ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

অলিম্পিকের মঞ্চ ছেড়ে মুক্তির লড়াই

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ তিতাস

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪১ পিএম
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৫০ পিএম
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মিরাজ উদ্দিন

আজ বলছি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মিরাজ উদ্দিন আমার শ্রদ্ধেয় কাকার কথা। আদি বড়ি, পুরাতন পাকা মসজিদ পাঞ্জনখাড়া গড়পাড়া মানিকগঞ্জ হলেও দাদা মরহুম শরিফ উদ্দিন আহমেদ হরিরামপুরে বসবাস করছেন। পাকিস্তান অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী বাঙালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বলতম অ্যাথলেট শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিরাজউদ্দিন বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছেন।

বিজয়ের ৪৯ তম বর্ষে জাতীয়ভাবে তো নয়ই; তার জন্মভূমি মানিকগঞ্জেও আলাদা করে কেউ তাকে স্মরণ করেনি ।

মানিকগঞ্জ স্টেডিয়ামের নামফলকে শহীদ তপনের সঙ্গে যৌথভাবে অঙ্কিত আছে তার নাম ‘শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়াম’ প্রাপ্তি এটুকুই। প্রবীণেরা মোটামুটি চিনলেও এ প্রজন্মের যারা স্টেডিয়ামে আসেন, তারা মিরাজ নামটাই শুধু জানে। এর বেশি কিছু জানে না। তারা জানে না মিরাজের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড় জীবন বা যোদ্ধা জীবনের এক বর্ণও। জানাবার কোনও উদ্যোগও নেই।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাটিকান্দা গ্রামে জন্মেছিলেন তিন। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ের সেরা ক্রীড়াবিদ এ.কে.এম. মিরাজউদ্দিন (আলোক)।
মাত্র ১১ বছর বয়সে হারিয়েছিলেন বাবা শরীফ উদ্দিন আহমেদকে। মা মরহুমা হাজেরা খাতুন তাকে বড় করেছেন মানুষের মতো করে।

মিরাজের লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হরিরামপুরের লেছরাগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে। প্রাইমারি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন হরিরামপুরে পাটগ্রাম অনাথবন্ধু হাইস্কুলে। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করে ভর্তি হন ঢাকার নবকুমার ইন্সটিটিউটে। এরপর জগন্নাথ কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অসাধারণ গড়নের সুদর্শন মিরাজের ক্রীড়া খ্যাতি ঝলসে উঠেছিল স্কুল জীবনেই। তার প্রিয় ইভেন্ট ছিল পোলভল্ট, হার্ডলস এবং লং জাম্প।

১৯৬৩ সালে আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে এ তিনটি ইভেন্টে প্রথম হয়ে ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছিলেন মিরাজ। ১৯৬৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি।
১৯৬৫ সালে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ঢাকার জগন্নাথ কলেজের হয়ে ১১০মিটার হার্ডলস, পোলভল্ট এবং লং জাম্পে নতুন জাতীয় রেকর্ড স্থাপন করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত দশম পাকিস্তান অলিম্পিকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন মিরাজ। পোলভল্টে পাকিস্তান অলিম্পিক রেকর্ড করে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের বাঙালি খেলোয়াড়দের মধ্যে মিরাজই একমাত্র স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিস্ময়ের বিষয় ছিল মিরাজ ১২ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা অতিক্রম করেছিলেন বাঁশের পোল (লম্বা লগা) দিয়ে। সে সময়ের পাকিস্তান দলের অ্যাথলেটিক্স কোচ জার্মানির হফম্যান বলেছিলেন ‘এই ছেলেটি একটি ফাইবার পোল পেলে এশিয়ান গেমসের রেকর্ডও ভাংতে পারবে।’

বাঁশের পোল দিয়ে মিরাজের গড়া সেই রেকর্ড বহুবছর কেউ ভাঙতে পারেনি। ১৯৭০ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এ তিনটি ইভেন্টে প্রথম হয়ে ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছিলেন মিরাজউদ্দিন। একই বছর করাচি হকি ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ পাকিস্তান জাতীয় গেমসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ক্রীড়াদলের পতাকা হাতে মার্চপাস্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের সেরা অ্যাথলেট হিসেবে মিরাজকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নিজেকে আটকে রাখেননি মিরাজ। অসাধারণ জনপ্রিয়তা আর বন্ধু বাৎসল্য দিয়ে রাজনীতির মাঠও জয় করছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মিরাজউদ্দিন ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হয় মুক্তির লড়াইয়ে । ২৫ মার্চের কালোরাত্রি সব কিছু উল্টে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলসহ শহরে অলিগলির নির্বিচার গণহত্যার শিকার হয়।
কালমাত্র বিলম্ব না করে ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে আসেন হরিরামপুর গ্রামে মায়ের কাছে। গ্রামে বসে সংগঠিত করতে থাকেন তরুণদের। মুক্তির লড়াই করতে হবে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিক। খবর আসে মানিকগঞ্জ ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে হরিরামপুরে ঘাঁটি গেড়েছেন মানিকগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল হালিম চৌধুরী। বিধবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সোজা মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন হালিমের কাছে হাজির হয়ে যান মিরাজ।

পোলভল্টের বাঁশের পোল ধরা হাতে আঁকড়ে ধরেন অস্ত্র। একটির পর একটি গেরিলা যুদ্ধ। আসতে থাকে জয়। যুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার তবারক হোসেন লুডু ভাইয়ের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ঘটে ঐতিহাসিক গোলাইডাঙ্গা যুদ্ধ।

১৯৬৬ সালে লাহোর স্টেডিয়ামে পোলভোল্টরত মিরাজ উদ্দিন

টাইগার লোকমান, নবাবগঞ্জের মনসুর আর মিরাজ কাকাদের মরণপণ হামলায় নিহত হয় ৮১ জন খান সেনা। ২ নভেম্বর ১৯৭১। যুদ্ধজয়ের নেশায় উন্মত্ত মিরাজদের উপর দায়িত্ব পড়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বানিয়াজুরি ব্রিজ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার। রাতের আঁধারে শুরু হয় অপারেশন কিন্তু বিধিবাম। ব্রিজে ডিনামাইট বসাতে গিয়ে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান মিরাজ।

তাকে চিনতে দেরি হয়নি হানাদারদের, বন্দী মিরাজকে মানিকগঞ্জের ক্যাম্পে না নিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার আর্মি হেড কোয়ার্টারে। এখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলে নির্মম নির্যাতন। হাজারও নির্যাতনের মুখে মিরাজের কাছ থেকে সহযোদ্ধাদের খবর বের করতে পারেনি তারা। এরই এক পর্যায়ে আহত মিরাজকে দেখানো হয় পাকিস্তান টেলিভিশনে। পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দুষ্কৃতি হিসেবে। জোর করে বলানো অনেক কথা। তারপর তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
১৭ ডিসেম্বর স্বাধীনতার আনন্দে উদ্বেল, স্বর্ণরাঙা সকালে মিরাজের ভাইসহ পরিবারের সবাই ছুটে যান কেন্দ্রীয় কারাগারে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে নির্মম সত্যটি জানিয়ে দেন-মিরাজ তাদের কাছে নেই।

৮ ডিসেম্বর সকালে আলবদর বাহিনীর পরিচালক মেজর মোস্তাক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মিরাজকে মুক্ত করে পাকবাহিনীর জিপে করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আজও তার কোনও খোঁজ মেলেনি। আলবদর বাহিনী ক্রীড়াঙ্গনের এই নক্ষত্রকে চিনতো বলেই তাকে নিভিয়ে দেওয়ার কথা ভুলেনি।

পাকিস্তান আমলে মিরাজের মত উজ্জ্বল নক্ষত্র ক্রীড়াঙ্গনে খুব বেশি ছিল না। যাকে নিয়ে আজ ১৭ কোটি বাঙালি গর্ব করতে পারতো। সেই গর্বের মিরাজ আজ তার রক্তে স্বাধীন ভূমিতেই বিস্মৃত এক অতীত। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াবিদ হিসেবে।
উল্লেখ্য যে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মিরাজ উদ্দিন এর আপন ছোট ভাই ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সিরাজ উদ্দিন মিলন।
এ কে এম সিরাজ উদ্দিন মিলন ২০১৬ সালে ইন্তেকাল করেন। মানিকগঞ্জ টাউনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি । সেই সাথে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই শ্রদ্ধা, সালাম এবং বিজয়ের শুভেচ্ছা ।

লেখক

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মিরাজ উদ্দিনের চাচাতো ভাতিজা

ওয়াই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বল্প মেয়াদে ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দিতে চায় বিসিবি
চলতি বছরের ২১ আগস্ট বাবার মৃত্যুর কারণে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ ক্রেইগ ম্যাকমিলান আসেননি বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে তার ক্যারিয়ার শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়। তার আগে পারিবারিক কারণে ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান নেইল ম্যাকেঞ্জি। তাই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং কোচের পদ শূন্য পড়ে আছে। যদিও এই সময়টায় কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেনি বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসছে বাংলাদেশ সফরে। রয়েছে ২টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ। তাই এই কম সময়ে দীর্ঘ মেয়াদী কোচ নিয়োগ না দিয়ে বিসিবি হাঁটছে স্বল্প মেয়াদের দিকে। আপাতত তাই শুধু জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও মার্চে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য কোচ নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। স্বল্প মেয়াদে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ নিয়োগের ব্যপারে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স আকরাম খান সংবাদ মাধ্যমকে, ‘আমরা দীর্ঘ মেয়াদের জন্যই চেষ্টা করছি। এখানে কিছু বিষয় আছে। কোভিড-১৯ আছে তাছাড়া এখানে অনেক দিন থাকতে চায় না। আমরা আলাপ করছি। আশা করি দুই এক দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’ এই ক্ষেত্রে বিসিবি'র পছন্দের তালিকায় সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার জন লুইস। উইন্ডিজরা সফরে আসার আগেই লুইসের ঢাকা আসার কথাও রয়েছে। এমআর/
স্বল্প মেয়াদে ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দিতে চায় বিসিবি
সিডনি টেস্টের আগে ভারতীয় দলে দুঃসংবাদ
একের পর এক পেসার বাদ পড়ছেন দল থেকে। প্রথমে মোহাম্মদ শামি এরপর উমেশ যাদব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাকি রয়েছে আরও দুই টেস্ট। তার আগে উমেশের বাদ পড়া নিশ্চিতভাবেই ভোগাবে সফরকারীদের। উমেশ চোটে পড়েন মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয় দিনে। দ্বিতীয় ইনিংসের ৩.৩ ওভারের মাথায় ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তার আগে নেন জো বার্নসের উইকেট। যদিও প্রথম ইনিংসে ১২ ওভার করেও পাননি কোনো উইকেট। উমেশের বাদ পড়াতে সফরকারীদের বোলিং আক্রমণ অনেকটা অভিজ্ঞতা শূন্য হয়ে পড়েছে। বাকি রয়েছেন কেবল অভিজ্ঞ জাসপ্রিত বুমরাহ। বুমরাহকে অনেক অভিজ্ঞ বললেও ভুল হবে, খেলেছেন মাত্র ১৬টি টেস্ট। প্রথম ম্যাচে চোটে ছিটকে পড়া শামীর জায়গায় দ্বিতীয় ম্যাচে অভিষেক হয়েছে মোহাম্মদ সিরাজের। এখন উমেশের বিদায়ে দলে যোগ করা হয়েছে নবদিপ সাইনি, শার্দুল ঠাকুরকে ও নেট বোলার হিসেবে দলের সঙ্গে থাকা টি নটরাজনকেও। আগামী ৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিডনিতে। এরপর ১৫ জানুয়ারি থেকে ব্রিজবেনে শুরু সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্ট। এর আগে অনুষ্ঠিত হওয়া দুই টেস্টের ১টি ভারত ও ১টি অস্ট্রেলিয়া জিতেছে। এমআর/
সিডনি টেস্টের আগে ভারতীয় দলে দুঃসংবাদ
এফএসি সনদ পেলেন বাফুফের প্রোটোকল ম্যানেজার ইমরান হোসেন তুষার
এএফসি ফুটবল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের (এফএসি) ষষ্ঠ সংস্করণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রোটোকল ম্যানেজার ইমরান হোসেন তুষার। তাই এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তাকে সনদপত্র প্রদান করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাফুফে বিষয়টি জানিয়েছে। এএফসি ফুটবল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (এফএসি) ফুটবলের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে। যা ভবিষ্যতে এএফসি সদস্য সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞ সংগঠক তৈরিতে সহায়তা করবে।  পরীক্ষার্থীরা নয় মাসের প্রোগ্রামে তিনটি ত্রৈমাসিক সেশনের সরাসরি সেমিনার এবং নয় মাস অনলাইনে কোর্স সম্পন্ন করে। ইংরেজি ভাষায় সম্পন্ন হওয়া পুরো সেশন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  এফএসির বিশেষ এই প্রোগ্রামে সাতটি মূল মডিউল রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক যুগোপযোগী ফুটবল পরিচালনা কৌশল এবং প্রশাসনের সেরা অনুশীলন নিশ্চিত করার জন্য সাজানো হয়েছে।  এই মূল মডিউলগুলি হলো: বিশ্ব ফুটবলের সংগঠন, ফুটবলে কৌশলগত পরিচালনা, ফুটবলে আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা, ফুটবলে ইনকাম জেনারেশন, মিডিয়া এবং যোগাযোগ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং অপারেশনাল/ফুটবল পরিচালনা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ সিনিয়র সহ সভাপতি, সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বাফুফের সংশ্লিষ্টরা ইমরান হোসেন তুষারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে। ওয়াই
এফএসি সনদ পেলেন বাফুফের প্রোটোকল ম্যানেজার ইমরান হোসেন তুষার
ম্যানসিটির পর এবার ভেস্তে গেল টটেনহ্যামের ম্যাচও
ইংল্যান্ডে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায়ভাইরাসে শনাক্ত হওয়ার সংবাদ আসার পরই টটেনহ্যাম ও ফুলহ্যামের ম্যাচটি পণ্ড হলো।  বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় (বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায়) ম্যাচটি লন্ডনের টটেনহাম হটসপার স্টেডিয়ামে বসার কথা ছিল। ম্যাচের আগেই স্পার্সদের কোচ হোসে মরিনহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন মাঠে বল গড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা। শেষ পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক বিবৃতিতে টটেনহ্যাম পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘরের মাঠে ফুলহ্যামের বিপক্ষে হতে চলা ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাবটি আরও জানায়, ফুলহ্যাম দলের একাধিক খেলোয়াড় ও স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের অনুরোধে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের দিন একই কারণে ম্যানচেস্টার সিটি ও এভারটনের ম্যাচটিও মাঠে গড়ায়নি। এই ম্যাচগুলো কবে গড়াবে, সেটি জানার জন্য ভক্তদের চেয়ে থাকতে হবে ইংলিশ লিগের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। ওয়াই
ম্যানসিটির পর এবার ভেস্তে গেল টটেনহ্যামের ম্যাচও
বছরের শেষ ম্যাচ লিভারপুলের ড্র
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বছরের শেষ ম্যাচ লিভারপুল ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ম্যাচটি গোল শূন্য ড্র হয়েছে। এ হারের মধ্য দিয়ে টানা পাঁচ জয়ের পর পয়েন্ট হারাল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।   বুধবার প্রতিপক্ষের মাঠে বল দখলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা একচেটিয়া আধিপত্য করলেও শুরুতে আক্রমণে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না। তবে উভয় দল একাধিক গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গোল শূন্য ড্র হয় ম্যাচটি।  ১৬ ম্যাচে নয় জয় ও ছয় ড্রয়ে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে লিভারপুল। এক ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৪তম স্থানে নিউক্যাসল। ওয়াই
বছরের শেষ ম্যাচ লিভারপুলের ড্র