ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সত্য কোনটি, তামিমার ‘তালাক নোটিশ’ নাকি ‘পাসপোর্ট’? 

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:২৯ পিএম
ফাইল ছবি

সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটার নাসিরের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মী যে কাগজ দিয়েছেন তাতে দেখা যায় তিনি ২০১৬ সালে রাকিব হাসানকে ‘স্ত্রী কর্তৃক তালাক নোটিশ’ দিয়েছেন। অন্যদিকে তার পাসপোর্টে দেখা যায় ২০১৮ সালে রাকিব হাসানকে স্বামী ‘উল্লেখ’ করে ‘পাসপোর্ট’ ইস্যু করেছেন তামিমা।

সংবাদ সম্মেলনে দেয়া ‘স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাকের নোটিশ:

আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হাতে একটি কাগজ দিয়েছেন তামিমা তাম্মী, ক্রিকেটার নাসির এবং তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনওয়ার। যে কাগজের শিরোনাম ‘স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাকে নোটিশ’। যেটিতে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর তামিমা সুলতানা তাম্মী তার স্বামী রাকিব হাসানকে তালাক প্রদানের নোটিশ দিয়েছেন। তবে রাকিব এটি পুরোপুরি অস্বীকার করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন : আমি সহজ সরল মানুষ শাশুড়ির মনে কি ছিল বুঝি নাই: তামিমার স্বামী

মামলার ডকেটে সংযুক্ত তামিমার ‘পাসপোর্ট’ যা বলেছে:

আদালতে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলার ডকেটে একটি নথী সংযুক্ত করেছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। যেটিতে তামিমার স্বামীর নাম উল্লেখ রয়েছে ‘রাকিব হাসান’। একই সঙ্গে ইমার্জেন্সি কন্ট্রাকেও স্বামী রাকিব হাসানের নাম উল্লেখ রয়েছে।

পাসপোর্টটি প্রদান করার তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে- ৪ মার্চ ২০১৮ সাল। যেটির মেয়াদোত্তীর্ণ ৩ মার্চ ২০২৩ সালের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

পাসপোর্টের ধরণ বলছে, এটি রি-ইস্যু করা। পাসপোর্টটির বর্তমান নম্বর বিআর দিয়ে শুরু হয়ে ৫৩ ডিজিট উল্লেখ করে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে তার পুরাতন পাসপোর্টটি বিএ দিয়ে শুরু হয়ে ১১ ডিজিট উল্লেখ করে শেষ হয়েছে।

এই পাসপোর্ট ও তালাক নোটিশের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেও দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : শরিয়া মতেই আমাদের বিয়ে হয়েছে: নাসিরের স্ত্রী তামিমা (ভিডিও)

রাকিবের আইনজীবী ইশরাত হাসান যা বললেন:

এ বিষয়ে রাকিব হাসানের আইনজীবী ইশারত হাসান আরটিভি নিউজকে বলেন, তামিমা সুলতানা আমার মক্কেল রাকিবের স্ত্রী হয়েও তাকে তালাক না দিয়ে ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন। যা আইনসিদ্ধ নয়। এখানে রাকিব হাসান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং তার মানহানি হয়েছে।

এ সংক্রান্তে পাসপোর্টের কাপিসহ অন্যান্য নথী আমরা মামলার ডকেটে সংযুক্ত করেছি। এসব ডকুমেন্ট আদালত বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা পূর্বক নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্ত করে আগামি ৩০ মার্চ প্রদিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মামলটিতে যা উল্লেখ রয়েছে:

২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় সৌদিয়া এয়ার লাইন্সের কেবিন ক্রু। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে জানেন। মামলায় আরও বলা হয়, তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার শিশু কন্যা মানসিক বিপর্যস্ত। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে।

আরও পড়ুন : আমার বউয়ের দিকে কেউ আঙুল তুলুক, তা চাই না: নাসির

নাসির ও তামিমার আইনজীবী ব্যরিস্টার আসিফ যা বললেন:

আরটিভি নিউজের হাতে আসা এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তালাকের নোটিশ ও পাসপোর্টের স্থির চিত্রের বিষয়ে তামিমা সুলতানা ও নাসিরের আইনজীবী ব্যরিস্টার আসিফ বিন আনওয়ার আরটিভি নিউজকে বলেন, যে পাসপোর্টের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমি দেখিনি। ওই পাসপোর্টটি সঠিক কিনা তা’ও আমি জানি না। আমাকে জানতে হবে, পাসপোর্টটা ঠিক আছে কিনা। রাকিবের আইনজীবী পাসপোর্টের কপি মামলার ডকেটে সংযুক্ত করলে এটা ওনার ব্যাপার। এই পাসপোর্টে দেখার পর আমি এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে মন্তব্য করতে পারবো। এই বিষয়ে আমার ক্লাইন্টকে ইন্সট্রাকশন দিতে হবে, তার কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে হবে। এটি যদি উনি (রাবিকের আইনজীবী) আদালতে দাখিল করে থাকেন তাহলে, আদালতে আমার মক্কেলের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য পেশ করা দরকার, আমরা তা নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে প্রদান করবো।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর যা বললো:

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) সেলিনা বানু আরটিভি নিউজকে বলেন, পাসপোর্টে স্বামীর নামের স্থান যার নাম উল্লেখ রয়েছে, ডকুমেন্ট বলছে ওই ব্যক্তিই পাসপোর্টধারী নারীর স্বামী। ডিভোর্স হয়ে থাকলে তাকে বৈবাহিক অবস্থা হালনাগাদ করে তালাকপ্রাপ্ত উল্লেখ করা দরকার ছিলো। তবে এটি যদি রি-ইস্যু করা পাসপোর্ট হয়ে থাকে। তাহলে হতেও পারে ভুলে এটি কারেকশন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন নাসির ও তামিমা:

ক্রিকেটার নাসির জানান, দীর্ঘ পরিচয়ের পর সব জেনেশুনেই তামিমাকে বিয়ে করেছেন।

তিনি বলেন, আমি তামিমাকে চিনি প্রায় চার-সাড়ে চার বছর ধরে। সে আমার খুব ভালো একটা বন্ধু ছিলো। তারপর আমাদের প্রেম এবং বিয়ে করি। আমরা আইনগত ভাবে ইসলামী শরিয়াহ মেনে সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করেছি। আমাদের মনে যদি কিছু থাকতো এভাবে ওপেনলি বিয়ে করতাম না। আমরা সবাইকে জানিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করেছি। তামিমার আগে বিয়ে হয়েছিল, বাচ্চা আছে, ডিভোর্স হয়েছে। সব জেনেই তাকে বিয়ে করেছি। ডিভোর্স পেপার দেখেই বিয়ে করেছি। রাকিব সাহেব যেসব বলেছেন সেসব ঠিক না। আগে তামিমা উনার ছিল এখন তামিমা আমার। সে যেই হোক আমার ওয়াইফকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে কাউকেই ছাড় দেব না এবং সেটা আইনের মাধ্যমে। আমরা যা করেছি সবাইকে জানিয়ে করেছি। লুকোচুরি তো করিনি। সে (রাকিব) সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে যেসব করছে এসব ঠিক হয়নি। আমার বেলায় এমন হলে আমি সোজা থানায় গিয়ে মামলা করতাম।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে তামিমা বলেছেন, কারও প্ররোচনা নয়, আইন ও শরিয়া সম্মতভাবে আমাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এই বিয়ে নিয়ে কারও প্ররোচনায় সমালোচনা করবেন না।

আরও পড়ুন : ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে দুই বছর শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য হন ছাত্রী

উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। গেল বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হলুদ সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠে স্বামীকে রাকিবকে তালাক না দিয়েই ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে বিয়ে পিড়িতে বসেন স্ত্রী তামিমা শবনম।

গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাইসা ইসলাম বাবুনি নামক এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যেখানে তামিমার স্বামী রাকিবের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, এখনও তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের ঘরে রয়েছে ৮ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তানও। তালাক না দিয়ে নতুন বিয়ে করায় তামিমার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন রাকিব।

কেএফ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
বছরটি মহামারির, তাই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ। এ বছর দেশ হারিয়েছে অনেক গুণিজন। জাতী হারিয়েছে তার অকৃত্রিম অভিভাবকদের। বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই করোনায় কাছে হার মেনেছেন। অল্প সময়ে এত বড় শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তথ্যমতে, চলতি বছরের শেষে ২৭ ডিসেম্বর মারা যান আওয়ামী লীগের আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী। একইমাসের ২৫ তারিখ করোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রাণ হারান একুশে পদকপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।  গত ১৫ নভেম্বর নিউমোনিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুতোর ওপাড়ে চলে যান আগুনপাখির শ্রষ্টা, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ অক্টোবর ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন নাট্যজন ইনামুল হক।  ৪ জুলাই করোনা কেড়ে নেয় ‌‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানের গীতিকার ফজল-এ খোদাকে। একই মাসের ২৩ তারিখ করোনায় মারা যান গণসংগীতশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর।  ২৫ মে মানুষ হতে চেয়ে করোনা আকাশের তারা হয়ে গেলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার করোনায় মারা যান ১০ এপ্রিল। একই মাসের ১১ তারিখ অকালে থেমে যায় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মিতা হকের কণ্ঠ।  সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী করোনায় অনন্ত লোকের পথ ধরেন ১৭ এপ্রিল।  ১৬ মার্চ জগতের মায়া ছেড়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শক্তিশালী অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক এ টি এম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ২০ ফেব্রুয়ারি।  এ ছাড়া বছরের শুরুতে ৩ জানুয়ারি করোনা কেড়ে নেয় একুশে পদকজয়ী লেখিকা রাবেয়া খাতুনকে।  এত অল্প সময়ে তৈরি হওয়া এই বিশাল শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আরএ/টিআই
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেওয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে মাঝপথেই প্রশ্ন উঠেছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও বিএনপি নেতারা সংলাপে না যাওয়ার পক্ষে। আগের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আলোচনায় না বাসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিবি ও বাসদ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপে যেয়েই সবার প্রস্তাব তুলে ধরা উচিত। কারণ এই আলোচনার ভিত্তিতেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।   আইন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গত দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। এবারও কমিশন গঠনে নিবন্ধিত দলগুলোর সাথে সংলাপে বসছেন তিনি। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯টি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সংলাপে অংশ নেয়নি। দাওয়াত পাওয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রতন বলেন, কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেটা যেমন দেশবাসী দেখে নাই, আমাদের কাছেও পরিষ্কার হয় নাই। আমাদের দাবিটা কেন গ্রহণযোগ্য হলো না, সে বিষয় নিয়েও কিন্তু কোনও কথা আমরা শুনতে পাইনি। সেই কারণে আমরা এবার বলেছি, একই কথা বলার জন্য আমাদের যাওয়াটা আমরা ঠিক মনে করি না। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে তথাকথিত পরামর্শের জন্য না ডেকে তিনি যদি সংসদ বরাবর চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিতেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যে তোমরা আইন প্রণয়ন করে আমার কাছে পাঠাও সাক্ষর করার জন্য। তাহলে এক মাসের ভেতরে আইন হয়ে যেত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতারা জানান, তারা এখনও সংলাপের আমন্ত্রণ পাননি। তবে এই আলোচনায় না যাওয়ার পক্ষে বেশিরভাগ নেতা। বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যদি নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের চেয়ে ভালো কিছু হবে না। সেজন্য আমরা বলেছি- আমরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকব না। অর্থাৎ এই আলোচনায় বিএনপি যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আগের সংলাপের সঙ্গে এবারেরটা মেলানো ঠিক হবে না। কারণ আলোচনার টেবিলে যে কোনও সমস্যারই সমাধান হতে পারে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এখনতো রাষ্ট্রপতি ডেকেছেন আমাদের আগামী যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে সেই বিষয়ে। এ ব্যাপারে তো এখনও ফয়সালা হয় নাই। সেটা তো আলোচনার মাধ্যমে হবে। তার জন্যই তো ডাকা। এর জন্য আট বছর আগে সুপারিশ কে দিয়েছিল, আমার মনে হয় এটা কোনও যৌক্তিক কথা না।    নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শেষে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন রাষ্ট্রপতি। যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  এনএইচ/এসএস
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কার্গো জাহাজ চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। দ্রুতই দেশটির সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তথ্যমতে, মালদ্বীপের চাহিদার শতভাগ পণ্যই আমদামি করে চলতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেশটিতে বাংলাদেশের সবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে। পাশিপাশি গার্মেন্ট ও বিভিন্ন শুকনো খাবারেরও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু মালদ্বীপের সঙ্গে সরাসরি কার্গো জাহাজ না থাকায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না দেশটিতে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা।  তাই বাধ্য হয়ে ভারত ও শ্রীলংকার সমুদ্র বন্দর থেকে অধিকাংশ কার্গো জাহাজে করে আনতে হয় পণ্য। এতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনতে হয় আমদানিকারকদের। দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জানান, মালদ্বীপ সরকারের পতাকাবাহী জাহাজ মাত্র একটি। তাদের পক্ষে এই জাহাজ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভাব না। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যে খাদ্যদ্রব্য আবদানি করে তা পাশ্ববর্তি দেশের তুলনায় অনেক কম। তাই আমদানি বাড়াতে চাই তাহলে আমাদেরকে জাহাজ চালুর চেষ্টা করতে হবে।  এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কয়েকটি জাহাজ কোম্পানীর সঙ্গে কথা চলছে বলেও জানান তিনি। আরএ/টিআই
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বাস রুট রেশনালাইজেশনের ‘ঢাকা নগর পরিবহনের’ নতুন বাধা একই রুটে চলাচলকারী অন্য পরিবহনের বাসগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একই রুটে যাত্রী পেতে মালঞ্চ ও প্রজাপতি পরিবহনের বাসগুলো আগের মতোই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পরিবহন বিশেষজ্ঞের মতে, শক্তিশালী আলাদা মনিটরিং প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুললে সুফল আসবে না।  রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বেশি যাত্রী পেতে ঢাকা নগর পরিবহনের বাসকে চাপ দিয়ে আগে চলে যায় মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস।  ফাঁকা নগর পরিবহনের চালক-হেলপাররা জানান, বাসগুলোর আগে যাওয়ার এবং যাত্রীদের যেখানে-সেখানে নামানোর প্রবণতা নানা সমস্যার কারণ।  এমনই একজন বলেন, যাত্রীরা কাউন্টারে না নেমে স্টপেজেই নামতে চান। এখানেই তাদের নামতে হবে। এই সমস্যাটা আমাদের সবচেয়ে বেশি।  অপর একজন বলেন, রজনীগন্ধা সার্ভিস, মালঞ্চ সার্ভিস-এরকম লোকাল কিছু সার্ভিস আমাদের সমস্যা করছে। অভিযুক্ত বাসের কর্মীরা জানান, রুট পারমিট ঠিক করে তাদেরকেও ঢাকা পরিবহনে যুক্ত করলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে। ঝামেলা ছাড়াই গন্তব্যে যেতে পারায় ঢাকা পরিবহনকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীদের অনেকে।  এক যাত্রী বলেন, এই সিস্টেমটা আমার কাছে অবশ্যই ভালো মনে হয়। কাউন্টারে কাউন্টারে শুধু থামানো হয়। সবাই টিকিট কেটে ওঠে। বসার কোনো ঝামেলা নেই। অপর এক যাত্রী বলেন, দুই মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের এমন একটা সার্ভিস দিয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, উদ্যোগ ভালো, তবে টেকসই করতে আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এখানে আমি সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখি, এটাকে নিবিড়ভাবে মনিটরিং ও পরিচর্যা করার প্রতিষ্ঠান নেই। আরম্ভটা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু টেকসইয়ের জন্য যথেষ্ট আয়োজন করতে হবে। রাজধানীর ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নতুন এই ঢাকা নগর পরিবহন শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। যাত্রী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধীরে ধীরে যদি অন্য পরিবহনগুলোকেও এর আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে গণপরিবহন ও রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে। এনএইচ/ এসএস
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে যেমনটা দিয়েছে গতি, তেমনি দিয়েছে স্বস্তিও। তবে স্বস্তির বাইরে অস্বস্তির ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। হোক সেটি বড় বা ছোট কোনও ঘটনা, তাতেই অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে ঘর থেকে শুরু করে দেশ কিংবা দেশের বাইরেও। তৈরি হচ্ছে জাতি-ধর্ম আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, নষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। শেষ হতে যাওয়া চলতি বছরের আলোচিত এমন কিছু ঘটনাই তুলে ধরা হলো।  প্রযুক্তির আশীর্বাদে ব্যস্ত জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কর্মজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই যেন দেখে ফেলা যায় এক নিমেষেই। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত যোগাযোগের এই মাধ্যম কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হুমকির কারণও হয়ে উঠছে বেশ। গেল অক্টোবরে শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মন্দিরে হামলার ঘটনা বছরের শেষ দিকটাতে আলোচনার ঝড় ওঠে দেশ ও দেশের বাইরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে মুহূর্তে সেটি ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ধরা পড়ে ঘটনার মূলহোতা। এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে কিছু মহল। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্নভাবে ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে চলতি বছরের ৭ মার্চ আটক করে র‌্যাব। এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল থেকে, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে আটক করে পুলিশ। মাদানির রেশ কাটতে না কাটতেই হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে নানা কাণ্ড। গেল ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের এক হোটেল থেকে নারীসহ আটক করা হয় মামনুনুলকে। পরে সেটি ভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজত কর্মীরা। ঘটনার প্রায় মাসখানেক পর ৩০ এপ্রিল মামুনুলের বিরুদ্ধে ওই নারী ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এভাবে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন নানা ফায়দা আদায় করে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। প্রশাসন এসব বিষয়ে কঠোর থাকার কথা জানালেও সাধারণ মানুষের দাবি স্থায়ী কোনও সমাধানের। এনএইচ/এসএস 
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
আরও পড়ুন
পাসপোর্ট করতে নতুন নিয়ম চালু
স্ত্রী আমার, গর্ভের সন্তান কার?
সাংবাদিকের ওপর চড়াও নাসিরের সাঙ্গপাঙ্গ, দেখে নেওয়ার হুমকি
তামিমা গর্ভবতী, সন্তানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে