
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। তখন অনেক নারী ফুটবলার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, আশ্রয় নেন বিদেশে। তালেবান শাসনের আগে আফগান নারী দলে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় ছিলেন ২৫ জন, যাদের বেশিরভাগই এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন।
তালেবান নিষেধাজ্ঞার তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে এসেছে আফগান নারী ফুটবলাররা। ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে একটি শরণার্থী দল হিসেবে তারা অংশ নিয়েছে মরক্কোয় ফিফা আয়োজিত চারদলীয় ফিফা ইউনাইটস: উইমেন’স সিরিজ টুর্নামেন্টে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তারা চাদের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছে। কিন্তু দলের খেলোয়াড়দের কাছে এই ম্যাচের মানে ছিল জয়, কারণ এটি ছিল তাদের প্রিয় খেলার মাঠে ফেরার লড়াইয়ের প্রতীক।
দলটি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ২০২১ সালে, কাতারের বিপক্ষে, যেখানে তারা ৫-০ গোলে হেরে যায়। চলতি বছরের মে মাসে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে একটি নতুন শরণার্থী দল গঠনের অনুমোদন দেয় এবং স্কটিশ কোচ পলিন হ্যামিলকে দলের দায়িত্বে নিয়োগ করে।
দলটি ফিফার সঙ্গে পরামর্শের পর নিজেদের আনুষ্ঠানিক নাম দেয় ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’। মরক্কোয় চাদের বিপক্ষে এই দলের অভিষেক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচের আগেই অধিনায়ক ফাতিমা হাইদারি বলেন, অনেক বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে আমরা সেই অধিকার ফিরে পেয়েছি, যার জন্য এতদিন লড়েছি—খেলার অধিকার, প্রতিনিধিত্বের অধিকার। ফিফা আমাদের যে সুযোগ ও মর্যাদা দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
মরক্কোর বেররেশিদ শহরে (ক্যাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে) অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেলবোর্নভিত্তিক ফরোয়ার্ড মানোজ নুরি পেনাল্টি থেকে গোল করে আফগানদের এগিয়ে দেন। সেই গোল উদযাপনে সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের আবেগ উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে মাঠ।
তবে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা চাদ দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে এবং শেষ পর্যন্ত সহজ জয় তুলে নেয়। আফগান উইমেন ইউনাইটেডের পরের ম্যাচ বুধবার তিউনিশিয়ার বিপক্ষে, আর শনিবার মুখোমুখি হবে লিবিয়ার।
আরটিভি/এসআর




