
দেশের ক্রীড়াঙ্গণে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির আশায় আরচার মোহাম্মদ হাকিম আহমেদ রুবেল ও দিয়া সিদ্দিকি। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে চলমান ২২তম এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে আগামীকাল (১৯ নভেম্বর) সমাপনী দিনের তৃতীয় ইভেন্ট রিকার্ভ মিশ্র দ্বৈতের ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশের রুবেল-দিয়া জুটি। এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিনশিপে প্রথমবারের মতো কোন ইভেন্টের ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কোরিয়ার রিউ সু জুং-লী সিউং ইউন জুটি।
গত মঙ্গলবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে বাংলাদেশের রুবেল ও দিয়া জুটি ৫/৪ সেট পয়েন্টে ভারতের অঙ্কিতা ভক্ত-কপিল জুটিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। বুধবার রিকার্ভ দলগত মহিলা ও পুরুষ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে এশিয়ান আসরে প্রথমবারের মতো পদক তালিকায় নাম লেখায় বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা। যে কারণে আগামীকাল প্রত্যাশার পারদ আরও ওপরে উঠেছে আরচারি সংশ্লিষ্টদের।
ইতিহাস গড়ার আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের দুই আরচাররাই। গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড কাপ (স্টেজ-২) আরচারিতে ফাইনালে খেলেছিলেন দিয়া সিদ্দিকি ও রোমান সানা জুটি। সেবার স্বর্ণবঞ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার আর পিছনে ফিরে তাকাতে চান না রুবেল-দিয়া।
আগামীকাল ফাইনালে খেলার আগে গণমাধ্যমকে দিয়া বলেন, ‘মেন্টালি আমি প্রিপেয়ার্ড আছি যে, আমরা আমাদের বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করব। কোচদের ইন্সপিরেশন্সে আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। আমার বিশ্বাস আছে, আমি আমার সেরাটা দিতে পারলে কোরিয়াকে হারানো সম্ভব।’
যেকোনো খেলায় মানসিক বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দিয়া আরও বলেন, ‘আমি যেটা বলব মেন্টাল, মেন্টালি সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়, শান্ত থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা, বেশি নার্ভাস হওয়া যায় না। নরমালি আমাদের গেমের সময় সবারই একটু নার্ভাসনেস কাজ করে। কারও বেশি, কারও কম। আমার আর রুবেল ভাই দুজনেরই দুজনের ওপর বিশ্বাস আছে। আমরা যদি দুজনের বিশ্বাস আর কো-অর্ডিনেশন ধরে রাখতে পারি, টিম ওয়ার্ক ঠিক থাকে তাহলে হয়তো ভালো কিছুই হবে।’
এবারের আসরে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি হাকিম আহমেদ রুবেল। রোমান সানাকে টপকে ফোকাসে চলে আসেন কুড়িগ্রামের এ আরচার। আগামীকালের ফাইনাল নিয়ে কোনো চাপ নিচ্ছেন না এ তরুণ। তিনি বলেন, ‘আমি ওরকমভাবে কোনো চাপ নিচ্ছি না। কারণ, নিজেদের মধ্যেই খেলব। আর এমন না যে কোরিয়ার সঙ্গে প্রথম ম্যাচ। আমরা জানি তারা অনেক ভালো খেলোয়াড়, তবে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।
প্রতিটা গেমের পেছনে একটা টিম ওয়ার্কের প্রয়োজন। যেটা একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেকটা খেলোয়াড়ের মতামত, যাচাই-বাছাই বা কম্বিনেশন যেটা বলে, সেটা ঠিক হওয়া উচিত। দিয়া আর আমি যখন প্রতিটা অ্যারো শুট করি, নিজেদের ভেতর একটা কথোপকথন করে নিই। বলি যে দেখো খেলাটা ওদের সঙ্গে হচ্ছে না। মনে করো তোমার আর আমার মাঝে হচ্ছে। এ রকম করে নিজেদের মাঝে একটা অনুশীলনের মতো করেই খেলব। এভাবেই আমরা চালাচ্ছি।’
টিএন/টিআই




