
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলের সুদিন ফিরে এসেছে। জামাল ভূঁইয়াদের হাত ধরে নতুন করে জেগে উঠেছে দেশের ফুটবল। অনেক শিশু-কিশোর ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে মত্ত থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিভার সদ্বব্যবহার করতে পারে না তরুণ ফুটবলাররা।
দেশে ফুটবলপ্রেমী অনেকেই নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন একাডেমি। দেশব্যাপী ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় দুই শ’ একাডেমি বাফুফের তালিকাভুক্ত। সেই একাডেমিগুলো নিয়ে প্রথমবারের মতো (অনূর্ধ্ব-১৫) একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) ফেডারেশন ভবনে বাফুফে একাডেমী চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফিফার অর্থায়নে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্ট কমলাপুর স্টেডিয়ামে শুরু হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর। এই তথ্য জানিয়েছেন ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক।
এই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে মানিক বলেন, ‘আমাদের তালিকাভুক্ত একাডেমিদের এন্ট্রি আহ্বান করেছিলাম। এর মধ্যে ১৭০ টি একাডেমি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২৪ জোনে (অঞ্চলে) এই খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা মেধাবী ফুটবলারদের এলিট একাডেমিতেও জায়গা দিতে পারব।’
১৯ জেলার ২৪ টি স্থানে ১৭০ টি দল গ্রুপ ভিত্তিকভাবে এই টুর্নামেন্ট খেলবে। ২৪ জোনের ২৪ চ্যাম্পিয়ন একাডেমী নক আউট পর্ব খেলবে। সেই নকআউটে বিজয়ী ১২ একাডেমি চূড়ান্ত পর্বে দুই গ্রুপে বিভক্ত হবে। প্রতি দল চূড়ান্ত পর্বে একটি ভেন্যুতে পাঁচ ম্যাচ করে খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল করে সেমিফাইনালে খেলবে।
এই ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করতে বাফুফের অনেক অর্থ ব্যয় হবে। এই ট্যালেন্ট ডেভলপমেন্ট স্কিমের আওতায় বাফুফে ফিফা থেকে বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছে, 'ফিফা আমাদের এই ট্যালেন্ট ডেভলপমেন্ট খাতে বিশেষভাবে কোটি টাকার মতো বরাদ্দ দিচ্ছে। আশা করছি ফিফার এই অর্থ দিয়ে এই প্রতিযোগিতা ভালোমতো সম্পন্ন করতে পারব’- বলেন সহ-সভাপতি মানিক।
বাফুফে ১৭০ একামেমিকে অংশগ্রহণ ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ একাডেমী পাবে ৫০ হাজার করে। ফিফার সাহায্য এই বছরের জন্য হলেও বাফুফে আশাবাদী আয়োজনের মাধ্যমে সফলতা বজায় রেখে আগামীতেও ধারাবাহিকতা রক্ষার।
একাডেমি কাপে একটি ব্যতিক্রমী নিয়মও থাকছে। কোনো একাডেমী গ্রুপ বা নক আউটে বাদ পড়লে ওই একাডেমির ভালো ফুটবলারের সুযোগ থাকছে অন্য দলের হয়ে খেলার।
মূলত ট্যালেন্ট হান্ট হলেও টুর্নামেন্টে সবার লক্ষ্য থাকে জয়। এজন্য বয়স চুরির আশ্রয় নেয় অনেকে। বয়স চুরি রোধে ফেডারেশন জন্ম নিবন্ধনকেই ভিত্তি হিসেবে ধরছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যে এই টুর্নামেন্টকে আরেকটি উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কমিটির চেয়ারম্যান।
আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের নেতৃত্বে ডেভলপমেন্ট কমিটি ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলিট একাডেমিতে ব্রিটিশ কোচ নিয়োগ, এই একাডেমি টুর্নামেন্টের বিষয়টি কমিটির অনেক সদস্য অজ্ঞাত কারণ ডেভলপমেন্ট কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।




