ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বব্যাপী একইদিনে ঈদ ও রোজা, ওআইসির সিদ্ধান্তের সাথে আলেমদের দ্বিমত

মাজহার খন্দকার

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০১:২৬ পিএম

প্রতি বছর রোজা ও ঈদ এলেই তার সময় ও দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাধারণত দেখা যায় যেদিন সৌদি আরবে রোজা ও ঈদ হচ্ছে বাংলাদেশে তার পরদিন ঈদ ও রোজা হয়। আবার দেশের কয়েকটি জায়গায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ। এবিষয়টি নিয়ে দেশের আলেম সমাজের মাঝে অনেক বিতর্ক হলেও কোনো সমাধান এখনও আসেনি। এমনকি ২০১৭ সালে দুই পক্ষের ১৫ জন করে সমান সংখ্যক আলেম ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিতর্কের আয়োজন করেও তার কোনো কুল কিনারা করতে পারেনি।

যারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একইদিনে রোজা ও ঈদ করছেন তারা মূলত একটি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই রোজা ও ঈদ পালন শুরু করেন। তবে তাদের সেই বিশ্বাস বর্তমান এই বিজ্ঞানের যুগে বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে বলেই দাবি তাদের।

সুরেশ্বর দরবারের অনুসারী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের কিছু জায়গায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে অনেক আগে থেকেই কয়েকটি গ্রামের মানুষ রোজা ও ঈদ করে আসছেন।

এবিষয়ে সুরেশ্বর দরবারের বর্তমান গদীনশীল পীর সৈয়্যেদ নুরে আখতার হোসাইন আহমদনুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা ঈদ ও রোজা পালন শুরু করি আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে।

তিনি বলেন, সুরেশ্বর দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সুফী সৈয়্যেদ আহমদ আলী সাহেব এই প্রথা শুরু করেন। তিনি দেখলেন যে উপমাহাদেশে সঠিক সময়ে রোজা ও ঈদের চাঁদের খবর পৌঁছে না। তিনি গবেষণা ও বিচার বিশ্লেষণ করে যেদিন রোজা ও ঈদ পালন শুরু করলেন পরবর্তীতে দেখা গেলো সেদিনের সাথে সৌদি আরবের রোজা ও ঈদ উদযাপনের তারিখ মিলে যায়। কারণ যারা সেসময় হজে যেতেন তারা দেশে এসে দেখলেন যে তারা সৌদি আরবে যেদিন কোরবানির ঈদ করেছেন সুরেশ্বর দরবারও সেদিন ঈদ করেছে। এ থেকে মানুষের আস্থা বিশ্বাস আরও বাড়তে থাকে। আর উপমহাদেশের অনেক বড় আলেম ছিলেন সৈয়্যেদ আহমদ আলী সাহেবের ছাত্র। এক পর্যায়ে তারাও এর সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেন।

সুরেশ্বর পীর বলেন, দাদার পর আমার বাবার অনুসারীরাও একইভাবে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে যখন থেকে আমার ওপর এই দায়িত্ব আসে, আমি মনে করলাম মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য এবিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছা দরকার। তাই আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করে তার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একইদিনে রোজা ও ঈদ করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এই কথাটি সঠিক নয়, আমরা মনে করি পৃথিবীর যেখানেই চাঁদ দেখা যাবে তার খবরের ভিত্তিতে ঈদ ও রোজা পালন শুরু হবে। যেহেতু একদিনে বিশ্বব্যাপী জুমআ আদায় করা হয়। সেহেতু একইদিনে ঈদ ও রোজা পালন সম্ভব। আর এবিষয়ে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশানের (ওআইসি) একটি সিদ্ধান্ত আছে, যার বাস্তবায়ন আমরা চাই।

ওআইসি ফিকহ একাডেমি তার স্থায়ী সদস্যদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ উঠলেই স্থানীয় সময় অনুযায়ী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করা হবে। কিন্তু ওআইসির সদস্য হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে কার্যকর হয়নি। এবিষয়ে ওআইসি ফিকহ একাডেমির বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আব্দুল্লাহ্ আল-মারূফ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিশ্বব্যাপী একইদিনে ঈদ ও রোজা করার বিষয়ে আলেম সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যে বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে উপযুক্ত প্রমাণ দেখানোর পরেও সরকার অজানা কারণে ওআইসির সিদ্ধান্ত মানতে অপারগতা প্রকাশ করে।

তিনি বলেন, হাদিসে এসেছে তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো ও চাঁদ দেখে রোজা ছাড়। এখানে কোনো নির্দিষ্ট জায়গার কথা বলা হয়নি। এখন বিজ্ঞানের যুগ। চাঁদ কখন উঠবে তার খবর আগে থেকেই জানা যায়। যদি কুরআন শরিফ পড়তে চশমার সাহায্য নেয়া যায়। তাহলে চাঁদ দেখতে দূরবীনের সাহায্য নিলে অসুবিধা কোথায়।

তবে এসব যুক্তির সাথে দেশের অধিকাংশ আলেমগণই একমত নন। তারা বলছেন, সহিহ হাদিস দ্বারা একথা প্রমাণ করা যায় না যে, একই দিনে সারাবিশ্ব ঈদ ও রোজা রাখবে। এসম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ছাড়। তবে যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাহলে মাসের হিসাব ৩০ দিনে পূর্ণ করে নাও।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮১০)।

এছাড়া সিহাহ সিত্তার কোনো হাদিসে একথা প্রমাণ করা যায় না যে, সারাবিশ্ব একই দিনে রোজা ও ঈদ করবে।

এ সম্পর্কে শায়খুল হাদিস ও মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তিরমিজি শরিফে পরিস্কার লিখা আছে প্রত্যেক শহরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময় অনুযায়ী তারা ঈদ পালন করবে।

হাদিসটির বর্ণনায় তিনি বলেন, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে খলিফাতুল মুসলিম আমির মুয়াবিয়া (রা.) এর কাছে গেলেন মদিনার দূত কুরায়েব। তখন দামেস্কে রমজানের চাঁদ দেখা যায়। জুমআ’র রাতে সেই চাঁদ দেখা যায়। এরপর মাস শেষে যখন মদিনায় তিনি ফিরলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)তার কাছে চাঁদ দেখা সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন, আমরা জুমআ’র রাতে চাঁদ দেখি। তিনি জানতে চান, তুমি নিজে দেখেছ? কুরায়েব বললেন যে না, অন্যরা দেখেছেন এবং মুয়াবিয়াও রোজা রেখেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন আমরা চাঁদ দেখেছি শনিবার। তোমার কথায় আমরা রোজা ভাঙবো না। আমরা ৩০টি রোজাই রাখবো। কুরায়েব বললেন, মুয়াবিয়া তো খলিফাতুল মুসলিমিন তিনি যেভাবে রোজা রাখলেন সেভাবে কি হবে না? আব্বাস (রা.) বললেন যে না, হবে না। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন তোমরা নিজ চোখে চাঁদ দেখে রোজা রাখো ও রোজা ছাড়।

মুফতি দিলাওয়ার হোসেন বলেন, দুরবীন বা যন্ত্রের সাহায্যে চাঁদ দেখে রোজা বা ঈদ করা যাবে না। চাঁদ যখন যে ভূখন্ডের মানুষ দেখবে তখন তারা রোজা ও ঈদ করবে।

মাওলানা ফাজরুল্লাহ খান বলেন, এটি সামষ্টিক ঘোষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান। যারা এই কাজটি করছেন তা শুদ্ধ নয়। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ বা রোজা পালন ইবাদতের কোনো আদেশ হতে পারে না, কোথাও বলাও হয়নি।

আলেমগণ মনে করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নিজস্ব শাস্ত্রীয় পরিমণ্ডলে চাঁদের হিসাব শুরু করেন। কিন্তু দ্বীনী বিষয়গুলোতে যেহেতু শরীয়তের হুকুম মান্য করতে হয়, তাই সেই বিষয়গুলোকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বাইরে রাখাই উত্তম।

এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত রোগটির নাম ডেঙ্গু। অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এটি জুন থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। এখনো রয়েছে এর প্রাদুর্ভাব। এখনো প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। আতঙ্ক থাকবে আগামী বছরেও। এ বছর ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তার দেশের প্রায় সব জায়গায় ঘটেছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এখন থেকে সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গু থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নির্মূলে সব সময় তৎপর থাকবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। তাদের তথ্য মতে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ১৪৮ জনের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর বিপরীতে শুধু চলতি বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী ২০১৯ সালের শুরু থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সংরক্ষিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩, আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬, সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬, অক্টোবরে ৮ হাজার ১৪৩ এবং নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ১১ জন ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১৬ জন। এতে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে জুন ও জুলাইয়ে ক্রমশ তীব্র হয়ে আগস্টে রোগটি মারাত্মক রূপ নেয়। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তাররোধে ভবিষ্যতে সব সময় তৎপর থাকবেন তারা। এজে
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকের বেশির ভাগেরই আবার বৈধ কাগজপত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাত্র ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চক্ষু হাসপাতাল ও দন্ত চিকিৎসালয় গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাব রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ করেছেন এখানকার মানুষেরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। এদিকে শহরে এসব ব্যক্তি মালিকানাধীন চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন রোগীরা। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কবলে পড়ে রোগীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট নেই। আবার অনেকের অভিযোগ ডাক্তার ও নার্সের অজ্ঞতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তবে ভৈরব বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মফস্বলে কাজ করতে যেয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোর সমাধান পর্যায়ক্রমে করা হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নানা অসঙ্গতি এবং অনিয়মের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এজে  
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
বাগেরহাটের মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার মানুষেরা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দিন দিন হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দু’জন চিকিৎসক। ফলে সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বাগেরহাটের মোল্লাহাটের সাতটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতালটি।  পরে ১৯৮৬ সালে এটি ৩১ শয্যায় উন্নীত হয়। আর এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি হাসপাতালটিতে আসন সংখ্যা বাড়লেও  সেবার মান বাড়েনি। বরং সেটি দিনকে দিন তলানির দিকে যাচ্ছে। ফলে এখানে সেবা নিতে এসে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়াও নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে ময়লা আবর্জনা। এদিকে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি। এজে/এসএস
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন লাখো পর্যটকে মুখরিত। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের উপযুক্ত সময় হওয়াতে সৈকতে আনন্দ উপভোগে কমতি নেই পর্যটকদের। আর তাদের নিরাপত্তায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে সাগরের নীল জলরাশিতে অবিরত ঢেউয়ের মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানী সমুদ্র সৈকত, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দিরেও পর্যটকে মুখরিত। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস আর কটেজগুলোতে পর্যটকে পরিপূর্ণ। তবে হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক পর্যটক। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পাশাপাশি ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া খাবারের মান নিয়ন্ত্রণসহ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বিচগার্ড কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি। এজে/পি
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
রাঙামাটি শহরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজ বনবিহার এলাকায় হাজারেরও বেশি বানর সঠিক সংরক্ষণ ও খাদ্যাভাবে রয়েছে। খাবারের অভাবে বানরগুলো বিহার এলাকায় পরিদর্শনে আসা মানুষের নিকট থেকে খাবার কেড়ে খায়। স্থানীয়রা জানান, রাঙামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান রাজবন বিহারের আশপাশে বিচরণ করে শত শত বানর। পর্যটকদের আনন্দ দেয়া এই বানরগুলো রয়েছে খাবার কষ্টে। খাদ্য চাহিদা পূরণে কোনও ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বনবিভাগ। এদিকে রাঙামাটি রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, বানর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে রাঙামাটি বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মো. ছানাউল্ল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, বানরগুলো যেখানে আছে সেখানেই নিরাপদ রয়েছে। বানরের সংরক্ষণ করা গেলে জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটি আরও দর্শনীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এজে/এসএস
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
আরও পড়ুন
যেসব দেশে ক্রিসমাস উদযাপন নিষিদ্ধ
খাশোগি হত্যা মামলা: সৌদির যুবরাজের সহকারীরা খালাস
৬ হাজার সৌদি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলো টুইটার
চলতি বছরে চতুর্থবারের মতো সৌদি সফরে ইমরান খান