
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সালমাকে (৩৩) শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৪ মে) ভোরে উপজেলার পৌরসভা এলাকার ভট্টপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালমা (৩৩) পৌরসভার ভট্টপুর এলাকার মো. রুপচাঁনের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
এ ঘটনায় স্বামী রুপচাঁনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত স্বামী রুপচাঁন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি কোম্পানিতে চাকরি করা মহিলার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গোপনে চলতে থাকে তাদের অবৈধ মেলামেশা। পরকীয়ার সম্পর্কটি প্রকাশ্যে এলে সালমা প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন এবং তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হতো।
নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ আরবান কাইফি (১৮) জানান, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো মায়ের সঙ্গে। কিছুদিন আগেও মাকে অনেক মারধর করেছেন বাবা। পরে আমি আমার নানির বাড়ির আত্মীয়দের জানিয়েছি। উনারা বলেছিলেন, ঈদের পর বসবে কিন্তু আজ আমার মাকে মেরেই ফেললো বাবা।’
নিহতের বড় ভাই রিপন খান জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তার বোনের স্বামী পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে। কিছুদিন আগেও তার বোনকে অনেক মারধর করা হয়। মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার বোনকে নিয়ে আসতে চাইলে তার বোন দুই বাচ্চার মুখের দিকে চেয়ে স্বামীর এখানেই থেকে যান। কিন্তু আজ ভোরে বোনের মরদেহ বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে এক পুকুরে তার স্বামীই দেখতে পান বলে জানান।
তিনি আরও জানান, তার বোন কখনো পুকুরে যান না। তিনি সবসময় বাড়ির টিউবওয়েলেই গোসল করেন। পুকুর তার বাসা থেকে অনেক দূরে। তার স্বামীই তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে পুকুরের পাড়ে ফেলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন মিয়া বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’




