সীমাহীন অনিয়মের মহোৎসব চলছে রেলে। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ যাত্রীরা। অনলাইন ও স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে চলছে রমরমা অবৈধ বাণিজ্য। অনলাইনের টিকিট মিলছে কালোবাজারিদের হাতে। আর এ জন্য দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দালাল, অসাধু রেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যার নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। আরটিভি টিমের গন্তব্য কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে ভৈরব। কাউন্টারের সামনেই রেলের ষ্টোরকিপার পরিচয় দেওয়া লুৎফর জানান, জনপ্রতি ৫০ টাকা করে দুইজন ১০০ টাকা দিলেই নিরাপত্তা ভেদ করে পৌঁছে দেবেন ট্রেনে।
ঘটনার সত্যতা জানতে লুৎফরের কথা মতো কাজ। ঢুকতেই আনসার সদস্য হাবিবের হাতে ৫০ টাকা ধরিয়ে দেয় লুৎফর। পথ চলতে চলতে তিনি জানান, একসাথে ২০ থেকে ৩০ জনের টিকিটের ব্যবস্থা করা তার জন্য কোনো ব্যাপারই না।
শুধু তাই নয়, পথে এয়ারপোর্ট, নরসিংদী, টিটিকান্দা সব স্টেশনেই বিনা টিকিটে উঠছে যাত্রী। বাদ যায়নি চালকের আসনও। ট্রেনের পরিচালকের রুমেও টিকিট ছাড়া যাত্রী।
এদিকে, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনেও একই অবস্থা, কাউন্টারে নেই টিকিট। বিক্রি হচ্ছে অন্য এক খাবার দোকানে। অবৈধ এসব টাকার ভাগ পৌঁছে যাচ্ছে রেলের কর্মচারী থেকে শুরু করে, ওপরের মহল পর্যন্ত। সিন্ডিকেট কারসাজির কারণে লোকসান গুনছে যোগাযোগের অন্যতম সেবা খাত, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আরএ/এনএইচ




