
বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলে কয়েকবার তোপের মুখে পড়েছেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ইদানিং দিনকাল মোটেই ভালো যাচ্ছে না তার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বিরাগভাজন হয়েছিলেন ক্রিকেট কর্মকর্তাদের। সম্প্রতি তাকে আর মিডিয়ার সামনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না। আপাতত মিডিয়া থেকে দূরে আছেন তিনি। কয়েকদিন আগে হারিয়েছেন টেস্ট অধিনায়কত্ব। এবার মুশফিকের আচরণ জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের।
সোমবার মিরপুরে একটি রেস্তোরাঁর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুশফিক ছিলেন অতিথি। যে অনুষ্ঠানে তিনি থাকবেন সেখানে সাংবাকিদরা তার মুখ থেকে কিছু শুনতে চাইবেন-এটাই স্বাভাবিক। উদ্বোধনের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ক্ষোভের সঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা শেখার কোর্স করছি। শিখে নেই, তারপর কথা বলব!
এবারই প্রথম না! বিপিএল চলাকালীন চট্টগ্রামে একটি জুতার প্রমোশোনাল প্রোগ্রামে অংশ নিয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি মুশফিক!
টেস্ট অধিনায়কত্ব হারানোর পর সংবাদ মাধ্যমকে কিছুটা এড়িয়ে চলছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তাই তার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ওই রেস্তোরাঁয় ভীড় করেছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু বাংলাদেশের বেশ কিছু স্মরণীয় জয়ের নায়কের কথা শুনে তারাও হতবাক!
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে বাংলাদেশ দল দেশে ফেরার পর মুশফিক প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, অধিনায়ক হিসেবে মুশফিককে আরো পরিণত হতে হবে। মাশরাফিও অধিনায়কত্ব করে, তার তো এত সমস্যা হয় না। সব সমস্যা শুধু তার!
মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও সন্তুষ্ট নন। গত সপ্তাহে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় মুশফিকের কিছু সিদ্ধান্ত খুবই বিতর্কিত ছিল। বাংলাদেশ টসে জিতে ব্যাটিং না বোলিং করবে, এ নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকতে পারে না। তার কারণে দলের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। আমরা আগামীতে আর কোনো বিতর্কের ভেতর যেতে চাই না।
মিরপুরের রেস্তোরাঁয় মুশফিকের অমন আচরণের পর ক্রিকেটাঙ্গনে গুঞ্জন, টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব হারানো মেনে নিতে পারছেন না তিনি। আচরণেই স্পষ্ট, তিনি বেশ ক্ষুব্ধ। তবে ক্ষোভটা কার বিরুদ্ধে, তা পরিষ্কার নয়। উত্তরটা বোধ হয় শুধু মুশফিকের জানা!
সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসরে রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলেন মুশফিকুর রহিম। তাকে দলের সহ-অধিনায়ক করা হলেও তিনি কয়েকটি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল না তার। ১২ ম্যাচ খেলে ১৮৫ রান করেন তিনি।
এএ/ডিএইচ




