ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

গণপরিবহনে যৌন হয়রানি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৯, ০৪:১২ পিএম
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৮:১২ এএম

সবিতা রহমান। একটি আন্তর্জাতিক এনজিওর প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর। তার প্রতিদিনের যাওয়া আসার পথ হলো মিরপুর থেকে মতিঝিল। তিনি বলেন, সকালবেলা অফিসের পিক টাইমে পাবলিক বাসে উঠার চেষ্টা করি, হঠাৎ অনুভব করি পেছন থেকে কে যেন গায়ে হাত বুলাচ্ছে। এই রকম অনুভূতি প্রায়ই হয়। খুব কৌশল করে একদিন তার হাত ধরার চেষ্টা করলাম। হাতটা ধরেই পেছনে ঘুরতে না ঘুরতেই যৌন হয়রানিকারী আমার হাতে চিমটি কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নাফিয়া আক্তার রাজধানীর গুলিস্তান থেকে গাজীপুরে যাচ্ছেন। হঠাৎ তার শরীরের পেছনের অংশে কোনো কিছুর খোঁচা অনুভব করেন। খেয়াল করে দেখেন, পেছনের পুরুষ সহযাত্রী পা দিয়ে তার শরীরে ধাক্কা দিচ্ছেন। কবিতা প্রতিবাদ করলে সেই সহযাত্রী বলেন, আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কী হয়েছে জানি না।

এমনটা শুধু কবিতা আর নাফিয়ার ক্ষেত্রে নয়, রাজধানীতে গণপরিবহনে চলাচল করেন এমন নারী যাত্রীদের কম বেশি এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ইয়াসমিন রহমান মতিঝিলের একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। থাকেন পল্লবীতে। রোজ তাকে কমপক্ষে চার ঘণ্টা যানজট পেরিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। ইয়াসমিন রহমান বলেন, ‘এ ভোগান্তির সঙ্গে সঙ্গে সব সময় চোখ-কান খোলা রাখতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই নানাভাবে নিপীড়িত হতে হয়।’

নতুন ভোগান্তি হিসেবে যুক্ত হয়েছে চালক এবং সহকারীর ধূমপান। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য গণপরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার দাবিও অনেক নারীর।

বছর দুই আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণপরিবহনে নারীদের পরিধেয় বস্ত্র কেটে দেওয়ার কিছু ভিডিও সবার নজর কাড়ে। একজন বৃদ্ধ লোক নারীদের কাপড় কেটে দিত। এক পর্যায়ে গণপরিবহনে এক নারীর কাপড় কাটতে গিয়ে পাবলিকের হাতে ধরা পড়ে। পরে তাকে র‌্যাবের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন , ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির সাথে যেসব মানুষ জড়িত থাকে তারা মূলত মানসিক বিকৃত থাকে। তাদের পরিবারের শিক্ষায় ঘাটতি থাকে। তাছাড়া তারা যৌন সুখ পাওয়ার জন্য এতো বেশি উদগ্রিব থাকে । তাই তারা ছোট ছোট যৌন হয়রানি করে যৌন তৃপ্তির সুখ পায়। তবে গণপরিবহনে যৌন হয়রানির কৌশল বদলেছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, গণপরিবহনে পুরুষেরা যেভাবে যৌন হয়রানি করে থাকেন, তা হলো ইচ্ছাকৃত স্পর্শ, কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো, আস্তে ধাক্কা দেওয়া, চুল স্পর্শ, কাঁধে হাত, শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ ইত্যাদি করে থাকে।

-----------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর বেড়েছে পানির দাম
------------------------------------------------------------

গণপরিবহনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসন রয়েছে। ১০টি বাস ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো বাসে ৪টি বা ৫টি আসন নারীদের জন্য রাখা হয়েছে। কোনো বাসে আবার সেই আসনে পুরুষ বসে আছেন। নারী যাত্রী উঠলে তাদের সিট ছেড়ে দিতে বললেও ঝামেলার সৃষ্টি হয়।

আবার অনেক সময় নারীদের সংরক্ষিত আসন পূর্ণ হয়ে গেলে, তারা আর বাসে মহিলাই নিতে চায় না। হেলপাররা বলে উঠে , ‘ওই মহিলা উঠাস না।’

দেশে গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় ৯৪ শতাংশ নারী মৌখিক, শারীরিক বা অন্যান্যভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। রাস্তা থেকে শুরু করে গণপরিবহনে ভ্রমণ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকে।

আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলো না থাকা আর তদারকির অভাবকে যৌন হয়রানির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং অ্যাকশান এইড এর পরিচালিত ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৭৪ শতাংশ নারী বাস, টেম্পো বা সিএনজিতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে টেম্পোতে যাতায়াতকারীরাই সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও পথচারী ২৬ শতাংশ নারী যৌন নিপীড়নের কথা বলেছেন। অশালীন বা পীড়নমূলক ভাষার মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৬৮ শতাংশ নারী।

‘৮১ ভাগ নারী বলছেন, যে তাকে চেনে না সে তার দিকে অশ্লীল বা কুদৃষ্টিতে তাকিয়েছে। বয়সভেদে এর কোনো পার্থক্য নেই। সব বয়সী নারীরাই যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।’

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ইকুয়িটি ম্যানজোর কাশফিয়া ফিরোজ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের ২০১৩ সালে গোটা বিশ্বব্যাপী একটা ক্যাম্পেইন চলে। সেটা হলো ‘নিরাপদ নগরী নির্ভয়ে নারী’। সেই ক্যাম্পেইনের পর আমরা একটি গবেষণা চালাই। সেখানে দেখা যায়, আমরা নারীদেরকে বাইরে কর্মক্ষেত্রে যেতে উৎসাহিত করি। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ না হওয়ার কারণে নারীরা আরও ঘরমুখি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাস কোন স্টপেজে দাঁড়ায় না। মহিলা সিট পূর্ণ হয়ে গেলে আর নারী নিতে চায় না। আমাদের গবেষণায় উঠে আসে ৮৮% নারী বাসে উঠার সময় তারা হেলপার বা অন্য কারও সাহায্য পায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা অসহযোগিতামুলক আচরণ করে। ৬৫% নারী বিভিন্ন যৌন হয়রানির শিকার হয়।

আরও পড়ুন :

আরসি/ এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত রোগটির নাম ডেঙ্গু। অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এটি জুন থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। এখনো রয়েছে এর প্রাদুর্ভাব। এখনো প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। আতঙ্ক থাকবে আগামী বছরেও। এ বছর ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তার দেশের প্রায় সব জায়গায় ঘটেছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এখন থেকে সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গু থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নির্মূলে সব সময় তৎপর থাকবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। তাদের তথ্য মতে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ১৪৮ জনের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর বিপরীতে শুধু চলতি বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী ২০১৯ সালের শুরু থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সংরক্ষিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩, আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬, সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬, অক্টোবরে ৮ হাজার ১৪৩ এবং নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ১১ জন ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১৬ জন। এতে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে জুন ও জুলাইয়ে ক্রমশ তীব্র হয়ে আগস্টে রোগটি মারাত্মক রূপ নেয়। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তাররোধে ভবিষ্যতে সব সময় তৎপর থাকবেন তারা। এজে
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকের বেশির ভাগেরই আবার বৈধ কাগজপত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাত্র ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চক্ষু হাসপাতাল ও দন্ত চিকিৎসালয় গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাব রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ করেছেন এখানকার মানুষেরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। এদিকে শহরে এসব ব্যক্তি মালিকানাধীন চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন রোগীরা। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কবলে পড়ে রোগীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট নেই। আবার অনেকের অভিযোগ ডাক্তার ও নার্সের অজ্ঞতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তবে ভৈরব বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মফস্বলে কাজ করতে যেয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোর সমাধান পর্যায়ক্রমে করা হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নানা অসঙ্গতি এবং অনিয়মের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এজে  
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
বাগেরহাটের মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার মানুষেরা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দিন দিন হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দু’জন চিকিৎসক। ফলে সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বাগেরহাটের মোল্লাহাটের সাতটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতালটি।  পরে ১৯৮৬ সালে এটি ৩১ শয্যায় উন্নীত হয়। আর এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি হাসপাতালটিতে আসন সংখ্যা বাড়লেও  সেবার মান বাড়েনি। বরং সেটি দিনকে দিন তলানির দিকে যাচ্ছে। ফলে এখানে সেবা নিতে এসে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়াও নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে ময়লা আবর্জনা। এদিকে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি। এজে/এসএস
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন লাখো পর্যটকে মুখরিত। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের উপযুক্ত সময় হওয়াতে সৈকতে আনন্দ উপভোগে কমতি নেই পর্যটকদের। আর তাদের নিরাপত্তায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে সাগরের নীল জলরাশিতে অবিরত ঢেউয়ের মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানী সমুদ্র সৈকত, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দিরেও পর্যটকে মুখরিত। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস আর কটেজগুলোতে পর্যটকে পরিপূর্ণ। তবে হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক পর্যটক। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পাশাপাশি ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া খাবারের মান নিয়ন্ত্রণসহ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বিচগার্ড কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি। এজে/পি
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
রাঙামাটি শহরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজ বনবিহার এলাকায় হাজারেরও বেশি বানর সঠিক সংরক্ষণ ও খাদ্যাভাবে রয়েছে। খাবারের অভাবে বানরগুলো বিহার এলাকায় পরিদর্শনে আসা মানুষের নিকট থেকে খাবার কেড়ে খায়। স্থানীয়রা জানান, রাঙামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান রাজবন বিহারের আশপাশে বিচরণ করে শত শত বানর। পর্যটকদের আনন্দ দেয়া এই বানরগুলো রয়েছে খাবার কষ্টে। খাদ্য চাহিদা পূরণে কোনও ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বনবিভাগ। এদিকে রাঙামাটি রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, বানর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে রাঙামাটি বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মো. ছানাউল্ল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, বানরগুলো যেখানে আছে সেখানেই নিরাপদ রয়েছে। বানরের সংরক্ষণ করা গেলে জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটি আরও দর্শনীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এজে/এসএস
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)