
চলতি বছর থেকে আইসিসি বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কারটি র্যাচেল হেহো ফ্লিন্টের নামে করা হয়েছে। বছরের শুরুতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো ইংল্যান্ডের প্রাক্তন এই ক্রিকেটারকে সম্মানিত করতে এমন সিদ্ধান্তের কথা গত মে মাসেই জানিয়েছিল আইসিসি। আর প্রথম র্যাচেল হেহো ফ্লিন্ট অ্যাওয়ার্ড জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার এলিস পেরি।
দীর্ঘ এক দশক ধরে দলে অনবদ্য অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সের জন্য ক্রিকেট জগতের সম্মানজনক এ পুরস্কার পেয়েছেন গত বছরের ব্যালিন্ডা ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড জয়ী এ অস্ট্রেলিয়ান তারকা। আইসিসি ২০০৬ সাল থেকে বর্ষসেরা পুরস্কার দিয়ে আসছে।
তবে এবারই প্রথম আলোচনায় এসছেন এলিস, বিষয়টা এমন নয়। গত বছর দিবারাত্রির ওভাল টেস্টে অপরাজিত ২১৩ রানের ইনিংস খেলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান ২৭ বছর বয়সী এ নারী ক্রিকেটার। তার সেই অপরাজিত ২১৩ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে যে কোন নারী ক্রিকেটারের করা সর্বোচ্চ স্কোর। শুধু তাই নয়, ওই বছর খেলা ১৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৯০৫ রানের পাশাপাশি ২২ উইকেট নেন সব চেয় কম বয়সী অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটার হিসেবে অভিষিক্ত এলিস।
এই পুরস্কার জিততে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার পেছনে ফেলেছেন নিউজিল্যান্ডের অ্যামি স্যাটার্থওয়েট ও ভারতের হারমানপ্রিত কৌরকে। স্যাটার্থওয়েট অবশ্য উদযাপনের একটা উপলক্ষ ঠিকই পেয়েছেন। বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। পেরির সতীর্থ বেথ মুনি বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড় ও টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।
নিজের এই স্বীকৃতি প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে এলিস ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি। পেরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নারী ক্রিকেটের জন্য এ বছরটা খুবই স্পেশাল, অনেক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। র্যাচেল হেহো ফ্লিন্ট অ্যাওয়ার্ড জেতাটা তাই আনন্দের ও সম্মানের। এই খেলাটায় র্যাচেলের অবিশ্বাস্য অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি আমি।’
গত ২০০৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজের দুর্দান্ত আগমন ধ্বনি ঘোষণা করেন সে সময়ের সতেরো ছুঁইছুই কিশোরী এলিস। সেদিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে তুলে নেন দুই উইকেট।
তারপর শুধুই ধারাবাহিক সাফল্যের ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে খেলেছেন ২০০৯ সালের আইসিসি নারী বিশ্বকাপ ও আইসিসি নারী বিশ্ব টি-টোয়েন্টি কাপ। ২০১০ সালে অস্ট্রেয়িলার আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি কাপ জয়ের মূলে ছিল এলিসের দুর্দান্ত বোলিং পারফরমেন্স। ২০১৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী বিশ্বকাপ জয়েও ছিল এলিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফাইনালে অ্যাংকেল ইনজুরির মধ্যেও ১৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এছাড়া ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ এর অ্যাশেজ জয়ও আসে তার হাত ধরে।
শুধু রেকর্ড দিয়ে বিবেচনা করলে এলিস পেরির খোলোয়াড় জীবনের বৈচিত্র ধরা সম্ভব নয়। এলিস পেরি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের একমাত্র নারী খেলোয়াড় যিনি একই সঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল বিশ্বকাপ খেলেছেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চিফ এক্সিকিউটিভ জেমস সাদারল্যান্ড এলিসকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ক্যারিয়ারের দশম মৌসুমে এটা এলিসের জন্য এক অসাধারণ স্বীকৃতি। এটা মোটেও আশ্চর্যের বিষয় নয় যে এলিসের মতো খেলোয়াড় রিচেলের সম্মানে দেয়া পুরস্কার অর্জন করেছে।
আইসিসি বৃহস্পতিবার বর্ষসেরা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলও ঘোষণা করেছে। ভারতের বাঁহাতি স্পিনার একতা বিশত একমাত্র ক্রিকেটার যিনি দুই দলেই আছেন। ইংল্যান্ডের হেথার নাইট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। আর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর।
খেলোয়াড়দের ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত পারফরমেন্স বিবেচনা করে বর্ষসেরা দল গঠন করেছে আইসিসি। বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়র এবং টি-টোয়েন্টি দলে এ পাঁচ দেশের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা স্থান পেয়েছেন। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় এ দুই ফরমেটে জায়গা করে নিতে পারেননি।
২০১৭ সালের আইসিসি নারী ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ড
বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার: এলিস পেরি (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার: অ্যামি স্যাটার্থওয়েট (নিউজিল্যান্ড)
বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার: বেথ মুনি (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার: বেথ মুনি (অস্ট্রেলিয়া)
আইসিসি বর্ষসেরা নারী দল ঘোষণা
বর্ষসেরা ওয়ানডে নারী ক্রিকেট দল
টমি বিউমন্ট (ইংল্যান্ড), মেগ ল্যানিং (অস্ট্রেলিয়া), মিতালী রাজ (ভারত), অ্যামি স্যাটার্টওয়ের্থ (নিউজিল্যান্ড), এলিস পেরি (অস্ট্রেলিয়া), হিদার ক্লেয়ার (অধিনায়ক) (ইংল্যান্ড), সারাহ্ টেইলর (উইকেট কিপার) (ইংল্যান্ড), ডেন ফন নাইকার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা), মারিজান কাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা), একতা বিস্ত (ভারত), এলেক্স হ্যার্টলি (ইংল্যান্ড)।
বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি নারী ক্রিকেট দল
বেথ মুনি (উইকেট কিপার) (অস্ট্রেলিয়া), ড্যানি ওয়াট (ইংল্যান্ড), হারমানপ্রীত কৌর (ভারত), স্টিফেইন টেইলর (অধিনায়ক) (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), সোফি ডিভাইন (নিউজিল্যান্ড), দিয়ান্দ্রা ডটিন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), হ্যালি ম্যাথিউজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মেগান স্কট (অস্ট্রেলিয়া), আমেন্ডা-জ্যাজ ওয়েলিংটন (অস্ট্রেলিয়া), লিয়া টাহুহু (নিউজিল্যান্ড), একতা বিস্ত (ভারত)।
এএ/কে




