হাতিরঝিল থেকে কাওরানবাজার রুটে অবৈধ মাইক্রোবাস সার্ভিস চালু থাকলেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ। রাজধানীতে বিআরটিএ’র ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করলেও তারা কখনও এদের বিচার করেনি। ট্রাফিক বিভাগের দাবি, কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবহন খাতের নৈরাজ্য বন্ধে দুষ্ট চক্র ভাঙতে হবে।
রামপুরা টিভি সেন্টার থেকে হাতিরঝিল হয়ে কারওয়ান বাজার রূটে অবৈধ মাইক্রোবাস সার্ভিস চলছে প্রায় এক দশক ধরে। বৈধতা না থাকায় সব দিক ম্যানেজ করে সার্ভিস চালু রাখার কথা জানান পরিচালনাকারীরাই। তাদের একজন বলেন, আমার গাড়ি অপরাধ করছে, গাড়ি কই নেব? গাড়ি ডাম্পিংয়ে নিব তো! এরপরে অরজিনাল লাইসেন্স ইস্যু করে গাড়ি ওসি-ডিসিকে দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসব।
রুটপারমিট ছাড়া রাজধানীর বুকে বছরে পর বছর ধরে কী করে একটি অবৈধ সার্ভিস চলছে? প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে। বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব মূলত ট্রাফিক বিভাগের। তারা দেখতেছে, আর আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে যেগুলো পড়ে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিক্ষিপ্তভাবে কথা বললে হবে না, আপনারা একটা কাগজ পাঠিয়ে দেন আমরা ব্যবস্থা নিব।
এই রুটের কথা জানা নেই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। অথচ, অভিযোগ রয়েছে- সব থানাকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ মাইক্রোবাসগুলো। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান বলেন, যদি কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট নন। লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করে পরিবহন খাতের দুষ্ট চক্র ভাঙার পরামর্শ তাদের।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এআরআই’র পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিআরটিএ যে নজরদারি, দেখভাল ও আইনের প্রয়োগ করার কথা সেটা বিআরটিএ সঠিকভাবে করছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে আমরা মাঝে মাঝে যে প্রহসন দেখি, সে প্রহসনের নামে এগুলোকে কোনোভাবেই ঠিক করতে পারবেন না। প্রশাসনের মধ্যেও কিছু দুষ্ট চক্র ঢুকে গেছে। এই দুষ্ট চক্র যদি ভাঙতে না পারে তাহলে সরকারের যে প্রয়াস সেটা কিন্তু সফল হবে না।
কেবল হাতিরঝিল নয়, সারাদেশের সড়ক নৈরাজ্য বন্ধে রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের অশুভ আঁতাত ভাঙার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এনএইচ/টিআই




