ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পেঁয়াজ ও মসলা চাষে ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত চাষীরা

আজিজুর রহমান পায়েল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪১ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক কৃষক জমিতে লাঙল দিয়ে চাষ দিচ্ছেন, ছবি: আরটিভি অনলাইন

পেঁয়াজ ও মসলা চাষে সরকারের স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকরা। এই ঋণ বরাদ্দের বেশিরভাগই ব্যাংকে অলস পড়ে আছে।

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ঋণ সুবিধা দেয়ার জন্যে যথাসময়ে কৃষকদের তালিকা দিলেও ব্যাংক উদাসীনতা দেখাচ্ছে ঋণ বিতরণে। তাদের অনাগ্রহের কারণেই ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় জেলা কৃষি ঋণ বিতরণ কমিটির সভায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন কৃষি কর্মকর্তারা। অন্যদিকে কৃষকরা এই ঋণের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

এ বছর মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাংকগুলো এই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরুই করেনি। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে এ ঋণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য মসলা জাতীয় ফসল আবাদের মৌসুম। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি ব্যাংকে এই ঋণ বরাদ্দ এসেছে ২১ নভেম্বর।

সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে এই ঋণ বিতরণে নানা অজুহাত দেখান ব্যাংক কর্মকর্তারা। নবীনগর উপজেলার গোসাইপুরে কৃষি ব্যাংকে গিয়ে জানা যায়, গত অর্থবছরে তাদের চার শতাংশ ঋণের বরাদ্দ ছিল ২ লাখ টাকা। এ থেকে মাত্র ১ জনকে এই ঋণ সুবিধা দিয়েছেন তারা। কুতুব মিয়া নামের চর গোসাইপুর এলাকার কৃষক পান ২০ হাজার টাকা। তাও আলু চাষের বিপরীতে এই ঋণ দেয়া হয়।

এবিষয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকরা ১০-২০ হাজার টাকা ঋণের জন্য আসে না এবং তাদের আগ্রহও কম। তাছাড়া পেঁয়াজ বা মসলায় ঋণের পরিমাণ কম হওয়াটাও একটি বিষয়। ২০১৬-’১৭ অর্থবছরে এক একর জমিতে আলু চাষের জন্য ঋণ বরাদ্দ দেয়া হয় ৬১ হাজার ২৪০ টাকা। আর একই পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষের জন্য বরাদ্দ ৪৬ হাজার ৫৭৯ টাকা। সে কারণে বেশি টাকা পেতে মসলার পরিবর্তে কৃষকরা আলু বা অন্য কিছুর চাষ দেখিয়ে ঋণ নেয়।

ব্যাংক ম্যানেজার জগদীশচন্দ্র আচার্য জানান, গত বছর ২ লাখ টাকা বাজেট পেয়েছিলেন। এ বছর এখনও পাননি। ছোট ছোট ঋণ ৫-১০ হাজার টাকা কৃষকরা নিতে আসেন না।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আগের ঋণের কারণে অনেকে এই ছোট ঋণ নিতে আগ্রহী হয় না। কৃষি অফিস তালিকা দিলেও আমরা তদন্ত করে ঋণ দেই। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনও তালিকা দেয়নি।

কৃষি ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন জানান, গত ২১ নভেম্বর ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন তারা। যা তাদের ২৮টি শাখায় বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক শাখায় ১ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। তবে আউলিয়া বাজার, পাহাড়পুর, নূরপুর, সাতবর্গ ও আখাউড়া শাখায় বরাদ্দ বেশি দেয়া হয়েছে। গত বছর একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল মতিন জানান, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মসলা ঋণ দেয়া হয়। এবার ১১ লাখ টাকা বাজেট পেয়েছেন তারা। যা ৬টি শাখার মাধ্যমে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা এসব কথা বললেও বাস্তব চিত্র অন্যরকম। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত জেলা কৃষি ঋণ বিতরণ কমিটির এক সভায় ৪ শতাংশ হারে মসলা জাতীয় ঋণ বিতরণ শতভাগ না হওয়ায় জনতা, অগ্রণী ও উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই সভায় অর্থবছর শুরুর দিকের একটি ঋণ বিতরণ চিত্র পেশ করা হয়। যাতে দেখা যায়, সোনালী ব্যাংক ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও তাদের বিতরণের হার ছিল তখন শূন্য। অগ্রণী ব্যাংকের বরাদ্দপ্রাপ্ত ২ লাখ টাকার মধ্যে বিতরণ হয়নি ১ টাকাও। উত্তরা ব্যাংক তাদের প্রাপ্ত বরাদ্দের অর্ধেক বিতরণ করে। মোট ১৪ লাখ টাকার মধ্যে বিতরণ হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বিতরণের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ওই অর্থবছরে ৪ শতাংশ ঋণ দেয়ার জন্য ১৬১ জন ডাল চাষি, ৪৪৭ জন তেল চাষি, ৩৩৩ জন মসলা চাষি, ২৮ জন ভুট্টা চাষির নামের তালিকা ব্যাংকে দিয়েছিল।

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু নাছের বলেন, মসলা জাতীয় ফসল চাষে উৎসাহ প্রদান এবং আমদানি হ্রাস করার জন্যে এই প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকের দায়িত্ব হলো ঋণটা প্রদান করা। এটার পুরোপুরি দায়িত্ব তাদের। আমরা যেহেতু কৃষকের কাছে আছি সে কারণে আমরা কৃষকের তালিকা করে তাদের কাছে দিচ্ছি। জেলা ঋণ বিতরণ কমিটিতে আলোচনার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা এই তালিকা করে দিচ্ছি। কিন্তু এমন কোনও নিয়ম নেই তালিকা আমাদের দিতে হবে। তারপরও স্বউদ্যোগে তালিকা করে তাদের কাছে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে জেলার ৭টি উপজেলায় ডাল ফসলের জন্যে ৩৪ জন, তেল ফসলে ২৮৩ জন, মসলার জন্য ২০৯ জন ও ভুট্টা চাষে ঋণ প্রদানের জন্য ৩ জনের নামের তালিকা করে তারা ব্যাংকে পাঠিয়েছেন।

তবে গত দুইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিরামপুর, সিন্দুউড়া ও নবীনগর এলাকার গোসাইপুর ঘুরে দেখা গেছে এই ঋণ সম্পর্কে কৃষকরা জানেন না। এসময় ১৫-২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হয় আরটিভি অনলাইনের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। যাদের সবাই মসলা জাতীয় ফসল আবাদ করেন।

সিন্দুউড়ার আবিদ মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানি না। এ গ্রামের শাহ আলম মিয়া নামের আরও একজন কৃষক বলেন, ঋণ পেলে ভালো হতো। সাচ্চু মিয়া নামের আরেকজন বলেন, সরকার সুযোগ-সুবিধা দিলে আরও বেশি বেশি ফসল লাগাইতাম। ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে ৭-৮ বছর আগে ৩ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছিলাম। এরপর আর কোনো ঋণ পাইনি।

এজে/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত রোগটির নাম ডেঙ্গু। অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এটি জুন থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। এখনো রয়েছে এর প্রাদুর্ভাব। এখনো প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। আতঙ্ক থাকবে আগামী বছরেও। এ বছর ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তার দেশের প্রায় সব জায়গায় ঘটেছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এখন থেকে সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গু থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নির্মূলে সব সময় তৎপর থাকবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। তাদের তথ্য মতে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ১৪৮ জনের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর বিপরীতে শুধু চলতি বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী ২০১৯ সালের শুরু থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সংরক্ষিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩, আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬, সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬, অক্টোবরে ৮ হাজার ১৪৩ এবং নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ১১ জন ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১৬ জন। এতে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে জুন ও জুলাইয়ে ক্রমশ তীব্র হয়ে আগস্টে রোগটি মারাত্মক রূপ নেয়। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তাররোধে ভবিষ্যতে সব সময় তৎপর থাকবেন তারা। এজে
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকের বেশির ভাগেরই আবার বৈধ কাগজপত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাত্র ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চক্ষু হাসপাতাল ও দন্ত চিকিৎসালয় গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাব রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ করেছেন এখানকার মানুষেরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। এদিকে শহরে এসব ব্যক্তি মালিকানাধীন চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন রোগীরা। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কবলে পড়ে রোগীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট নেই। আবার অনেকের অভিযোগ ডাক্তার ও নার্সের অজ্ঞতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তবে ভৈরব বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মফস্বলে কাজ করতে যেয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোর সমাধান পর্যায়ক্রমে করা হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নানা অসঙ্গতি এবং অনিয়মের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এজে  
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
বাগেরহাটের মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার মানুষেরা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দিন দিন হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দু’জন চিকিৎসক। ফলে সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বাগেরহাটের মোল্লাহাটের সাতটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতালটি।  পরে ১৯৮৬ সালে এটি ৩১ শয্যায় উন্নীত হয়। আর এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি হাসপাতালটিতে আসন সংখ্যা বাড়লেও  সেবার মান বাড়েনি। বরং সেটি দিনকে দিন তলানির দিকে যাচ্ছে। ফলে এখানে সেবা নিতে এসে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়াও নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে ময়লা আবর্জনা। এদিকে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি। এজে/এসএস
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন লাখো পর্যটকে মুখরিত। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের উপযুক্ত সময় হওয়াতে সৈকতে আনন্দ উপভোগে কমতি নেই পর্যটকদের। আর তাদের নিরাপত্তায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে সাগরের নীল জলরাশিতে অবিরত ঢেউয়ের মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানী সমুদ্র সৈকত, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দিরেও পর্যটকে মুখরিত। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস আর কটেজগুলোতে পর্যটকে পরিপূর্ণ। তবে হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক পর্যটক। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পাশাপাশি ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া খাবারের মান নিয়ন্ত্রণসহ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বিচগার্ড কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি। এজে/পি
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
রাঙামাটি শহরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজ বনবিহার এলাকায় হাজারেরও বেশি বানর সঠিক সংরক্ষণ ও খাদ্যাভাবে রয়েছে। খাবারের অভাবে বানরগুলো বিহার এলাকায় পরিদর্শনে আসা মানুষের নিকট থেকে খাবার কেড়ে খায়। স্থানীয়রা জানান, রাঙামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান রাজবন বিহারের আশপাশে বিচরণ করে শত শত বানর। পর্যটকদের আনন্দ দেয়া এই বানরগুলো রয়েছে খাবার কষ্টে। খাদ্য চাহিদা পূরণে কোনও ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বনবিভাগ। এদিকে রাঙামাটি রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, বানর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে রাঙামাটি বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মো. ছানাউল্ল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, বানরগুলো যেখানে আছে সেখানেই নিরাপদ রয়েছে। বানরের সংরক্ষণ করা গেলে জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটি আরও দর্শনীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এজে/এসএস
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
আরও পড়ুন
বিনা সুদে কৃষিঋণ দিতে হবে
নতুন বছরে সুদের হার এক অঙ্কে আসবে: অর্থমন্ত্রী
বাড়ি বানাতে ঋণসীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠেছে অসংখ্য ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান