
করাচি টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ও সফরকারী নিউজিল্যান্ড বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল। এরপরও ১৭৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। তবে স্কোরবোর্ডে দলীয় ৩১১ রানে থাকা অবস্থায় শেষ দিন বিকেলে সবাইকে চমকে দিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বসেন পাক অধিনায়ক বাবর আজম।
ম্যাচের শেষ সেশনে তখন নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫ ওভারে ১৩৮ রান। টি-টোয়েন্টির গতিতে ব্যাট চালিয়ে আত্মবিশ্বাসী কিউইরা খেলল সেভাবেই। প্রথম ৬ ওভারে ৫৫ রান তোলার পরই দেখা দিল অনাকাঙ্ক্ষিত এক সমস্যা। আকাশে আলোর স্বল্পতার কারণে সাত ওভার হতেই খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে টিম সাউদির দলকে জয়ের কিছুটা আশা জাগিয়েও নিষ্প্রাণ ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। দলীয় ১১০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে অধিনায়ক বাবর ও দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা সরফরাজ আহমেদ ১৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন।
সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে থাকা অবস্থায় ফেরারি ইনিংস উপহার দেন সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ। তবে বাবর টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে থামেন ১৬১ রানে। শেষদিকে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে আগা সালমান ক্যারিয়ারের অভিষেক সেঞ্চুরি তুললে ৪৩৮ রানে থামে পাকিস্তান।
বোলিংয়ে কিউইদের পক্ষে অধিনায়ক সাউদি ৩উইকেট নেন। এছাড়া অ্যাজাজ প্যাটেল, মাইকেল ব্রেসওয়েল ও ইশ সোদি নেন ২টি করে উইকেট।
এরপর কিউইরা ব্যাটিংয়ে নেমে টম লাথাম ও ডেভন কনওয়ে ওপেনিংয়ে ১৮৩ রানের জুটি গড়েন। কনওয়ে ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও লাথাম ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে দেন। তবে ১১৩ রানে থামে তার ইনিংস। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে উইলিয়ামসন দাঁড়িয়ে বাকিদের ছোট ছোট ইনিংসে ৯ উইকেটে ৬১২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড।
অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়েই উইলিয়ামসন তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে বোলিংয়ে লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ৫ ও নৌমান আলী ৩ উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১০০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। তবে দলকে পথ হারাতে দেননি সরফরাজ আহমেদ ও সউদ সাকিলরা। তখনও নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ৭৪ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। চাপটা ভালোভাবেই উতরে দিলেন ইমাম উল হক, সরফরাজ ও সউদ শাকিল। ইমামের ৯৬ রানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের সাথে বাকি দুই ব্যাটারের ফিফটিতে টেস্ট বাঁচিয়ে ফেলার মতো রান পেয়ে যায় পাকিস্তান।




