
ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে রাশিয়াকে ফুটবল থেকে নির্বাসিত করে ফিফা। যার কারণে সম্প্রতি শেষ হওয়া কাতার বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে অংশ নিতে পারেনি দেশটির ফুটবলাররা। এমনকি ইউরোপিয়ান কোনো টুর্নামেন্টেও অংশ নিতে পারছে না দেশটির ক্লাবগুলো।
ইউক্রেনে হামলার কারণে পশ্চিমারা বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে রাশিয়াকে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশই রাশিয়াকে গুঁড়িয়ে দিতে পশ্চিমাদের সঙ্গে বিরোধিতায় মিলিত হয়েছে। রাশিয়াকে পরাজিত করতে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউক্রেনকে বিজয় এনে দিতে চাচ্ছে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা) থেকে বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়ন। উয়েফা থেকে বেরিয়ে এসে এবার তারা যোগ দিতে চায় এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে (এএফসি)।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি এক বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তারা উয়েফা ছেড়ে এএফসিতে যোগ দেবে কি না।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার পর থেকে রাশিয়ার সব জাতীয় দল এবং ক্লাব ফিফা ও উয়েফা কর্তৃক নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এএফসিতে যোগ দিতে পারলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরতে পারবে বলে মনে করছেন।
দুমা প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর রোমান তেরিশকভ বলেছেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক যে পরিস্থিতি, তাতে উয়েফায় রাশিয়ার উপস্থিতি আমাদের দেশের জাতীয় স্বার্থের বিপরীত হয়ে যাচ্ছে। যেসব দেশ পুরোপুরি রাশিয়াবিরোধী অবস্থানে রয়েছে, তাদের সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পুরো পশ্চিমা দুনিয়া যেখানে খোঁচা দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়াকে, তাতে তো সম্ভবই নয়।’
এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে রাশিয়ার যোগ দেয়া সম্ভব কি না, তার সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের লক্ষ্যে মস্কোয় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সম্ভাব্যতার বিষয়ে আজকের (শুক্রবার) বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
প্রসঙ্গত, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে রাশিয়ার ৭৫ ভাগ ভূমি থাকলেও, তারা নিজেদের ইউরোপিয়ান হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু এখন এএফসিতে যোগ দিয়ে যদি সেই পরিচয়ও পাল্টায়, তাহলে এশিয়া অঞ্চলে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করাই যায়।




