ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাগ্নের চাপাচাপিতে মামাও অস্বাভাবিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন!

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২১, ০১:৩৩ পিএম
আরটিভি নিউজের নিজস্ব ছবি

রাজধানীর কলাবাগানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিলো, সে ঘটনার পর থেকেই দেশে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি বা বিকৃত যৌনাচারের ভয়াবহ দিকটি উঠে আসে। সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির ভয়াবহতা দেশে আড়ালে আবডালে কতোটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা আঁচ করা যায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার বিস্তারিত জানলে।

যে ঘটনার সূত্রপাত প্রেম দিয়ে। ওই প্রেমের প্রেমিক ফাহাদ হোসেন সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে আসক্ত। যে তার প্রেমিকাকে ব্লাকমেইলিং করে মামার সয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করে। গোপনে ধারণ করা অবৈধ সম্পর্কের ভিডিও তার এই নোংরামির হাতিয়ার। সুদূর কানাডায় অধ্যয়নরত এই ভাগ্নে তার মামার সঙ্গে নিজ প্রেমিকার শারীরিক সম্পর্কের লাইভ ভিডিও দেখে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে মেতে উঠতো। ভাগ্নের চাপাচাপিতে মামাও এই অস্বাভাবিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও ভাগ্নে ফাহাদের তুলনায় বয়স কম হওয়ায় ছোটবেলায় ভাগ্নের দ্বারাই মলেস্টিংয়ের শিকার হয়েছিলেন মামা সিফাত।

কেবল তা’ই নয় কানাডায় থাকা ওই প্রেমিক দেশে অবস্থানরত তার চাচাতো ভাই এবং বন্ধুর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে লাইভ ভিডিও করতে প্রেমিকাকে চাপাচাপি করে যাচ্ছিলো। যে কারণে বাধ্য হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন সেই প্রেমিকা। এপরই অভিযান চালিয়ে ওই প্রেমিকের মামা সিফাতকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে ওই প্রেমিকা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) বলেন, ‘আমার বয়স তখন ১৩ বছর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আমার জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন বাসায় উঠেছি। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন বাবা-মা আমার বিয়ের জন্য একটি ছেলে ঠিক করে রেখেছিলেন। এতো অল্প বয়সে সিদ্ধান্ত নেই আমি ওই ছেলেকে বিয়ে করবো না। কিন্তু বাবা-মা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে পল্লবী থানা এলাকার ভাড়া বাসায় আমি নিঃসঙ্গ হয়ে যেতাম। তাই গল্প করার জন্য পাশের ফ্ল্যাটে যেতাম। ওই ফ্ল্যাটে একজন আপু থাকতেন। ওনার দূরসম্পর্কের খালাত ভাই ফাহাদ তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো।

আমাকে দেখে ফাহাদের ভালো লেগে যায়। আপুর মাধ্যমে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব করে। আমি রাজি হইনি। ফাহাদ হাল ছাড়েনি। আপুর মাধ্যমে আমাকে বারবার প্রস্তাব করে যাচ্ছিলো। আপু আমাকে রাজি করানোর জন্য তাদের বাসায় গেলেই কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতেন। ফাহাদের নানা প্রশংসা করে বলতেন একবার যেনো ফাহাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি। যদি ভালো লাগে পরে না হয় সম্পর্কে জড়াবো।

একসময় আমার আর ফাহাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন পর ফাহাদ তার মামার বাসায় আমাকে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। ওইদিনই সে গোপনে আমাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও ছবি তুলে রাখে। ২০১৮ সালে ফাহাদ স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা চলে যায়। কানাডা যাবার সময় আমি আমার পরিবারকে বলেছিলাম একটা ভালো ছেলে আছে। আমার পরিবার রাজি হয়। কিন্তু ফাহাদ কানাডা চলে যাওয়ায় তখন বিয়ে করা সম্ভব হয়নি।

তার সঙ্গে কথা ছিল ২ বছর পরে দেশে এসে আমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু সে কানাডা যাওয়ার পরপরই আমার ইনবক্সে কিছু ভিডিও ও ছবি পাঠায়। আমি চমকে উঠি। আমাকে বলে আমার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড দেয়ার জন্য। আমি দিতে চাইনি। একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেয়। ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও পর্নোগ্রাফি সাইটে দিয়ে দেবে। এমনকি আমার ঘনিষ্ঠজনের কাছে পাঠাবে। তখন আমার ছবি ও নাম ব্যবহার করে ফাহাদ ভুয়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের আইডি খুলে। এসব আইডি থেকে আমার পরিচিতদের রিকুয়েস্ট পাঠায়। তার উদ্দেশ্য ছিল ভিডিও ও ছবি তাদের কাছে পাঠানো। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাকে পাসওয়ার্ড দেই।

ওই পাসওয়ার্ড নিয়ে সে আমাকে বলে আমি তোমার ফিউচার হাজবেন্ড। দেশে এসে তোমাকে বিয়ে করবো। কিন্তু তার আগে আমার কিছু ফ্যান্টাসি আছে সেগুলো তোমাকে পূরণ করতে হবে। ফ্যান্টাসি কি জানতে চাইলে সে বলে, আমার মামা সিফাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে আর আমি সেটা ভিডিও কলে দেখে মজা নেবো। আমি তার এই কথা মেনে নিতে পারিনি। আমার অপারগতার কথা শুনে ফের ভিডিও ও ছবির হুমকি দেয়। আমি তাকে অনুরোধ করি যাতে ভাইরাল না করে। সে যা বলবে- আমি তাই শুনবো। একপর্যায়ে আমি সিফাতের বাসায় যাই। শারীরিক সম্পর্ক করার সময় ফাহাদ কানাডা থেকে ভিডিও কলে সেই দৃশ্য দেখে স্কিন রেকর্ডার দিয়ে রেকর্ড করে রাখে। পরে সেগুলো আবার আমার কাছে পাঠায়। সিফাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে রেহাই মিলেনি আমার। তারপর ফাহাদ তার চাচাত ভাই ও আরো এক বন্ধুর বাসায় যাবার কথা বলে। এতে আমার রাগ বেড়ে যায়। তার মানসিক নির্যাতন আর এরকম উদ্ভট আবদার আমি আর মেনে নিতে পারছিলাম না। পরে তাকে জানিয়ে দেই তার যা মনে হয় তা করার জন্য। একসময় তার কাছে থাকা আমার ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করে দেয়। আমার বন্ধু ও বান্ধবীরা সেটি দেখে আমাকে বলে কি রে তোর ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন লিংকে দেখা যাচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি আমার পরিবারকে জানিয়ে মামলার সিদ্ধান্ত নেই। পরিবারকে সব কথা খুলে বলি।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে গত ৮ই মার্চ রাজধানীর পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে তার প্রেমিক ফাহাদ হোসেন ও তার মামা সিফাতের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৫ মার্চ) বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অভিযুক্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার করে। সিফাত ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) হোটেল ম্যানেজম্যান্ট ও ট্যুরিজমের বিভাগের শিক্ষার্থী। মামলার প্রধান আসামি প্রেমিক ফাহাদ হোসেন কানাডা থাকায় তাকে এখনই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ফাহাদ ও সিফাত সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত কমিশনার কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, কিশোরী মেয়েটিকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে সাইবার ব্ল্যাকমেইলিং করা হয়েছে। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। উঠতি বয়সী মেয়েরাই বেশি শিকার হচ্ছে। কেউ জেনেশুনে আবার কেউ অসাবধানতাবশে। তাই স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদের সতর্ক হতে হবে। একান্ত ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানে সাবধান হতে হবে। যদি মনে হয় ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে যাবেন তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে ২টি মামলা হয়েছে। ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার ওপর আসামি কানাডায় আছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা করা হবে।

ডিবি’র ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আশরাফ উল্লাহ আরটিভি নিউজকে বলেন, সিফাতকে প্রাথমিকভাবে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, ফাহাদের কথা রাখতেই ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। ফাহাদের কাছে ছোটবেলায় সিফাত নিজেও মলেস্টিংয়ের শিকার হয়েছিল। আমরা সিফাতের মোবাইল থেকে অনেক তরুণীর নুড ভিডিও ও ছবি পেয়েছি। অন্তত ৬ জন তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে ভিডিও ধারণ করেছে। তিনি বলেন, বিদেশে থাকায় ফাহাদকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। কিশোরীর সঙ্গে এই ঘটনার মূলহোতা ফাহাদ। পর্নোগ্রাফি সাইটে কিশোরীর নুড ভিডিও দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে। একই মামলায় নিশাত নামের এক নারীকেও আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, এই ঘটনায় ওই নারীর ভূমিকা কি ছিলো তা অনুসন্ধান করে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি’র এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত সিফাত মূলত ফাহাদের ফুফাতো বোনের ছেলে। সেই হিসেবেই তারা মামা-ভাগ্নে সম্পর্ক। মামলাটির তদন্ত চলছে, আইন অনুযায়ী কানাডায় অবস্থানরত ফাহাদের বিষয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।

কেএফ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
বছরটি মহামারির, তাই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ। এ বছর দেশ হারিয়েছে অনেক গুণিজন। জাতী হারিয়েছে তার অকৃত্রিম অভিভাবকদের। বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই করোনায় কাছে হার মেনেছেন। অল্প সময়ে এত বড় শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তথ্যমতে, চলতি বছরের শেষে ২৭ ডিসেম্বর মারা যান আওয়ামী লীগের আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী। একইমাসের ২৫ তারিখ করোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রাণ হারান একুশে পদকপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ।  গত ১৫ নভেম্বর নিউমোনিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুতোর ওপাড়ে চলে যান আগুনপাখির শ্রষ্টা, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ অক্টোবর ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন নাট্যজন ইনামুল হক।  ৪ জুলাই করোনা কেড়ে নেয় ‌‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানের গীতিকার ফজল-এ খোদাকে। একই মাসের ২৩ তারিখ করোনায় মারা যান গণসংগীতশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর।  ২৫ মে মানুষ হতে চেয়ে করোনা আকাশের তারা হয়ে গেলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার করোনায় মারা যান ১০ এপ্রিল। একই মাসের ১১ তারিখ অকালে থেমে যায় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মিতা হকের কণ্ঠ।  সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী করোনায় অনন্ত লোকের পথ ধরেন ১৭ এপ্রিল।  ১৬ মার্চ জগতের মায়া ছেড়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শক্তিশালী অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক এ টি এম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ২০ ফেব্রুয়ারি।  এ ছাড়া বছরের শুরুতে ৩ জানুয়ারি করোনা কেড়ে নেয় একুশে পদকজয়ী লেখিকা রাবেয়া খাতুনকে।  এত অল্প সময়ে তৈরি হওয়া এই বিশাল শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আরএ/টিআই
২০২১ সালে মারা গেছেন যেসব গুণিজন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেওয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে মাঝপথেই প্রশ্ন উঠেছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও বিএনপি নেতারা সংলাপে না যাওয়ার পক্ষে। আগের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আলোচনায় না বাসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিবি ও বাসদ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপে যেয়েই সবার প্রস্তাব তুলে ধরা উচিত। কারণ এই আলোচনার ভিত্তিতেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।   আইন না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গত দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। এবারও কমিশন গঠনে নিবন্ধিত দলগুলোর সাথে সংলাপে বসছেন তিনি। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯টি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সংলাপে অংশ নেয়নি। দাওয়াত পাওয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রতন বলেন, কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেটা যেমন দেশবাসী দেখে নাই, আমাদের কাছেও পরিষ্কার হয় নাই। আমাদের দাবিটা কেন গ্রহণযোগ্য হলো না, সে বিষয় নিয়েও কিন্তু কোনও কথা আমরা শুনতে পাইনি। সেই কারণে আমরা এবার বলেছি, একই কথা বলার জন্য আমাদের যাওয়াটা আমরা ঠিক মনে করি না। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে তথাকথিত পরামর্শের জন্য না ডেকে তিনি যদি সংসদ বরাবর চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিতেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যে তোমরা আইন প্রণয়ন করে আমার কাছে পাঠাও সাক্ষর করার জন্য। তাহলে এক মাসের ভেতরে আইন হয়ে যেত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতারা জানান, তারা এখনও সংলাপের আমন্ত্রণ পাননি। তবে এই আলোচনায় না যাওয়ার পক্ষে বেশিরভাগ নেতা। বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যদি নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের চেয়ে ভালো কিছু হবে না। সেজন্য আমরা বলেছি- আমরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকব না। অর্থাৎ এই আলোচনায় বিএনপি যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আগের সংলাপের সঙ্গে এবারেরটা মেলানো ঠিক হবে না। কারণ আলোচনার টেবিলে যে কোনও সমস্যারই সমাধান হতে পারে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এখনতো রাষ্ট্রপতি ডেকেছেন আমাদের আগামী যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে সেই বিষয়ে। এ ব্যাপারে তো এখনও ফয়সালা হয় নাই। সেটা তো আলোচনার মাধ্যমে হবে। তার জন্যই তো ডাকা। এর জন্য আট বছর আগে সুপারিশ কে দিয়েছিল, আমার মনে হয় এটা কোনও যৌক্তিক কথা না।    নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শেষে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন রাষ্ট্রপতি। যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  এনএইচ/এসএস
নিবন্ধিত সব দল অংশ না নেয়ায় সংলাপের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন (ভিডিও)
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কার্গো জাহাজ চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। দ্রুতই দেশটির সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তথ্যমতে, মালদ্বীপের চাহিদার শতভাগ পণ্যই আমদামি করে চলতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেশটিতে বাংলাদেশের সবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে। পাশিপাশি গার্মেন্ট ও বিভিন্ন শুকনো খাবারেরও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু মালদ্বীপের সঙ্গে সরাসরি কার্গো জাহাজ না থাকায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না দেশটিতে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা।  তাই বাধ্য হয়ে ভারত ও শ্রীলংকার সমুদ্র বন্দর থেকে অধিকাংশ কার্গো জাহাজে করে আনতে হয় পণ্য। এতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনতে হয় আমদানিকারকদের। দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জানান, মালদ্বীপ সরকারের পতাকাবাহী জাহাজ মাত্র একটি। তাদের পক্ষে এই জাহাজ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভাব না। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যে খাদ্যদ্রব্য আবদানি করে তা পাশ্ববর্তি দেশের তুলনায় অনেক কম। তাই আমদানি বাড়াতে চাই তাহলে আমাদেরকে জাহাজ চালুর চেষ্টা করতে হবে।  এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কয়েকটি জাহাজ কোম্পানীর সঙ্গে কথা চলছে বলেও জানান তিনি। আরএ/টিআই
কার্গো চালু না থাকায় বেশি ব্যয়ে পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বাস রুট রেশনালাইজেশনের ‘ঢাকা নগর পরিবহনের’ নতুন বাধা একই রুটে চলাচলকারী অন্য পরিবহনের বাসগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একই রুটে যাত্রী পেতে মালঞ্চ ও প্রজাপতি পরিবহনের বাসগুলো আগের মতোই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পরিবহন বিশেষজ্ঞের মতে, শক্তিশালী আলাদা মনিটরিং প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুললে সুফল আসবে না।  রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বেশি যাত্রী পেতে ঢাকা নগর পরিবহনের বাসকে চাপ দিয়ে আগে চলে যায় মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস।  ফাঁকা নগর পরিবহনের চালক-হেলপাররা জানান, বাসগুলোর আগে যাওয়ার এবং যাত্রীদের যেখানে-সেখানে নামানোর প্রবণতা নানা সমস্যার কারণ।  এমনই একজন বলেন, যাত্রীরা কাউন্টারে না নেমে স্টপেজেই নামতে চান। এখানেই তাদের নামতে হবে। এই সমস্যাটা আমাদের সবচেয়ে বেশি।  অপর একজন বলেন, রজনীগন্ধা সার্ভিস, মালঞ্চ সার্ভিস-এরকম লোকাল কিছু সার্ভিস আমাদের সমস্যা করছে। অভিযুক্ত বাসের কর্মীরা জানান, রুট পারমিট ঠিক করে তাদেরকেও ঢাকা পরিবহনে যুক্ত করলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে। ঝামেলা ছাড়াই গন্তব্যে যেতে পারায় ঢাকা পরিবহনকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীদের অনেকে।  এক যাত্রী বলেন, এই সিস্টেমটা আমার কাছে অবশ্যই ভালো মনে হয়। কাউন্টারে কাউন্টারে শুধু থামানো হয়। সবাই টিকিট কেটে ওঠে। বসার কোনো ঝামেলা নেই। অপর এক যাত্রী বলেন, দুই মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের এমন একটা সার্ভিস দিয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, উদ্যোগ ভালো, তবে টেকসই করতে আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এখানে আমি সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখি, এটাকে নিবিড়ভাবে মনিটরিং ও পরিচর্যা করার প্রতিষ্ঠান নেই। আরম্ভটা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু টেকসইয়ের জন্য যথেষ্ট আয়োজন করতে হবে। রাজধানীর ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নতুন এই ঢাকা নগর পরিবহন শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। যাত্রী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধীরে ধীরে যদি অন্য পরিবহনগুলোকেও এর আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে গণপরিবহন ও রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে। এনএইচ/ এসএস
ঢাকা নগর পরিবহন : প্রতিযোগিতায় একই রুটের অন্য বাস (ভিডিও)
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে যেমনটা দিয়েছে গতি, তেমনি দিয়েছে স্বস্তিও। তবে স্বস্তির বাইরে অস্বস্তির ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। হোক সেটি বড় বা ছোট কোনও ঘটনা, তাতেই অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে ঘর থেকে শুরু করে দেশ কিংবা দেশের বাইরেও। তৈরি হচ্ছে জাতি-ধর্ম আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, নষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। শেষ হতে যাওয়া চলতি বছরের আলোচিত এমন কিছু ঘটনাই তুলে ধরা হলো।  প্রযুক্তির আশীর্বাদে ব্যস্ত জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কর্মজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই যেন দেখে ফেলা যায় এক নিমেষেই। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত যোগাযোগের এই মাধ্যম কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হুমকির কারণও হয়ে উঠছে বেশ। গেল অক্টোবরে শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মন্দিরে হামলার ঘটনা বছরের শেষ দিকটাতে আলোচনার ঝড় ওঠে দেশ ও দেশের বাইরে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে মুহূর্তে সেটি ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ধরা পড়ে ঘটনার মূলহোতা। এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে কিছু মহল। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্নভাবে ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে চলতি বছরের ৭ মার্চ আটক করে র‌্যাব। এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল থেকে, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে আটক করে পুলিশ। মাদানির রেশ কাটতে না কাটতেই হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে নানা কাণ্ড। গেল ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের এক হোটেল থেকে নারীসহ আটক করা হয় মামনুনুলকে। পরে সেটি ভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজত কর্মীরা। ঘটনার প্রায় মাসখানেক পর ৩০ এপ্রিল মামুনুলের বিরুদ্ধে ওই নারী ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এভাবে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন নানা ফায়দা আদায় করে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। প্রশাসন এসব বিষয়ে কঠোর থাকার কথা জানালেও সাধারণ মানুষের দাবি স্থায়ী কোনও সমাধানের। এনএইচ/এসএস 
বছরজুড়ে সামাজিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অপতৎপরতা (ভিডিও)
আরও পড়ুন
‘দাগ থেকে যায়’
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন
নতুন বছরে আরটিভির বিশেষ নাটক ‘মিস্টার বেফাঁস’
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন