
আর কোনও সমীকরণ নেই, নেই কোনও অঙ্ক। এখন শুধুই জয়ের অঙ্ক মেলানোর পালা দু’দলের সামনে। দিন শেষে একটা দল উঠে যাবে ফাইনালে আর মন খারাপ করে বাড়ি ফিরতে পরাজিত দল।
গ্রুপ পর্বের কঠিন সব লড়াই আর সমীকরণ পার করে সেরা চারদলের লড়াই শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আবুধাবিতে প্রথম সেমি-ফাইনালে লড়বে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচ উইনারে ভরপুর দুই দলই নিজেদের সাম্প্রতিক সাফল্য স্মরণে নিয়ে আরেকটি সাফল্যের দিন উপহার দেওয়ার অপেক্ষায়। আজকের দুই সেমিফাইনালিস্ট চেনা দুই প্রতিপক্ষ।
ওয়ানডেতে দুই প্রতিপক্ষের ৯১ ম্যাচের দেখায় নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৪৩টি আর ইংল্যান্ড জিতেছে ৪১টিতে। তবে টি-টোয়েন্টিতে বেশ এগিয়ে ইংল্যান্ড। দুই দলের ২১ বারের লড়াইয়ে ১২টি জিতেছে ইংলিশরা আর কিউইরা জিতেছে মাত্র ৭ ম্যাচে। ইংলিশদের এই ১২ জয়ের মধ্যে বিশ্বকাপ ২০১৬ আসরের সেমিফাইনালের ম্যাচটিও রয়েছে।

তবে নিউজিল্যান্ডের সামনে অনেক সমীকরণ মেলানোর ম্যাচ আজ।২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের নাটকীয় সেই ফাইনালের শোধ নেওয়ার বড় সুযোগ এসেছে নিউজিল্যান্ডের সামনে।ফাইনালের হারের সেই ক্ষত হয়তো পুরোপুরি মুছতে পারবে না তবে হারের শোধ নেওয়ার অনেক বড় মঞ্চই পেয়ে গেল কিউইরা। তবে কিউইদের আবারও হারিয়ে ইংলিশরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখারও বড় সুযোগ এই ম্যাচ।
চলতি বিশ্বকাপে মূল পর্বের আগেই অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল দু’দল। এই ম্যাচেও জিতেছিল ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬৩ রান করেছিল ইংলিশরা। জস বাটলার ওই ম্যাচে খেলেন ৫১ বলে ৭৩ রানের ইনিংস। কিউই লেগ স্পিনার ইশ সোধি ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ১৩ রানে হেরে যায় ম্যাচ (১৫০/১০)। এদিন মার্টিন গাপটিলের ২০ বলে ৪১ ছাড়া ব্যর্থ হন বাকিরা।
প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতাটা ইংল্যান্ড দারুণ ভাবে নিয়ে আসে মূল পর্বে। টানা চার জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলেও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে ছিল অনেক সমীকরণ। সেসব পেছনে ফেলে এখন ইংলিশরা সেমিতে।
অন্যদিকে কিউইদেরও মেলাতে হয়েছে নানা সমীকরণ। ভারতের মতো দলকে বিদায় করেছে, জয় করেছেন আফগানদের স্পিন শক্তিও।
তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর সবশেষ তিনটি আইসিসি ইভেন্টে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। যদিও অতীত টানতে চাইছেন না ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মর্গ্যান। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মরগ্যান বলেছেন, ‘অতীত আপাতত মনে করতে চাচ্ছি না। আমরা দুর্দান্ত ভাবে সেমিফাইনালে এসেছি এতে কোন সন্দেহ নেই। আমরা যে পরিকল্পনায় এখানে এসেছি সেটি এই ম্যাচেও ঠিক রাখতে চাই। সেমিফাইনালেও বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের শিক্ষা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
এদিকে নিউজিল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকবে ইংলিশদের ইনফর্ম ওপেনার জেসন রয়ের না থাকাটা। রয়ের সঙ্গে নেই টায়মাল মিলসও। তবে এসব নিয়ে মোটেও ভাবছেন না মরগ্যান।
ইংল্যান্ড শিবিরে কে আছে কে নেই এসব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কিউই অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের। ভাবছেন না ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে কী হয়েছিল সেসব নিয়েও।
কিউই অধিনায়কের ভাবনায় শুধুই নিজেদের উন্নতি আর ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়া। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘হ্যা, আমরা ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেছি। ওই ম্যাচ আমাদের পক্ষে ছিল না। তবে টি-টোয়েন্টিতে এই ৫ বছরে আমরা আরও উন্নত হয়েছি। আমাদের দলে কিছু অসাধারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার এসেছে যা দলটিকে অনেক শক্তিশালী করেছে। এখন আমরা বড় দলের সঙ্গে বড় কিছু ভাবতে পারি। আর এই ম্যাচে কোনদিক দিয়ে আমরা জিততে পারি এই প্রশ্নর জবাবে বলব ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভালো খেলা। যেকোনো ফরম্যাটেই হোক বাজে পারফর্ম আপনাকে জেতাতে পারবে না। তাই আমরা এ ম্যাচেও এই ফোকাস রাখবো।’
দুই অধিনায়কের ভাবনা দুইরকম হলেও দু’জনের জন্যই যে জয়টা মুখ্য। শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি নিয়ে কারা মাঠ ছাড়বে সেই মূহুর্তের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।
এমআর/




