ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি মুসলিম’: লামিনে ইয়ামাল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
লামিনে ইয়ামাল নিজেই একজন গর্বিত মুসলিম। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মিলনস্থলও। তবে কখনো কখনো এই আবেগঘন খেলাকে ঘিরেই মাথাচাড়া দেয় বর্ণবাদ, বিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্রূপের মতো নেতিবাচক প্রবণতা। এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ধর্মীয় বিদ্রূপাত্মক স্লোগানের পর তিনি নিজের পরিচয় আড়াল না করে গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’

ঘটনার সূত্রপাত

গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ কাছাকাছি। তবে ম্যাচকে ঘিরে স্পেনের কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। ম্যাচ দেখতে আসা কয়েকজন স্প্যানিশ সমর্থক মিশরীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি স্লোগান দিতে থাকে—

“El que no bote es un musulmán”

যার অর্থ— ‘যে লাফাবে না বা ভালো খেলতে পারবে না, সে মুসলিম।’

স্প্যানিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ‘যে লাফাবে না, সে…’ ধরনের ছড়া বা স্লোগান দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে ওই ঘটনায় সমালোচনার কারণ ছিল— মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ করতে তাদের মুসলিম পরিচয়কে ব্যবহার করা।

সমর্থকেরা হয়তো এটিকে শুধুই প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, যে দলের সমর্থনে তারা এই স্লোগান দিচ্ছে, সেই স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল নিজেই একজন গর্বিত মুসলিম।

আরও পড়ুন

তাই ‘মুসলিম’ শব্দটিকে বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু মিশরীয় খেলোয়াড়দের নয়, ইয়ামালের নিজের পরিচয়ের প্রতিও অসম্মান হিসেবে ধরা পড়ে।

ইয়ামালের জবাব— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’।

ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৬, ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে লেখেন—

‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা শুনেছি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল— ‘যে লাফাবে না সে মুসলিম’। আমি জানি, এটি প্রতিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক। এমন আচরণ আমরা মেনে নিতে পারি না।’

ইয়ামাল আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নন। তবে যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছেন, তাদের বলব— ফুটবল স্টেডিয়ামে মানুষকে উপহাস করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়।’

তিনি ফুটবলের প্রকৃত চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফুটবল উপভোগ ও ভালোবাসার জায়গা। কার পরিচয় কী বা কে কোন বিশ্বাস ধারণ করে, তা নিয়ে অপমান করার জায়গা নয়।’

ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি বার্তা

লামিনে ইয়ামালের এই প্রতিক্রিয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ছিল না; বরং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখা হয়।

তিনি দেখিয়েছেন, নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেও একজন ক্রীড়াবিদ বিশ্বমঞ্চে সফল হতে পারেন।

ইয়ামাল কখনোই তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেননি। পেশাদার ফুটবলের কঠোর অনুশীলন, ব্যস্ত সূচি ও শারীরিক চাপের মধ্যেও তিনি রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়টি আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

ধর্মীয় পরিচয় ও খেলাধুলার সম্মান

মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই স্লোগান মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে হলেও এর মধ্যে থাকা ধর্মীয় বিদ্রূপ অনেকের কাছেই আপত্তিকর হয়ে ওঠে। ইয়ামাল সেই জায়গাতেই মনে করিয়ে দিয়েছেন— খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণা, বিদ্বেষ বা কোনো মানুষের বিশ্বাসকে অপমান করার স্থান সেখানে হওয়া উচিত নয়।

লামিনে ইয়ামালের ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম’— এই বক্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ নয়; এটি সম্মান, সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। ফুটবল বিশ্বের কোটি মানুষের আবেগের জায়গা। এই আবেগ যেন কখনো বিদ্বেষে পরিণত না হয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে— ইয়ামালের প্রতিবাদ সেই প্রত্যাশাকেই সামনে তুলে ধরেছে।

সূত্র: রিলিজিয়ন আনপ্ল্যাগড ডটকম

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যা দিয়ে এর সব সদস্যকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
সব খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ত করতে চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা
সব খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ত করতে চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে।
সব খেলায় মেয়েদের সম্পৃক্ত করতে চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা
ভারতকে ৩২ রানে আটকে দিয়েও ২ রানে হার জাপানের
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে মাত্র ৩২ রানে আটকে দিয়েও শেষ পর্যন্ত ২ রানে হারল জাপান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩০ রান তুলতে পারে জাপান। ফলে কোনোমতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
ভারতকে ৩২ রানে আটকে দিয়েও ২ রানে হার জাপানের
শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে এশিয়ান গেমসে আবারও চ্যাম্পিয়ন ভারত
এশিয়া কাপের ফাইনালের পর এবার এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদকের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কাকে পাত্তাই দিল না ভারত। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে নারী ক্রিকেটে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো হারমানপ্রিত কৌরের দল।
শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে এশিয়ান গেমসে আবারও চ্যাম্পিয়ন ভারত
জাপানের বিপক্ষে ৩২ রানে আটকে গেল ভারত
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারত ও জাপানের মধ্যে ব্যবধান বিশাল। ভারত যেখানে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয়, জাপানের অবস্থান ৪১তম। তবে বৃষ্টির কারণে পাঁচ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শুরুতেই সেই ব্যবধান ভুলিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক জাপান। মাত্র ১৪ রানের মধ্যে ভারতের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচে বড় চাপ তৈরি করেছে তারা। সানোর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত দুই দলের ইনিংসই পাঁচ ওভারে সীমাবদ্ধ করা হয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। এটি ভারত ও জাপানের পুরুষ দলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত একমাত্র টি-টোয়েন্টিটি হচ্ছে ‘সুজুকি কাপ’ এর অধীনে। মাত্র ৩০ বলের ইনিংস হওয়ায় শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার তাগিদ ছিল ভারতের ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু প্রথম ওভারেই সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা দেয় জাপান। চার্লি হারা-হিনজের ওভারের শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে শোমা সুগায়া-স্লেটারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক শর্মা। প্রথম বলেই কোনো রান না করে আউট হন ভারতের ওপেনার। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের প্রথম বলে শূন্য রানে ফেরার পঞ্চম ঘটনা। এক বছরে পাঁচবার প্রথম বলে ডাক মেরে তিনি এখন রুয়ান্ডার কেভিন ইরাকোজে ও জিম্বাবুয়ের রিচার্ড এনগারাভার পাশে। অভিষেকের বিদায়ের পরও চাপ কাটেনি ভারতের। দ্বিতীয় ওভারে ইব্রাহিম তাকাহাশির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিসের হাতে ক্যাচ দেন সঞ্জু স্যামসন। ৭ বলে ৯ রান করেন তিনি। তৃতীয় ওভারেও উইকেট হারায় ভারত। বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিসের অফ স্পিনে ইনসাইড-আউট শট খেলতে গিয়ে অতিরিক্ত কভারে মাকোতো তানিয়ামার হাতে ক্যাচ দেন ঈশান কিষান। ৬ বলে ৩ রান করে ফেরেন তিনি। ফলে ২.৪ ওভারেই মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ১২ বলে একটি চারসহ ১৬ রান করেন তিনি। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে আইয়ারও আউট হয়ে গেলে ৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩২ রানেই থামে ভারতের ইনিংস। ভারতের হয়ে তিলক ভার্মা ৩ বলে ১ এবং শিবম দুবে ১ বলে কোনো রান না করে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ৩ রান। জাপানের বোলারদের মধ্যে চার্লি হারা-হিনজে ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ইব্রাহিম তাকাহাশি ২ ওভারে ১৩ রান দিয়ে একটি এবং বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস ১ ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন। আরটিভি/এসকে
জাপানের বিপক্ষে ৩২ রানে আটকে গেল ভারত
আরও পড়ুন
১১টি কলমে ‘শৈল্পিক’ নকল, প্রশংসা করলেন শিক্ষক! 
লা ফুয়েন্তের সঙ্গে বড় চুক্তি স্পেনের
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল
স্পেনে নতুন জার্সিতে ভক্তদের চমকে দিলেন মেসি