
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর ক্লাবটির প্রতি সমর্থন জানাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন সমর্থকরা। লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যাচের আগে আকাশে শত শত বাতাসভরা কলা উড়িয়ে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন তারা।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে রায় দেয় একটি স্বাধীন কমিশন। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি। নিজেদের অবস্থানের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে সিটি।
রায়ের পর প্রিমিয়ার লিগে এটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। প্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের সমর্থকদের কাছ থেকে ম্যাচজুড়েই দুয়ো ও ব্যঙ্গের মুখে পড়েন সিটির খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে, নিজেদের খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হাততালি দেন সিটির সমর্থকরা। পাশাপাশি আকাশে ওড়ান শত শত বাতাসভরা কলা।
ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের কলা ওড়ানোর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের পুরোনো ইতিহাস। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে অবনমনের পর বাতাসভরা কলা ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে এক ধরনের প্রতীকে পরিণত হয়।
এই ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাবেক স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদির নাম। সমর্থকদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ইমরে বানানা’ নামে। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ফ্রাঙ্ক নিউটন নামের এক সমর্থক পরবর্তী সময়ে মাঠে বাতাসভরা কলা নিয়ে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে সিটির ম্যাচে কলা নিয়ে আসার রীতি ছড়িয়ে পড়ে।
লিভারপুল ম্যাচের আগে সমর্থকদের কাছে কলা বিক্রি করা দান্তে ফ্রেন্ড জানান, ভারাদিকে ‘ইমরে বানানা’ নামে ডাকতেন একজন সমর্থক। পরের ম্যাচে ফ্রাঙ্ক নিউটন বাতাসভরা কলা নিয়ে আসেন। এরপর অন্য সমর্থকরাও এই রীতিতে যোগ দেন।
আশির দশকের শেষ দিকে ইংলিশ ফুটবলে গ্যালারিকেন্দ্রিক সহিংসতা ও উত্তেজনার মধ্যে এই আয়োজন সমর্থকদের জন্য হাস্যরসের উপলক্ষ হয়ে উঠেছিল। দান্তে ফ্রেন্ডের ভাষ্য, সমর্থকদের বড় একটি অংশ মারামারির বদলে আনন্দ-উৎসবেই অংশ নিতেন।
সমর্থকদের সংগঠন ‘১৮৯৪’ এই আয়োজনের প্রচারে ভূমিকা রাখে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও সমালোচনার মধ্যে খেলায় আনন্দ ফিরিয়ে আনা এবং নিজেদের ক্লাবের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা।
অন্যদিকে, অ্যানফিল্ডে সিটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন লিভারপুলের সমর্থকরা। ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের বাইরে সিটির খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহার করে ‘দোষী’ ও ‘প্রতারক’ লেখা পতাকা এবং স্কার্ফ বিক্রি করা হয়। খেলা শুরুর আগে লিভারপুলের টিম বাসকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন সমর্থকরা।
ম্যাচ চলাকালে সিটির খেলোয়াড়রা বল স্পর্শ করলেই দুয়ো দেন স্বাগতিক সমর্থকরা। মাঠের এক কোণে প্রদর্শিত একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘সমর্থকদের একটি প্রজন্মকে প্রতারিত করা হয়েছে।’
এদিকে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে মার্সিসাইড পুলিশ। লিভারপুলের টিম বাস বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামে পৌঁছালেও সিটির দুটি বাস বিকল্প ও তুলনামূলক শান্ত পথ ব্যবহার করে মাঠে প্রবেশ করে।
সব মিলিয়ে, অ্যানফিল্ডে বাতাসভরা কলা ওড়ানোর ঘটনা শুধু একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন নয়; বরং ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের কাছে এটি পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিতর্কের মধ্যেও প্রিয় ক্লাবের পাশে থাকার প্রতীক।
আরটিভি/এসকে




