যা বললেন

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর বস্তি পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা সাংবাদিকদের বলেছেন, বস্তির ভেতর অনেকগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ ছিল। এসব গ্যারেজে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেয়া হয়েছে। কিভাবে আগুন লেগেছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে আমার মনে হচ্ছে, ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

মোহাম্মদপুর বস্তিতে আগুন

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ১৫ ঘণ্টার মাথায় মোহাম্মদপুরে বাবর রোডের বিহারী পট্টি জহুরি মহল্লার পাশে বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে পুড়ে যায় শতাধিক ঘর। কিন্তু এই ঘটনার সূত্রপাতও উদঘাটন করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই বস্তির অধিকাংশ লোকজন রাজধানীর আদাবর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর এবং হাজারীবাগের বিভিন্ন গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাদের অনেকেই বাসায় ছিলেন না। এ ঘটনার পেছনেও বস্তি দখলের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

২০১৯ সালে ১৪৪ বস্তিতে আগুন

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে প্রায় ১৪৪টি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ২৫ বার বস্তিতে আগুন লাগে। এসব আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে শত কোটি টাকা। তবে চলতি বছরে দেশে কতগুলো বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনও চুড়ান্তভাবে সমন্বয় করেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরও বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নেহাত কম নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেএফ/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একাই পাল্টে দিলেন গ্রামের অর্থনীতির চাকা
বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার কয়েক গ্রামের মানুষ। সময়ের সাথে তাল মেলাতে এসব জিনিসপত্র যখন মুখ থুবড়ে পড়ে ঠিক তখনই তাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায় শাহ্ আলম। প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নিজে। সেই সঙ্গে স্বাবলম্বী করেছেন এলাকাবাসীর মানুষদের। উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্নী, প্রয়াগজানী ও কোপাখীসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুইশ বছরের পুরনো পেশা এই বাঁশ ও বেত শিল্প। এসব গ্রামের মানুষ কুলা, ডালা, পলো ও মাথালসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। কালের পরিক্রমায় এসব পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। বর্নী গ্রামের শাহ্ আলমের পূর্ব বংশ এই বাঁশ ও বেত শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শাহ্ আলম এসএসসি পাশ করার পর দারিদ্র্যতার জন্য আর লেখাপড়া করতে পারেননি। যোগ দেন বাবার পেশায়। চিন্তা করতে থাকেন, এই শিল্পের আধুনিকায়ন করতে না পারলে এ অঞ্চলের শত শত মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তাই কুটির শিল্পের ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহার নিকট থেকে নতুন নতুন ডিজাইন ও তৈরির বিভিন্ন কলাকৌশল শিখেন। তার তৈরি তৈজসপত্র যখন রাজধানীর বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে তখন এ পেশায় যুক্ত গ্রামের অন্যদেরও প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেন। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে এলাকার মানুষদের বাঁশের তৈরি আকর্ষণীয় চায়ের কাপ, ট্রে, বাসকেট, টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প, হ্যাকিং ল্যাম্প, ফলের ঝুঁড়ি, ফুলদানী, লেডিস ব্যাগ, থালাবাসনসহ রুচি সম্মত নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য এখন দেশ পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।  বর্নী গ্রামের রহিজ উদ্দিন বলেন, শাহ্ আলমের কাছ থেকে কাজ শিখে ও বাজারজাত প্রক্রিয়া জেনে আমরা এখন সচ্ছল। ২০১২ সালে শাহ্ আলম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের শিলু আবেদ কারুশিল্প পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে লাভ করেন লোকশিল্প জাদুঘর প্রদত্ত পুরস্কার। এছাড়াও কারুশিল্প বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য ভ্রমণ করেছেন জাপান, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলংকা, ভুটান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ। শাহ্ আলম বলেন, বাঁশ শিল্পে তৈরি পণ্যগুলোর নকশা ও মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কারিগর তৈরি করে এই শিল্পের রপ্তানীমুখি বাজার বিস্তার করা সম্ভব। জিএ
একাই পাল্টে দিলেন গ্রামের অর্থনীতির চাকা
উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ (ভিডিও)
দেশের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের তথ্য বলছে, সম্প্রতি দেশের বায়ুর মান গড় হার থাকছে দেড়শ থেকে দুইশ, পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ বা অস্বাস্থ্যকর বায়ু। গবেষকদের মতে কলকারখানা ইটের ভাটা ও গাড়ির কালো ধোঁয়াই দূষণের প্রধান কারণ। যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি বিপর্যস্ত করে তুলছে জনজীবন।  বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান বায়ু। যার বিশুদ্ধতার মান নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে সরকারের ঊর্ধ্ব মহল। মাথা ব্যথা যেন নেই কারোরই। অথচ দিন দিন এই বায়ু হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। মাপ যন্ত্রের মিটার বলছে ঢাকার বায়ুর মান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বায়ু স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য থেকে ৫০। অথচ বছরের অন্যান্য সময় সূচক একশোর মধ্যে থাকলেও শীতকালে তা ছাড়িয়ে যায় দেড়শও থেকে দুইশ পয়েন্ট।      ঢাবির গবেষক আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে যে বায়ু দূষণ বা বায়ুর মানের যে অবস্থা তা কোনও ভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। বায়ু মান সূচকেই ঢাকা শহর দুইশরও বেশি আছে।     বায়ুর মান আপডেটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওয়েব সাইট আইকিউ এয়ার তথ্য বলছে বিশ্বে সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ এর অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, শীতকালে অন্য দেশের তুলনায় দশ গুণ আর বর্ষার সময় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি।   গবেষকরা বলছেন, নিয়ম না মেনে কলকারখানার পাশাপাশি ইটের ভাটা যানবাহন পরিচালন। সবই বায়ু দূষণের কারণ। বায়ু দূষণ রোধে রয়েছে আইন, রয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশনাও। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউই। আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, সঠিক ভাবে যদি আইনের নির্দেশ পালন করা হয় তাহলে অনেক কমে আসবে বায়ু দূষণ।  তাই দূষণ মুক্ত নির্মল বিশুদ্ধ বায়ুর দেশ গড়তে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাজ করবেন এমনটি প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। জিএম/এসএস
উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ (ভিডিও)
২০২০ এর চাঞ্চল্যকর ৮ অভিযান
মহামারি করোনা ভাইরাস গোটা পৃথিবীকে স্থবির করে দিলেও এটিকেই কেন্দ্র করে কেউ কেউ হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর অপরাধী। যে ভাইরাসটি সাধারণ মানুষের আচরণে পরিবর্তণ ঘটালেও কারো মাঝে ঘটিয়েছে উল্টো ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে থেমে থাকেনি গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমও। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর একাধিক অভিযান আর প্রতারণা-জালিয়াতির কয়েকটি ঘটনা বড় আলোচনার জন্ম দেয় বিদায় হতে যাওয়া বছর-২০২০ এ। করোনাকে কেন্দ্র করে লকডাউনের মধ্যে কয়েক মাস চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি খুনের মত অপরাধ কমে আসার খবর এসেছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে। আগের বছরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাদের বিচারের কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে মহামারির কারণে। তবে এর মধ্যেও প্রকাশ হয়েছে নতুন নতুন চরিত্রের নতুন অপরাধের খবর। দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর আগেই ওয়েস্টিন হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে কয়েকজন তরুণীকে দিয়ে ‘যৌন ব্যবসা’ চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় আসেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) শামীমা নূর পাপিয়া। এরপর মহামারির মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও পরীক্ষার নামে জালিয়াতির ঘটনায় রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি হেলথ কেয়ার ও সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান, সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তার, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা হত্যায় ওসি প্রদীপ এবং একাধিক পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারসহ নানান ঘটনা নিয়ে দেশে তোলপাড় হয়। ১) মেজর সিনহা হত্যার পর কথিত ‘বন্ধুকযুদ্ধ/ক্রসফায়ারে’ ভাটা: প্রতিবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে কথিত ‘ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা থাকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চলতি বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা হঠাৎ কমে আসার বিষয়টি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়। ওই ঘটনায় সিনহার বোনের দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে র্যাকব। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ ১৫ জনকে সেখানে আসামি করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ারে’ যেখানে ১৮৪ জনের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে এসেছে, সেখানে অগাস্ট মাসে ঘটেছে মাত্র একটি ঘটনা। সেপ্টেম্বরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কারও মৃত্যু হয়নি। অক্টোবর আর নভেম্বরে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।  ২) পুত্রকাণ্ডে বেকায়দায় দাপুটে হাজী সেলিম: নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় ২০২০ সালে নতুন করে আলোচনায় আসেন পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। গত ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ। পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেইনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র্যা ব। আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে। ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করার কথা জানায় র্যা ব। পরে ইরফানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে তাকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে হাজী সেলিমের দখলে থাকা পুরান ঢাকার ও আশপাশের বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালানো হচ্ছে। একইভাবে দুদকও হাজী সেলিমের অবৈধ সম্পতির খোঁজে নেমেছে। ৩) পাপিয়ার পাপ নামা: নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে ঢাকা ও নরসিংদীতে পাপিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানানো হয়। ওই সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটি টাকার উপরে। গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে জাল নোটের ১টি এবং অস্ত্র ও মাদক আইনে ২টি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। আর মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরো ১টি মামলা দায়ের করে। এরপর দুদকও পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে। ৪ অগাস্ট পাপিয়া ও তার স্বামীর নামে ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে উল্লেখ করে মামলা করে দুদক। এরইমধ্যে অস্ত্র মামলায় পাপিয়া ও সুমনের ২০ বছরের সাজার রায় হয়েছে। ৪) কোভিড-১৯ মেডিকেল সনদ জালিয়াতি: করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই ভুয়া কোভিড-১৯ সনদ দেয়া এবং চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েন রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্তাব্যক্তিরা। বাতিল করা হয় ২টি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাস চিকিৎসা ও পরীক্ষার অনুমোদন। লাইসেন্স না থাকার পরও ‘কোভিড ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল হিসেবে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও মামলা করে দুদক। জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ এবং জেকেজির চেয়ারম্যান জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনা শারমিন হুসাইন ও তার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরী। মার্চে করোনাভাইরাসরে প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নেয় জেকেজি। কিন্তু পরে জানা যায়, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদ দিচ্ছিল তারা। এসব অভিযোগে ২২ জুন জেকেজির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তর করা হয় আরিফুল ও তার স্ত্রী ডা. সাবরিনাকে। এরপর করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দিয়ে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আরও বেশি। বিনামূল্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল তারা। কিন্তু তারা নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল এবং সরকারের কাছে বিল নেওয়ার পর রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নিচ্ছিল। এসব অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে ৬, ৭ ও ৮ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেয় র্যাব। সে সময় ৮ জনকে আটক করা হয়। ওই অভিযানের গা-ঢাকা দেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, যিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অনেক সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছিলো। এক পর্যায়ে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে পিস্তলসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে একর পর এক আসতে থাকে প্রতারণা অভিযোগ। এর মধ্যেই অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে পুলিশের করা এক মামলায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ৫) মাস্ক কেলেঙ্কারি: দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত মার্চে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০ লাখ মাস্ক সরবরাহ করতে জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে কার্যাদেশ দিয়েছিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সে সময় এন-৯৫ মাস্কের বাক্সে সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া গেলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসাকর্মীদের ‘মৃত্যুর ঝুঁকিতে’ ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে জেএমআই গ্রুপের এমডি মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার পর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালতে জামিন পান। ৬) সাহাবউদ্দিন মেডিকেলে অভিযান: রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতি উন্মোচনের পর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেওয়াসহ নানা অনিয়ম পেয়ে ১৯ জুলাই গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেলে যায় র‌্যাব। সে সময় বলা হয়, অনুমোদন না থাকলেও করোনাভাইরাসের র্যানপিড টেস্ট করছিল সাহাবউদ্দিন মেডিকেল। আবার পরীক্ষা ছাড়াই ‘ভুয়া সনদ’ দিচ্ছিল। করোনাভাইরাস নেগেটিভ রোগীকে পজিটিভ দেখিয়ে ভর্তি করা ছাড়াও ভিন্ন ল্যাব থেকে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের প্যাডে প্রতিবেদন দিচ্ছিল তারা।  লাইসেন্সের মেয়াদ ১ বছর আগে উত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন না করেই কাজ চালিয়ে আসছিল ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযানে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে ১০ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী ও ওষুধ পাওয়া যায়। ওই অভিযানের পর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাতকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সল আল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়। ৭) ক্যাসিনোকাণ্ডে দুই ভাই এনু-রুপন গ্রেপ্তার: গত ১৩ জানুয়ারি ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা গেণ্ডারিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় একটি ১০ তলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ওই বাসার টয়লেটের ওপরে ফাঁকা অংশে লুকিয়েছিলেন। পুরান ঢাকার এ দু’ভাই জাল পাসপোর্টে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ৮) নবাব পরিবারের সন্তান পরিচয়ে প্রতারণা: গত ২৮ অক্টোবর নবাব পরিবারের সন্তান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে নবাব খাজা আলী হাসান আসকারীকে (৪৮) পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুপু পরিচয় দিতেন তিনি। আরও বলতেন, দুবাইয়ে তার গোল্ডের কারখানা রয়েছে। বাবা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, থাকেন নিউইয়র্কে। কেএফ/এমকে
২০২০ এর চাঞ্চল্যকর ৮ অভিযান
হাতিয়ায় জলবায়ু প্রকল্প: নামেই থ্রি-এফ মডেল পুকুর, বাস্তবে নেই
বনবিভাগের জায়গায় সবুজ বেস্টনির পরিবর্তে তৈরি করা হয়েছে থ্রি-এফ মডেল পুকুর। যেখানে থাকার কথা পাড়ে বিভিন্ন ফল ফলাদির গাছ, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষের অপরূপ দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যের চিহ্ন কোথাও নেই। বনের পাশে বসবাস করা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বনের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুড়িরচর ও জাহাজমারা ইউনিয়নে বনবিভাগের জায়গায় একশত পুকুর খনন করা হলেও এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উদাসীনতা ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি এখন উপকারভোগীদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইউএনডিপির আর্থিক সহযোগিতায় উপকূলীয় বনায়ন ও পুনঃবনায়নে কমিউনিটি ভিত্তিক অভিযোজন (আইসিবিএ-এআর) নামক প্রকল্পটি ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতি হেক্টর ভূমিতে ৫টি পুকুর খনন করা হযেছে। এর মাধ্যমে নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলায় একশত ও ভোলা জেলার তজমুদ্দিন উপজেলায় ৪০টি পুকুর খনন করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল, জীবিকার বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বনের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে পুকুর তৈরি করে সেখানে মাছচাষ ও পুকুরপাড়ে শাক-সবজি চাষ করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। যা জলবায়ুজনিত বিপদাপন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন করবে। এই প্রকল্পের একটি বিশেষ মডেল হলো ‘বনজ, ফলদ, মৎস্য (থ্রি-এফ) মডেল’। প্রতিটি মডেল বা পুকুরের দৈর্ঘ্যে ২৫২ ফুট এবং প্রস্থে ৪৯ ফুট। পুকুর হবে ৮ ফুট গভীর ও পাড়ের উচ্চতা হবে ৮ ফুট। প্রতিটি পুকুর খননের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৮৯ হাজার টাকা করে। মডেলটি ম্যানগ্রোভ বনের মাঝখানে পরিত্যক্ত বনভূমিতে নির্মাণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম মানা হয়নি অনেকাংশে। কিছু কিছু জায়গায় বন কেটে পুকুর খনন করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল এলাকার বেড়ির বাইরে বনবিভাগের সাগরিয়া রেঞ্জের চর আলিম বিটের জায়গায় বাগানের মধ্যে প্রথমে ১০টি পরে বাগানের বাইরে দুই ভাগে ৫৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। যা পরে এক একটি পুকুর এক একটি ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হয় এর সুবিধা ভোগ করার জন্য।  বাগানের বাইরের ৫৫টি থ্রি-এফ মডেল পুকুরের একেবারে পূর্বপাশে অবস্থিত ১৫ নম্বর পুকুরটির। কাগজে কলমে থ্রি-এফ মডেল বলা হলেও বাস্তবে ফল-ফলাদি, মাছ ও গাছের কোনো অস্তিত্ব নেই এই পুকুরে। জোয়ারের পানিতে ভেঙে সমতলের সাথে মিশে গেছে এর তিনটি পাড়, পুকুরে নেই পানি। এই মডেল পুকুরের মালিক বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বড়দেইল গ্রামের আলাউদ্দিন মাঝি (৩৫)। জোয়ারের পানিতে পাড় ভেঙে একই অবস্থা বাগানের বাইরের ৫৫টি পুকুরের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ১৫টি পুকুরের।  এছাড়া অন্য ৪০টি পুকুর খনন করা হয়েছে বাগানের বাইরে বনবিভাগের গেজেটভুক্ত জায়গায়। এই জায়গায় উপকূল রক্ষায় সবুজ বেস্টনি তৈরি করার কথা থাকলেও আরও ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে থ্রি-এফ মডেল পুকুর খনন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে এর বিপরীতচিত্র। এসব পুকুর সুবিধাভোগীদের দেওয়া হলেও সঠিক তদারকি ও সঠিক পরিকল্পনা না থাকার কারণে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চরআলিম বিটের বাগানের বাইরে অবস্থিত ৫৫ নম্বর থ্রি-এফ মডেল পুকুরের মালিক মহিন উদ্দিন (৩০) জানান, প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী পুকুরের পাড় সমতল থেকে ৮ ফুট উচ্চতা করার কথা। কিন্তু বনবিভাগ মাত্র ৪-৫ ফুট উচ্চতায় পাড় করে দায়সারা কাজ করার ফলে জোয়ারের পানিতে অধিকাংশ পুকুরের এখন বেহাল দশা। অন্যদিকে মহিন উদ্দিন ও অন্যান্য উপকারভোগীরা নিজ শ্রমে পুকুরপাড় তৈরি করে নিলে খরচ দেওয়ার কথা দিলেও বাস্তবে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।      পূর্ব বড়দেইল গ্রামের শাহজাহানের ছেলে দিলদার উদ্দিন (৩০) এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এসব পুকুর খনন করার পর বিভিন্ন দপ্তর থেকে উপকারভোগীদের মাছের পোনা, গাছের চারা ও বীজ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম বছর সবাই আন্তরিক থাকলেও পরে আর খোঁজ খবর নেয়নি।  প্রকল্প অনুযায়ী বনের মধ্যে পরিত্যক্ত জায়গায় এই একশতটি পুকুর খননের কথা থাকলেও হাতিয়ায় অধিকাংশ পুকুর খনন করা হয়েছে বনের মধ্যে। কিছু কিছু খনন করা হয়েছে বন কেটে। এর মধ্যে ফল-ফলাদির জন্য কৃষিবিভাগ, বনায়নের জন্য বনবিভাগ ও মাছ চাষের জন্য মৎস্যবিভাগ বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু তাতেও ছিল সমন্বয়হীনতা।  হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, বনবিভাগ ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ কিতরণ করা হয়েছে। এখন কেউ যদি সঠিক ভাবে তা না লাগিয়ে থাকেন আমাদের কিছুই করার নেই। একইভাবে দায়সাড়া উত্তর দেন বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন।  এই প্রকল্পের ইউএনডিপির কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, কৃষি, মৎস্য ও বনবিভাগ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আমরা শুধু সরকারের এসব বিভাগের মধ্যে সমন্বয়টা করে থাকি। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছু বলেতে রাজি হননি। প্রকল্পটি তদারকি করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটি রয়েছে। এই কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এই প্রকল্প সম্পর্কে আলাপ কালে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনে জানান, থ্রি- এফ মডেল পুকুর এই প্রকল্পটি সম্পর্কে অনেক আলোচনা-সমালোচনা আমি আসার পর থেকে শুনতেছি। আমি একটি মিটিং কল করেছি। মিটিংয়ে এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সকলকে উপস্থিত থাকতে বলেছি। প্রয়োজনে সাংবাদিকরা মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেন। পি  
হাতিয়ায় জলবায়ু প্রকল্প: নামেই থ্রি-এফ মডেল পুকুর, বাস্তবে নেই
‘চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প বাজার গড়ে তুলতে হবে’ (ভিডিও)
চালের আমদানি শুল্ক সাড়ে ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এরপরও দাম নাগালে আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ভোক্তারা। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাব মনে করে, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।  আমনের ভরা মৌসুমে যখন চালের দাম কমার কথা, তখন দেশের সব বাজারে বাড়ছে প্রধান খাদ্য পণ্যটির দাম। বন্যার কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় মজুদও কমেছে।  সরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা টিসিবির হিসেবে বছরের ব্যবধানে ৪৭ শতাংশ বেড়ে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মাঝারি মানের চাল ২৫ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ১৯ শতাংশ বেড়ে মিনিকেট ও নাজিরশাইলের দাম এখন ৬২ থেকে ৬৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে চালের অভাব নেই টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়ার জন্য দায়ী মিল মালিকদের সিন্ডিকেট। এ অবস্থায় দামের লাগাম টানতে সরকার চালের আমদানি শুল্ক সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।    ব্যবসায়ীরা বলেন, অর্ডার করলে একদিন পরে চাল পাওয়া যায়। সরকার যে সিদ্ধান্ত এখন নিয়েছে, এটি আর দুই মাস আগে নেওয়ার দরকার ছিল। তাহলে দাম বাড়তো না। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে।  কম খরচে আমদানির সুযোগ পেলেও বাজারে ন্যায্য দামে চাল পাওয়া যাবে কিনা, ক্রেতাদের মনে সে সংশয় দূর হচ্ছে না।  ক্রেতারা বলেন, এ সুযোগ যেনো সাধারণ মানুষ পায়। বাংলাদেশে সমস্ত সেক্টরে সিস্টেম আছে সব আটকা-আটকি সিস্টেম।  কিছু ব্যবসায়ীরা এরকম সিস্টেম করে থাকে।   আমদানিতে সাময়িক সঙ্কট দূর হতে পারে। তবে ক্যাব বলছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।   ক্যাব এর সহ-সভাপতি এস নাজের হোসাইন বলেন, টিসিবি ও ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি যদি স্বাভাবিক রাখা যায়, তাহলে কিন্তু বিকল্প বাজার তৈরি হয়। বিকল্প বাজার তৈরি না হলে ব্যবসায়ীদের ওপর যদি সম্পূর্ণ বাজার ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে তারা এভাবে ভোগাবে।  বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, করোনাকালে চালের পাশাপাশি নিত্য পণ্যের ঘাটতি মেটাতে উৎপাদন যেমন বাড়াতে হবে তেমনি কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও জরুরি।  জিএম/এমকে    
‘চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প বাজার গড়ে তুলতে হবে’ (ভিডিও)
আরও পড়ুন
ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে নিহত ২
রাজধানীতে গাড়িচাপায় এসআই নিহত
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩