
টেনিস খেলা যারা নিয়মিত দেখেন বা খেলেছেন, তারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, নতুন বল হাতে নিলে খেলোয়াড়রা তা ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। মূলত তারা বলের সেই সূক্ষ্ম লোমগুলো যাকে ‘ন্যাপ’ বলা হয় খেয়াল করেন।
টেনিস বলের পৃষ্ঠে থাকা ন্যাপ বা লোম সাধারণত উল, নাইলন, তুলা বা এদের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। বলটি তৈরির সময় একটি প্রেশারাইজড রাবারের চারপাশে এই ন্যাপের আস্তরণ জড়ানো হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বলের গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।
লোমগুলো বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণ বাড়িয়ে বলের গতি কমিয়ে আনে, ফলে তা বাতাসে কিছুটা ভেসে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন খেলোয়াড় সার্ভ করলে বলের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মাইল পর্যন্ত হয়, কিন্তু প্রতিপক্ষের র্যাকেটের স্পর্শে এই গতি নেমে আসে প্রায় ৫০ মাইল প্রতি ঘণ্টায়। এছাড়া, ন্যাপ বলের পেছনে এমন বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে যা ব্যাক স্পিন বা টপ স্পিন তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে বলের গতি ও দিক অনিশ্চিত হয়ে যায় এবং খেলা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়।
প্রযুক্তির অগ্রগতির আগে, ১৮০০ সালের দিকে টেনিস বলের ওপর এখনকার মতো লোম ছিল না। তখন বলকে ঢেকে দেওয়া হতো গরম উলের কাপড়ে। পরবর্তীতে ন্যাপযুক্ত বল চালু হওয়ায় আজকের টেনিস খেলাকে কৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে আরও নিখুঁত করা সম্ভব হয়েছে।
আরটিভি/এসকে




