
২০২৬ ফুটবল দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে ৪৮টি দল। আগামী বছর জুনে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে পর্দা উঠবে এই টুর্নামেন্টের। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের ড্র শেষে সূচি প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)।
এবারের বিশ্বকাপে দল বেশি হওয়ায় গ্রুপপর্বের উত্তেজনা কিছুটা কম থাকবে। কারণ, একেকটি গ্রুপে শক্তির ব্যবধান বেশ ভালো রকমের। তারপরও গ্রুপপর্বের কিছু ম্যাচের দিকে নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। এমন ১০টি ম্যাচের তালিকা করেছে ইউএসএ টুডে।
১১ জুন, মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম আজটেকায় শুরুটা ভালো করতে চাইবে মেক্সিকো। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়া দলটি এবার ভালো কিছু করতে চায়। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। তারাও চাইবে প্রথম দিনেই চমক দেখাতে। ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও দুই দলের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল।
১২ জুন, যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচটি বেশ কঠিন হতে পারে (যদি তুরস্ক ইউরোপীয় প্লেঅফে না ওঠে)। সম্প্রতি দুই দলের প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জিতেছে। তবে ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
১৩ জুন, ব্রাজিল বনাম মরক্কো
২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো এখন বিশ্ব ফুটবলে শক্তিশালী দল। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২৪ বছর পর আবার ট্রফির পথে ফেরাতে নতুন কোচ কার্লো আনচেলোত্তির জন্য এটি কঠিন পরীক্ষা। কোনোমতে পার হয়ে আসা বাছাইপর্বের পর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দিয়েই ব্রাজিল শুরু করছে অভিযান।
১৪ জুন, নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান
২০২২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল জাপান। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে অরেঞ্জদের। সুযোগ পেলে জাপান ছেড়ে কথা বলার মতো দল নয়।
১৫ জুন, বেলজিয়াম বনাম মিসর
২০১৮ সালে তৃতীয় হওয়ার পর ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু ও থিবো কুর্তোয়ার মতো তারকাদের জন্য এটাই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। এদিকে সালাহ-কুর্তোয়াদের লড়াই তাই হবে দেখার মতো।
১৬ জুন, ফ্রান্স বনাম সেনেগাল
২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়েছিল সেনেগাল। এবার সেই স্মৃতিই আবার সামনে আসছে। শক্তিশালী ফ্রান্স আবারও এমন অঘটন এড়াতে চাইবে। মানের নেতৃত্ব বর্তমানে শক্তি বেড়েছে সেনেগালের।
১৭ জুন, ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া
টুর্নামেন্টের অনানুষ্ঠানিক ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এর বড় ম্যাচ এটি। ইংল্যান্ড শক্তিশালী দল নিয়েই বিশ্বকাপে আসছে, তবে ক্রোয়েশিয়া বিশ্বের ১০ নম্বর দল এবং শেষ দুই বিশ্বকাপে যথাক্রমে ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। কঠিন লড়াইয়ের আভাস আগেই মিলছে।
২৬ জুন, ফ্রান্স বনাম নরওয়ে
এই ম্যাচটি হতে পারে গোটা গ্রুপ পর্বের সেরা। গোলের জন্য ক্ষুধার্ত হয়ে থাকা আর্লিং হালান্ডের কারণেই ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। অপরদিকে টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স চাইবে গ্রুপে আধিপত্য ধরে রাখতে। কিলিয়ান এমবাপ্পেরা পরীক্ষিত শক্তি।
২৬ জুন, স্পেন বনাম উরুগুয়ে
গ্রুপ এইচ–এর শীর্ষস্থান নির্ধারণের ম্যাচ হতে পারে এটি। একাধিক বিশ্বকাপজয়ী দুই দেশের লড়াই সবসময়ই আকর্ষণীয়। ইউরো ২০২৪ জিতেছে স্পেন, আর তাদের দলে আছেন ১৮ বছর বয়সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু লামিন ইয়ামাল। উরুগুয়ে ২০২২ সালের হতাশার পর এ বিশ্বকাপে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।
২৭ জুন, পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া
সম্ভবত এটাই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বড় টুর্নামেন্ট। গ্রুপ কে’র শীর্ষে থাকতে চাইলে পর্তুগালকে বিপজ্জনক কলম্বিয়াকে সামলাতে হবে। সাম্প্রতিক বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর দক্ষিণ আমেরিকান দলটি।
আরটিভি/এসআর




