
সেই ২০০৭ সালে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এরপর সাদা পোশাকে দুই দলের কখনও দেখা হয়নি। তবে সিরিজ আয়োজনের জন্য অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি। প্রতিবেশী দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই অপেক্ষা সামনেও পূরণ হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
এই দুই দলকে একত্রিত করার জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়েছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড। তারই ধারাবাহিকতায় এবার একটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার। ঐতিহ্যবাহী মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (এমসিজি) ভারত-পাকিস্তান টেস্ট আয়োজন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির রাজ্য সরকার।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে দর্শকের ঢল নেমেছিল এমসিজিতে। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচ সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করায় আবারও এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করতে চায় মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এ জন্য ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নিরপেক্ষ টেস্ট আয়োজনে চেষ্টা চালাচ্ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা চলাকালে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ফক্স রেডিওতে কথা বলার সময় এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমসিসি একটি নিরপেক্ষ টেস্ট আয়োজনের বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে কথা বলছে।
আরও পড়ুন : ইমরান-রমিজের কারণে রাতে ঘুমাতে পারেন না পিসিবি প্রধান
ফক্স বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। আমরা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও সরকারের কাছে আবেদন রেখেছি। দেখা যাক কী হয়। আশা করি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রস্তাবটিকে আইসিসির কাছে নিয়ে যাবে এবং এটির জন্য চাপ দেবে।’
টেস্টে তো দেখা নেই, এমনকি ২০১৩ সালের পর ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজে দেখা হয়নি। একমাত্র আইসিসির ইভেন্ট ও এশিয়া কাপ ছাড়া কোনো দুই দলের দেখা হয়না। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে সে সম্ভাবনাও খুব কম।
কিন্তু ফক্স বলছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এমসিজিতে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ দেখার জন্য ৯০ হাজার ২৯৩ জন সমর্থকের আগমন হয়েছিল। সে জন্য এমসিসি দুই দলের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন করতে ইচ্ছুক।’
আগামীতে ২০২৩ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ‘ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে’ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বি-পাক্ষিক ক্রিকেট সূচি নির্ধারিত নেই ৷ এমনকি ২০২৩ সালে এশিয়া কাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য একে অপরের দেশে দল পাঠাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। ফলে তারা যদি আগ্রহী হয়, তবেই আশার মুখ দেখবে এই ম্যাচ।




