অ্যাম্বুলেন্সের মতো অতি জরুরি সেবা ঘিরে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য। কঠিন মুহূর্তে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের বিরুদ্ধে। তাদের বেঁধে দেওয়া ভাড়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই কারও।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গুরুতর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে এসেছে সাখাওয়াত। নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থেকে আসতে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য গুনতে হয়েছে পনেরশ' টাকা। এখন কর্তৃপক্ষ অন্য হাসপাতালে রেফার করায় অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে ছুটতে হচ্ছে। এমন বিপদের মুহূর্তে তাকে জেঁকে ধরেন চালকরা। সাত কিলোমিটার দূরত্বে যেতে চাওয়া হচ্ছে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা।
সাখাওয়াত বলেন, ১৫শ' টাকা বলে। আড়াইহাজার থেকে আসছি পনেরশ' টাকায় হয়? ঘোরাঘুরি করতে করতে রোগীর অবস্থা খারাপ।
উপায় না থাকায় অস্বাভাবিক ভাড়াতেই রাজী হতে হয়। শুধু সাখাওয়াত না চরম বিপদের মুহূর্তে এমন অভিজ্ঞতা আরও অনেকের। আপন ভাতিজাকে অন্য হাসপাতালে নিতে ভাড়ার আবদার শুনে মেজাজ রাখতে পারেননি এই ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, আপনারা এমন করলে কীভাবে হবে? রোগীর দিকে না তাকিয়ে আপনাদের দিকে তাকান, ধ্যাত! এটা কোনও কথা হলো?
রাজধানীর মধ্যে যাতায়াতে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো। অথচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া তিনশ' থেকে পাঁচশ' টাকা।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পার্কিংয়ের কাউন্টার ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সুযোগ নেই। চাঁদপুরে মরদেহ নিতে হাঁকা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা, দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। দূরের জেলার ভাড়া আরও বেশি। দূরত্ব ভেদে দিতে হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা।
রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চোখে পড়লেও সরকারিগুলোর দেখা পাওয়া ভার। তাই রোগী ও স্বজনদের জিম্মিদশা কাটে না। সামর্থ না থাকলে বাধ্য হয়ে বিকল্প বাহনে রোগী নিতে হয়।
এনএইচ




