ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলার জগতে বক্সিং ডে জনপ্রিয় কেন? 

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ এএম
ছবি- ফেসবুক

বক্সিং নামটা খেলার দুনিয়ায় মোহাম্মদ আলী, মাইক টাইসনের মতো মুষ্টি যোদ্ধাদের নাম স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে বক্সিং ডে নামটায় ভিন্নতা রয়েছে। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব ক্রিসমাস বা বড়দিনের ঠিক পরের দিনটা বক্সিং ডে নামে পরিচিত। দিনটিকে বক্সিং ডে রাখার মহাত্মতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে বক্সিং ডে মূলত বড়দিনের ছুটিকে রাঙাতেই এই খেলাধুলার বড় এক আয়োজন।

বক্সিং ডেতে শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবল, রাগবি, হকি, ঘোড়দৌড়, হান্টিংসহ আরও কিছু খেলার আয়োজন থাকে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট আর ফুটবলই বক্সিং ডে ফিক্সচার সবচেয়ে বেশি মাতিয়ে রাখছে।

খ্রিষ্টধর্মালম্বীরা বড়দিনকে কেন্দ্র করে লম্বা ছুটির মধ্যে থাকে। ১৮৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটের জন্মের পর বক্সিং ডেতে প্রথমবার খেলা হতে দেখা যায় ১৯১৩ সালে। জোহানেসবার্গের ওল্ড ওয়ান্ডারার্সে ২৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকায় হলেও দেশটিতে বক্সিং ডেতে টেস্ট আয়োজনের রীতি গড়ে ওঠেনি, যেটা পরে অস্ট্রেলিয়ায় হয়েছে। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৯টি বক্সিং ডে টেস্ট আয়োজন সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ কামিন্স–স্মিথদের সঙ্গে রোহিত–কোহলিদের চলমান ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫০তম বক্সিং ডে টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম বক্সিং ডে টেস্ট হয় ১৯২৪ সালে সিডনিতে, আর মেলবোর্নে প্রথমবার হয়েছিল ১৯৫০ সালে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে বক্সিং ডেতে অনিয়মিতভাবে টেস্ট আয়োজন করে থাকে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত একটিই বক্সিং ডে টেস্ট খেলেছে। ২০০১ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়েলিংটনে।

বাংলাদেশেও একটি টেস্ট বড়দিনের পরদিন শুরু হয়েছিল। তবে ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুরে হওয়া সেই ম্যাচের বক্সিং ডে টেস্ট হিসেবে পরিচিতি নেই।

বক্সিং ডে ম্যাচের প্রথম হদিস পাওয়া যায় ১৮৬৫ সালে। তবে তখন এই নামকরণ হয়নি। এমসিজিতে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলস মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সেই ম্যাচ ২৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা ছিল না; বরং ম্যাচের মাঝখানে একটি দিন পড়েছিল ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন। খেলা থাকায় সফরকারী নিউ সাউথ ওয়েলসের খেলোয়াড়েরা পরিবারের সঙ্গে বড়দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন না বলে মন খারাপ করে বসে থাকেন। তাদের দাবি মেনে সেই ম্যাচ বড়দিনের পরদিন শুরু হয়েছিল।

বক্সিং ডে ঘিরে মানুষের আগ্রহটাও থাকে তুঙ্গে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বড় দলগুলোর খেলা অন্তত এই দিনে রাখার চেষ্টা করে এফএ কর্তৃপক্ষ। আবার অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৫৪ বছর ধরে এই দিনে টেস্ট বা ওয়ানডে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও এদিন সেঞ্চুরিয়নে আয়োজন করে টেস্ট ম্যাচের। নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকেও চেষ্টা করা হয় ম্যাচ আয়োজনের।

প্রথাগতভাবে বক্সিং ডে বলতে বোঝানো হয় ক্রিসমাস বা বড়দিনের পরের দিনটিকে। ক্যালেন্ডারের তারিখ অনুযায়ী যা ২৬ ডিসেম্বর। মূলত এদিন সম্ভ্রান্ত এবং সামর্থ্যবান গৃহস্থরা বক্সে ভরে তাদের গৃহপরিচারকদের উপহার দিতেন। বক্সে ভরে দেওয়ার রীতি থেকেই নাম হয়ে যায় বক্সিং ডে।

মূলত বক্সিং ডের এমন সূচনা করেন রাণী ভিক্টোরিয়া। এরপর থেকেই কমনওয়েলথভুক্ত দেশে, কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়তে থাকে। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সামর্থ্যবানেরা বক্স করে নিজ পরিচারকের বাইরে আশপাশের গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিভিন্ন উপহার ও টাকা-পয়সা বিতরণ শুরু করেন। এরপর চার্চের বাইরে রাখা বাক্সে দান বা অনুদান সংগ্রহ করা হয় গরিবদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে। এভাবেই ২৬ ডিসেম্বর হয়ে যায় ‘বক্সিং ডে’।

১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়ম করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচ। সেবছরই মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এরপর থেকে বক্সিং ডের ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পায় মেলবোর্ন। মাঝে কেবল ১৯৮৯ সালে বক্সিং ডেতে টেস্ট ম্যাচের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর প্রতি চার বছর অন্তর অ্যাশেজের একটি ম্যাচ বক্সিং ডেতে হয়ে থাকে। যে ধারায় আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা দলের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এই বক্সিং ডে টেস্ট। ঐতিহাসিকভাবে বক্সিং ডেতে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো। সেটাও হতো মেলবোর্নে। ১৯৬৮ সাল থেকে অনেকটাই জাতীয় দল নির্ভর হয়ে যায় এই আয়োজন।

মেলবোর্ন থেকে প্রায় ১০ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরের পৌর এলাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়নে আজ আরেক বক্সিং ডে টেস্টে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটায়।

সেঞ্চুরিয়ন থেকে প্রায় ৬৩৬ কিলোমিটার দূরের শহর বুলাওয়েতে একই সময়ে খেলতে নামবে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। জিম্বাবুয়ের মাটিতে এটিই হতে যাচ্ছে আফগানদের প্রথম টেস্ট। ম্যাচের শুরুটা বক্সিং ডেতে হওয়ায় যা ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।


যদিও নিউজিল্যান্ডে এবারে কোনো ম্যাচ থাকছে এই দিনে। অস্ট্রেলিয়া নারী দলের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হয়েছে ২৩ তারিখে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ২৮ তারিখ।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও বেশ ঘটা করেই পালন করা হয় বক্সিং ডে ফিক্সচার। ইংলিশ লিগ কর্তৃপক্ষ এদিন অন্তত দুই থেকে তিনটি বড় ম্যাচের আয়োজন রাখে নিজেদের মাঝে। কখনো কখনো বিগ সিক্সের পারস্পরিক ম্যাচও রাখা হয় এদিন। আজ যেমন প্রিমিয়ার লিগে আটটি ম্যাচ আছে। ম্যানচেস্টার সিটি খেলবে এভারটনের বিপক্ষে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচ উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে। মাঠে নামবে চেলসি ও টটেনহাম। সবচেয়ে বড় ম্যাচ বলা যেতে পারে লেস্টার সিটি এবং লিভারপুল। তবে জার্মানি, স্পেন কিংবা ইতালিয়ান লিগে বক্সিং ডে এমন ঘটা করে পালন করা হয়না।

এ দিন ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে জনপ্রিয় ঘোড়দৌড়ের পাশাপাশি চলে রাগবি ও আইস হকি লিগের খেলাগুলোও। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বক্সিং ডের মাহাত্ম্য বক্সিং ডে টেস্টের মাঝেই নিহিত।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিপিএল ২০২৫ / নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে বিপিএলের ১১তম আসরে শুভসূচনা করেছে গ্লোবাল সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর রাইডার্স। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও। সিলেটকে ৩৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ব্যাক টু ব্যাক জয় পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দলটি। চার উইকেট তুলে নিয়ে এই জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানা। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রংপুর। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় রংপুর রাইডার্স। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সিলেট। ৩ বলে ২ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জর্জি মানজি। তিনে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি জাকির হাসানও। ১২ বলে ১৮ রান করে বোল্ড আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি পল স্ট্রালিংও। ৫ বলে ৬ রান করে এই আইরিশ ব্যাটার আউট হলে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় সিলেট। তবে জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার রনি তালুকদার। দুজনের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে সিলেট।  কিন্তু ১৫তম ওভারে রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন খুশদিল শাহ। এর আগে ৩৬ বলে ৪১ রান করেন রনি। পরের বলে আরিফুল হককে ডাক আউট করে রংপুরকে খেলায় ফেরান খুশদিল শাহ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করতে থাকেন জাকের আলী। তবে ১৬তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ২৪ রান করে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে ফিরিয়ে উল্লাস শুরু করে পেসার নাহিদ রান। এরপর তানজিম হাসান সাকিব (৩), নাহিদুজ্জামান (১) এবং শিনওয়ারি ৮ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত রিস টপলি ৫ রানে এবং আল আমিন ৩ রানে অপরাজিত থাকলেও নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় সোহান-মাহেদীরা। রংপুর রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদরা। এ ছাড়াও খুশদিল শাহ ও সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন। আর এক উইকেট নেন কামরুল হাসান। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল রংপুর। আরটিভি/এসআর/এআর  
নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
জয় দিয়ে বছরটা রাঙিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বছরের শেষ ম্যাচে কষ্টার্জিত হলেও জয়ে ফিরল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বসুন্ধরা কিংস ফেডারেশন কাপ শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে জয় দিয়ে। মাঝখানে ফর্টিস এফসির কাছে হেরেছে। আজ কিংস অ্যারেনায় নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঘরের মাঠে কিংস অ্যারেনায় জয়ে পেতে মরিয়া বসুন্ধরা ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে তপু বর্মণের গোলে এগিয়ে গেলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বসুন্ধরার উল্লাস। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই পুলিশ সমতা ফেরে আল আমিনের গোলে। তবে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ১১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফেরেইরার গোলে আবারও এগিয়ে যায় কিংস। ২৫ মিনিটে গোলরক্ষক রাকিবুল তুষার ও সাগর মিয়ার ভুমিকায় পুলিশ গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায়। ৩৪ মিনিটে রাকিবকে আরেকবার হতাশ করেন গোলরক্ষক তুষার। প্রথমার্ধের খেলা ২–১ ব্যবধানে থেকে শেষ করে দুই দল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩–১ করেন কিংসের আরেক ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেজ। ৫৪ মিনিটে পুলিশের আল আমিন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৩–২ করে খেলা জমিয়ে তুলেছিলেন। তবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে কিংসকে চোখ রাঙালেও শেষ পর্যন্ত দারুণ কিছু করতে পারেনি পুলিশ। এ ম্যাচে পুলিশ হারলেও চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা দলটির স্ট্রাইকার আল আমিনের ২টি গোলই নজর কেড়েছে। অষ্টম মিনিটে ঈসা ফয়সালের ক্রস থেকে আল আমিনের প্রথম গোলটি ছিল সুযোগের সন্ধানে থাকার ফল। প্রিমিয়ার লিগে ৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা আল আমিনের দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। সৈয়দ কাজেমের ডিফেন্সচেরা থ্রু ধরে কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসানকে কাটাতে গিয়ে বাঁ পাশে সরে গেলেও বেশ কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে পাঠান আল আমিন।  কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে দিনের অন্য খেলায় জয় কুমারের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে ফর্টিস এফসি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে তারা হারিয়েছে ৩–০ গোলে।  আরটিভি/এমএম
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় রংপুর। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেন আল আমিন হোসেন ও তানজিম সাকিব। এ ছাড়াও সাইমুল্লাহ শিনওয়ারি ও রিস টপলি এক করে উইকেট নেন। আরটিভি/এসআর/এআর  
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ১১তম আসরে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা গিয়েছে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে। এই সময় ধারাভাষ্য কক্ষে বেশ কিছু সময় পার করেন তিনি।   মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা টাইগার্স এবং চট্টগ্রাম কিংসের মধ্যকার ম্যাচের কিছু সময় ধারাভাষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ধারাভাষ্য কক্ষে প্রবেশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক। এরপর কিছুক্ষণ বাংলায় ধারাভাষ্য দেন তিনি। এসময় খুলনার ছুঁড়ে দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেট তাড়া করছিল চট্টগ্রাম। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেন ফারুক। সেখানে ধারাভাষ্য করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ফারুককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বল-টু-বল ধারাভাষ্য করতে হয়নি। আমি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছি।’ আরটিভি/এমএম
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচে চিটাগংকে ৩৭ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। এই ম্যাচের দ্বিতীয় প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে এসে ১ বলে ১৫ রান খরচ করে রেকর্ড গড়েছেন ওশানে থমাস। তবে তার একটি নো বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খুলনার কোচ তালহা জুবায়ের। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনার দেওয়া ২০৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন নাইম শেখ। তবে নো বল হওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন। আর নো বলের ভিডিওটা টিভিতে না দেখানোই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তালহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে খুলনার কোচ বলেন, প্রথম বলে দেখলাম উইকেট পড়েছে গেছে; তারপর দেখি যে নো বল। আমার ওই নো বল নিয়ে একটি সন্দেহ আছে। কারণ, আমি এটি রিপ্লেতে দেখতে পারিনি। এটা দেখানো উচিত ছিল। আমি এটি দেখতে চাইব। এক বলে ১৫ রান দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এরকম আগে দেখিনি নো বল ওয়াইড আবার নো বল, ফ্রি হিট। আর হয়তো থমাসও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। আর এমনিতেই ওর নো বল দেওয়ার প্রবনতা রয়েছে। জাতীয় দলের হয়েও প্রায় নো বল করতে দেখা যায়। নো বল দেওয়ার জন্য থমাসের ফিটনেসকে দায়ী করেছেন তালহা। তার ভাষ্য, আসলে ওর যে ফিটনেস সেটা পেস বোলার হিসেবে ঠিক নেই। আর নিজের ফিটনেস এবং রানিং নিয়ে হয়তো এর আগে কোনো কাজ করেনি। তাই নো বল দেওয়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে ১ বলে ১৫ রান এটা নতুন। নাইম ইসলামের বিপক্ষে ওশান থমাস ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ লুফে নেন তিনি। আম্পায়ারের কলে সেটা ছিল নো বল। ফ্রি-হিটের পরের বলে ছিল ডট। সেটা ছিল লিগ্যাল ডেলিভারি। এরপরেই আসে ওশান থমাসের লিগ্যাল ডেলিভারির জন্য লম্বা সংগ্রাম। নো বলে ৬ রান হজম করেছেন। এরপর দুই ওয়াইড বল। পরের নো বলে হজম করেছেন ৪ রান। ততক্ষণে চলে এসেছে ১৪ রান। স্কোরবোর্ডে ১ বলের পাশে ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত বৈধ বল ওশান থমাস করেছেন। সেটায় ছিল ডট। তারপর ফের একটা নো-বল। সেই বলেও ক্যাচ হয়েছিলেন নাইম। দ্বিতীয়বার জীবন পান ওই এক ওভারেই। ফ্রি-হিটের পর অবশ্য নিজেকে আর বাঁচাতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। বোসিস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। এর আগে এক বলে ১৩ রান নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের এই ওপেনার। অবশ্য সেবার ৭ রান তিনি পেয়েছিলেন নো-বল থেকে আর ১টা ছিল ছক্কার মার। এর আগে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) এর ম্যাচে ১ বলে ১৪ রান তুলেছিলেন ওশান থমাস। আরটিভি/ এসআর  
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
আরও পড়ুন
ভারত যেন আমাদের অশান্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়: জামায়াত আমির
ভারতের বিপক্ষে শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্তে পক্ষে-বিপক্ষে মত
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
মেলবোর্নে ভারতকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া