ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

১৫০০ বছরের মৃতদের নগরী! যেখানে রয়েছে ৬০ লাখ কবর 

অর্পিতা জাহান

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম

ওপর থেকে দেখলে মনে হতে পারে এটা কোনো জনবহুল নগরী। অসংখ্য ইটের স্থাপনা যেন জড়িয়ে আছে পরস্পরের সঙ্গে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এটা নগরী, এখানে আছে অগণিত ঘর তবে তা মৃতদের। এখানে দৃষ্টি যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত দেখা যায় শুধু মৃতের সমুদ্র। ধারণা করা হয়, এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ কবরস্থান ওয়াদি আস সালাম।

ইরাকের নাজাফ শহরে অবস্থিত এ গোরস্তান প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। এখানে শুয়ে আছেন লক্ষাধিক মানুষ, যার মধ্যে রয়েছেন রাজা, ইমাম, বিজ্ঞানী, বণিকসহ বহু প্রভাবশালী মানুষ।

ইরাকের নাজাফ নামক শহরটি হচ্ছে দেশটির বৃহত্তম শহরগুলোর মধ্যে একটি। এর আয়তন প্রায় ২৯,০০০ বর্গ কিলোমিটার। আর জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। কিন্তু এটি শুধুমাত্র জীবিত মানুষের সংখ্যা। শহরটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কবরস্থানে শায়িত আছে অর্ধ কোটিরও অধিক মানুষ!

কিন্তু কেন এত মানুষ এখানে কবরস্থ হতে চেয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরে যেতে হবে বহু বছর আগে।

ওয়াদি আস সালামে শুয়ে আছেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা, আলি (রা.)। শিয়া মুসলিমদের কাছে আলির (রা.) কবর বিশেষ পবিত্র স্থান। তারা বিশ্বাস করেন, হযরত আলি (রা) এর মাজারের পাশেই এই কবরস্থানটি একটি বেহেশতের খন্ড, যেখানে মুমিনদের রূহ জান্নাত লাভ করে। এ কারণে বহু মানুষ জীবনের শেষ ঠিকানা হিসেবে নাজাফকে বেছে নেন। এছাড়া হযরত হুদ (আ) এবং হযরত সালেহ (আ) এর কবরও এখারে রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

ইতিহাস বলে, সাসানীয় এবং পার্থিয়ান যুগ থেকেই নাজাফ কবরের জন্য জনপ্রিয় স্থান। শিয়াদের বিশ্বাস, সে সময় এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প হতো। কিন্তু হযরত ইবরাহীম (আ) যতদিন এখানে অবস্থান করেছিলেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো ভূমিকম্প হয়নি। পরবর্তীতে এক রাতে ইবরাহীম (আ) পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে গেলে সেদিনই নাজাফে ভূমিকম্প হয়। তখন এলাকাবাসী তাকে অনুরোধ করলে তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি। তবে সেখানে নিজের নামে এক টুকরো জমি ক্রয় করেন। সেই জমির টুকরোটিই বর্তমানে ওয়াদি আস্-সালাম কবরস্থান। শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা, হযরত ইবরাহীম (আ বলেছিলেন, এই স্থানটি পুনরুত্থানের জায়গা হবে, যেখানে ৭০ হাজার মানুষ বিনা হিসেবে বেহেশত লাভ করবে।

ওয়াদি আস-সালাম কবরস্থানের কবরগুলো পোড়ামাটির ইটের তৈরি, বিভিন্ন আকার এবং আকৃতির। অনেক কবরের ওপর পবিত্র কুরআনের আয়াত খোদাই করা থাকে। এখানে কিছু পারিবারিক সমাধি কক্ষও আছে, যেগুলোতে অনেক মৃতদেহ শায়িত করা যায়। সমাধি কক্ষগুলোতে প্রবেশের জন্য মই ব্যবহার করতে হয়।

২০০৩ সালে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী ইরাক আক্রমণের সময়, ইরাকি গেরিলারা এই কবরস্থানটি যুদ্ধের কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো। সরু গলির কারণে মার্কিন বাহিনী সহজে প্রবেশ করতে পারত না, ফলে গেরিলারা আক্রমণ চালিয়ে আত্মগোপন করত। পরবর্তীতে, মার্কিন সমর্থিত ইরাকি বাহিনীর হামলায় কবরস্থানের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে আইএস বিরোধী যুদ্ধে নিহত শিয়া মিলিশিয়াদের কবর দেওয়ার কারণে কবরস্থানের আয়তন দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

নাজাফের এ গোরস্তানে বছরে প্রায় এক লাখ মরদেহ দাফন করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ জনকে এখানে সমাহিত করা হয়। মূলত ইরাক, ইরান, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং অন্যান্য দেশ থেকে মানুষ এখানে কবর দিতে আসে। তবে মরদেহ নাজাফে নিয়ে যাওয়ার এ প্রথা ১৩ শতক থেকেই শুরু হয়েছে। তখন মরদেহ পরিবহনের সঙ্গে একটি বিশাল ব্যবসাও গড়ে উঠেছিল। এ নিয়ে ফতোয়া পর্যন্ত জারি করতে হয়েছিল, যাতে মরদেহ পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
এখানে কিছু কবরের আকার বেশ বড়। শিয়া সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ রীতি হলো কবরের গভীরতা নির্দিষ্ট রাখা এবং মরদেহকে মক্কার দিকে মুখ করে রাখা।

ওয়াদি আস সালামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি শুধু মৃতদের জন্য নয়, জীবিতদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শিয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ এখানে আসে মর্সিয়া পাঠ এবং ধর্মীয় আচার পালনের জন্য। প্রতি শুক্রবার এবং রমজানের শেষ দশ দিনে এখানে ভিড় জমে যায়। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর-এর রাতে গোরস্তানে মানুষের ঢল নামে, যারা তাদের প্রিয়জনদের কবরে জিয়ারত করতে আসে। তাই বলা হয়, এই গোরস্থান শুধু একটি স্থানই নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের নানা সংঘাত, যুদ্ধ এবং ইতিহাসের সাক্ষী।

আরটিভি/এফআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শঙ্কা ও সংকটে আ.লীগ, সম্ভাব্য সুদিন বিএনপির
রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের বছর ২০২৪। শঙ্কা ও সংকটে আওয়ামী লীগ থাকলেও সম্ভাব্য সুদিন এখন বিএনপির। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ২০২৪ ছিল দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে ঘটনাবহুল বছর। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরশাসকের পতন ঘটে এ বছরই। স্বস্তিতে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয় ফেরারি বিএনপির। রাজনীতিতে ফিরেছে নিরুদ্দেশে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামেও। বছরের শুরু হয়েছিল সমালোচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে। বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় ডামি যা নির্বাচন নামে পরিচিতি লাভ করে। সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে আন্দোলনে নেমে গ্রেপ্তার হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরুসহ ২৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী। সরকার পতনের পরদিন রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হাজার হাজার নেতাকর্মী ছেড়ে দেন জেল কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের মার্চের দিকে একের পর এক আওয়ামীপন্থী আমলাদের দুর্নীতি, টাকা পাচারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। বাদ যাননি পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। তবে সাবেক এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের ছেলের ছাগলকাণ্ডই যে ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় তা জোড় আলোচনায়। শেখ হাসিনার পিয়ন জাহাঙ্গীর আলমের ৪০০ কোটি টাকার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।  কোটা কমিয়ে সরকারি চাকরিতে মেধায় নিয়োগের দাবিতে ২০১৮ সালে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, বিরতি দিয়ে ২০২৪-এ পরিণতি লাভ করে। ছাত্রদের দাবি উপেক্ষা করে বিতর্কিত মন্তব্য করে আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালেন শেখ হাসিনা। ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। প্রাণ বাঁচাতে পানি পান করাতে গিয়ে প্রাণ দেন মীর মুগ্ধ। আন্দোলন দমাতে কারফিউ ঘোষণা, সেনা মোতায়েন করেও সুবিধা করতে পারেনি স্বৈরচার সরকার। সমন্বয়কে তুলে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন ও ২০০ এর বেশি মামলায় দুই লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও সরকার পতনের ডাক দেয় বিএনপি। সরকার পতনের সপ্তাহ খানেক আগে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে। ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে ‘মার্চ টু ঢাকায়’ যোগ দেন লাখো জনতা। আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতা আকড়ে থাকা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। গা ঢাকা দেন আওয়ামী লীগের জাদরেল নেতারা। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হন ক্ষমতাচ্যুত দলটির প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিরা। কায়দাকানুন করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান কেউ কেউ।  ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। প্রায় সাত বছর পর বিএনপির জনসভায় ভিডিও বার্তা দেন তিনি। এক যুগ পর গত ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। টেলিভিশনে বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় তারেক রহমানের। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তবর্তী সরকার। জেলে না গিয়ে সরকার গঠন করেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। চাকরি চেয়ে রাজপথে আন্দোলন শেষে সরাসরি সরকারে যোগ দেন নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব। যদিও ফ্যাসিবাদ পতনে প্রাণ দিতে হয় প্রায় ২ হাজার ছাত্র জনতাকে। পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে হাজার হাজার নিরীহ শিক্ষার্থীকে। যে তিনটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির বাঁক বদল ঘটেছে, তার সবগুলোতে লাভবান হয়েছে বিএনপি। এবারের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বিএনপির। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত। এদিকে নতুন দল গঠন করছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসেই তাদের দলের আত্মপ্রকাশের কথা রয়েছে।  আরটিভি/আরএ/এস
শঙ্কা ও সংকটে আ.লীগ, সম্ভাব্য সুদিন বিএনপির
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা কম। তবে খরচের এমন ধীরগতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগের সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অহেতুক প্রকল্পে খরচ না করাই উত্তম। তথ্যমতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাকিস্তান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ভুটান, ব্রুনেই ও সৌদি আরবে সাতটি চ্যান্সারি কমপ্লেক্স তৈরির প্রকল্প রয়েছে, যার বরাদ্দ মোট ১৪৩ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের প্রথম চার মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এক টাকাও খরচ করা সম্ভব হয়নি।  সরকারের প্রকল্প মনিটরিং করার একমাত্র সংস্থা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্যে জানা গেছে, জুলাই-নভেম্বর বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচেও দেখা গেছে রক্ষণশীলতা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের এই সময়ে খরচ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থ বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি। যা মোট বরাদ্দের ১২ দশমিক ২-৯ শতাংশ। বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ বরাদ্দ বা ৭ হাজার ৭১১ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিভাগটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। আর ১০ শতাংশের কম খরচ হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সেতু বিভাগে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে অনেক ঠিকাদার পালিয়ে গেছে, আবার অনেক প্রকল্প পরিচালক সম্পদ বিক্রি করে বিদেশ চলে গেছেন। যার ফলে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসন, সেখানকার ঠিকাদার ও কেনাকাটার জায়গাগুলোতে এখন কিছুটা অচল অবস্থায় আছে এবং সেটা আরও কয়েক মাস থাকবে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সহ-সভাপতি এম এস সিদ্দিকী বলেন, শুধুমাত্র আমলাদের নিয়ে নয়, প্রাইভেট অথবা অন্য পেশা থেকেও দক্ষ লোক নিয়ে এ প্রকল্পগুলো মেনেজম্যান্ট করা উচিত, তাহলে হয়তো আরেকটু গতি আসবে।  উল্লেখ্য, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আরটিভি/আরএ/এস
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার
ছবির মতো সুন্দর হয়েও পর্যটক যায় না যে দেশে
ছবির মতো সুন্দর এক দেশ। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ, সোনা-রুপার ঝলমলে প্রাসাদ, আর মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যের অপরূপ সমাহার—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নপুরী। কিন্তু, এত বৈচিত্র্য, এত ঐশ্বর্যের মাঝে যেন এক অদৃশ্য পর্দা টাঙানো। কোথাও কোনো পর্যটকের আনাগোনা নেই। যেখানে আরব আমিরাত, আমেরিকা, কিংবা থাইল্যান্ড পর্যটকদের পদচারণায় মুখর, সেখানে এই অনন্য সৌন্দর্যের দেশ যেন পড়ে আছে একাকী, নিস্তব্ধ।  প্রশ্ন হলো, কেনো? এতো সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও কেনো পর্যটকদের কাছে এই দেশটি এক রহস্য? এর পেছনে কি কোনো গোপন কারণ লুকিয়ে আছে? কোনো অজানা রহস্য যা পর্যটকদের দূরে রাখছে? চলুন তবে জেনে নিই। মধ্য এশিয়ার এক রহস্যময় এই দেশ তুর্কমেনিস্তান, যা ক্যাস্পিয়ান সাগরের পূর্বে অবস্থিত। দেশটির রাজধানী আশগাবাত, যা সাদা মার্বেলের শহর হিসেবে পরিচিত। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, আশগাবাত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাদা মার্বেলের ভবনসমৃদ্ধ শহর। শহরটির স্থাপত্যশৈলী ও নকশা মনোমুগ্ধকর।  দেশটির আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান হলো দারভাজা গ্যাস ক্রেটার, যা "নরকের দরজা" নামে পরিচিত। এটি একটি বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের গর্ত, যা ১৯৭১ সাল থেকে জ্বলছে। এই অগ্নিগর্তটি পর্যটকদের জন্য এক বিস্ময়কর স্থান, তবে সেখানে পৌঁছানো কিংবা ভ্রমণ করা সহজ নয়। মূলত মরুভূমি আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, এই দেশটি সারা বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। যেখানে ভ্রমণ করতে চাইলেও ভিসা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, আর পেলেও নেইস্বাধীনভাবে ঘোরার অনুমতি। পর্যটকদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট গাইডের সঙ্গে চলার বাধ্যবাধকতা। অনেক এলাকায় ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ, এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগেও বিধিনিষেধ রয়েছে। এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বন্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তুর্কমেনিস্তানের সরকার জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে দেশের নাগরিকরাও স্বাধীনভাবে যেখানে-সেখানে ঘুরতে পারেন না বলে জানা যায়। তুর্কমেনিস্তান এমন এক দেশ, যেখানে দেশের মানুষও বাইরের পৃথিবীর অনেক কিছু থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। দেশটির সরকার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসসহ কিছু সুবিধা প্রদান করে। তবে দেশে পর্যটন খাতের অবকাঠামো প্রায় নেই বললেই চলে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল বা রেস্টুরেন্টের অভাব থাকায় যারা যেতে চান তাদেরও ভ্রমণ করতে হয় নানা অসুবিধার মধ্যে দিয়ে। আরটিভি/এফআই
ছবির মতো সুন্দর হয়েও পর্যটক যায় না যে দেশে
৩ হাজার বছরের রহস্যময় পাতাল শহরের খোঁজ মিললো যেভাবে
আপনি যে ভিডিওটি দেখছেন, এটি মাটির নিচে বিস্তৃত এক রহস্যময় শহর। হাজার বছর ধরে এই শহর মানুষের চোখের আড়ালে ছিল, কিন্তু একসময় এটি অন্য আট দশটি শহরের মতোই নানা কোলাহলে মুখরিত থাকত। সময়ের পরিক্রমায় যা হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ১৯৬৩ সালে এক ব্যক্তির ঘর সংস্কারের সময় তিনি হঠাৎই আবিষ্কার করেন এই অবিশ্বাস্য স্থাপত্য। যা তুরস্কের ডেরিনকুয়ু পাতাল নগরী নামে পরিচিত। ডেরিনকুয়ু তুরস্কের কাপাডোশিয়া অঞ্চলের নেভশেহির প্রদেশে অবস্থিত। এটি কোনো প্রাকৃতিকভাবে গঠিত গুহা নয়, বরং মানুষের হাতে খনন করা একটি পাতাল শহর। এই শহরটি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৭ম থেকে ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয় এবং এটি তখনকার সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হত। এটি প্রায় ২৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ধারণা করা হয়, এখানে একসময় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ এখানে আত্মগোপন করত—যেমন, শত্রুর আক্রমণ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়। শহরের ভেতরে অসংখ্য সুড়ঙ্গপথ, ৬০টির মতো গোপন দরজা এবং বাতাস চলাচলের জন্য নির্মিত শ্বাসনালী রয়েছে। এ শহরটি এতটাই জটিল যে, একজন সহজেই ভেতরে ঢুকে পথ হারিয়ে ফেলতে পারে। এই পাতাল নগরী প্রথমে হিট্টাইটদের দ্বারা তৈরি করা হয় বলে ধারণা করা হয়, তবে পরে ফ্রিজিয়ান ও বাইজেন্টাইনরাও এটি ব্যবহার করে। আরব-বাইজেন্টাইন যুদ্ধের সময় যোদ্ধারা শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য এই গুহাগুলোতে লুকিয়ে থাকত। বাইজেন্টাইনদের পরাজয়ের পর, উসমানীয় সম্রাজ্যেল শাসকগণ এই শহরকে নিজেদের বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করে বলে কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, যখন উসমানীয় সাম্রাজ্য তার পতনের মুখে, তখন এই অঞ্চলের গ্রিকরা শহরটি ত্যাগ করে। ১৯২৩ সালে তুরস্ক-গ্রিস যুদ্ধের পর, ডেরিনকুয়ু শহর সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে এটি ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পড়ে ছিল, যতক্ষণ না ১৯৬৩ সালে এটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং শুরু করেন গভীর গবেষণা। একে একে আবিষ্কৃত হয় শহরের অভ্যন্তরে থাকা আস্তাবল, তেলের ঘাঁনি, গুদামঘর, প্রার্থনাকক্ষসহ বিভিন্ন কাঠামো। এমনকি শহরের দ্বিতীয় তলায় খুঁজে পাওয়া যায় কিছু প্রাচীন সমাধি, যা বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হত। ১৯৬৯ সালে, ডেরিনকুয়ু শহরটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, যদিও এর কিছু বিপজ্জনক অংশ এখনো জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এই প্রাচীন এবং রহস্যময় পাতাল নগরী প্রতিদিনই পর্যটকদের আকর্ষণ করে এবং এর প্রাচীন ইতিহাসের গোপন রহস্যগুলো এখনো অনেক গবেষণা ও মুগ্ধতার বিষয়। আরটিভি/এফআই
৩ হাজার বছরের রহস্যময় পাতাল শহরের খোঁজ মিললো যেভাবে
৬৫ দিনের অন্ধকারে ডুবেছে শহর, সূর্যের আলো দেখা যাবে আগামী বছর 
ভাবুন এমন একটি শহর যেখানে সূর্যের আলো পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। ৬৫ দিন ধরে শহরের চারপাশ ঢেকে থাকে শুধুই অন্ধকার। দিনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার জন্য মাত্র একটুখানি দেখা যায় মৃদু আলো, তাও সূর্যের আলো নয়। হয়তো ভাবছেন কোনো রূপকথার গল্প বলছি? কিন্তু এটি কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব! এমনই এক শহর হলো আমেরিকার উত্তরতম শহর উৎকিয়াৎভিক, যা এই মুহূর্তে অন্ধকারাচ্ছন্ন আছে। আর এই ঘটনাকে বলা হয় পোলার নাইট।  উৎকিয়াৎভিক, আলাস্কার এই ছোট্ট শহরটি প্রতি বছর ৬৫ দিনের জন্য সূর্যহীন সময়ের মুখোমুখি হয়। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই অন্ধকার, যা চলবে আগামী বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে সূর্য দিগন্তের ওপরে ওঠে না। তবে এই অন্ধকার পুরোপুরি রাতের মতো নয়। বাসিন্দারা দিনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার জন্য মৃদু আলো উপভোগ করেন। সূর্য দিগন্তের ঠিক নিচে থাকায় এক ধরণের ক্ষীণ আলো চারপাশকে কিছুটা আলোকিত করে তোলে। এটি দিন আর রাতের মাঝামাঝি একটি মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে পোলার নাইট কেন ঘটে? এটি হয় মূলত পৃথিবীর ঢালের কারণে। আমাদের পৃথিবী যখন সূর্যের চারপাশে ঘোরে, তখন এটি ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এই ঢালটির জন্য, শীতকালে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে না।ফলে, উত্তর মেরুর কাছাকাছি এলাকাগুলো সরাসরি সূর্যের আলো পায় না। সূর্য দিগন্তের নিচে অবস্থান করে, আর তাই সেখানে দিনের বেলাতেও রাতের মতো অন্ধকার থাকে।   এই দীর্ঘ অন্ধকারের সময় শহরের বাসিন্দারা তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেন। তারা জানেন, এই অন্ধকার কেবল একটি ঋতুর অংশ। জানুয়ারির ২২ তারিখে দুপুরে আবার ফিরে আসবে, এবং আলোর এই ফিরে আসা তাদের জন্য হবে এক নতুন দিনের সূচনা। এটি কেবল শীতকালে ঘটে, যখন মেরু অঞ্চলের এলাকা সূর্য থেকে দূরে থাকে। এভাবেই প্রতি বছর পোলার নাইট হয় এবং কিছু কিছু জায়গা টানা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সূর্যহীন থাকে। ৬৫ দিনের অন্ধকার কাটিয়ে যখন সূর্যের প্রথম কিরণ উৎকিয়াৎভিকের মাটিতে পড়বে, তখন এটি হবে কেবল আলোর নয়, নতুন জীবনেরও উদযাপন। আরটিভি/এফআই
৬৫ দিনের অন্ধকারে ডুবেছে শহর, সূর্যের আলো দেখা যাবে আগামী বছর 
আরও পড়ুন
২৮ ডিসেম্বর : ইতিহাসে আজকের এই দিনে
৩ হাজার বছরের রহস্যময় পাতাল শহরের খোঁজ মিললো যেভাবে
২৩ ডিসেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বিপিএল ইতিহাসে প্রথমবার ট্রফি ভ্রমণ