
পুলওয়ামা কাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানকে একঘরে করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে তারা দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শুটিং বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভিসা দেয়নি। আর এতে করে উল্টো বিপদে পড়েছে ভারত।
পাকিস্তানি শুটারদের ভিসা না দেওয়া অলিম্পিক চার্টার বিরোধী জানিয়ে, ভারতের সঙ্গে আগামী দিনে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) জানায়, আগামী দিনে তাদের অনুমোদিত কোন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারবে না ভারত। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোকেও একই পথ অনুসরণ করতে বলেছে আইওসি।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের লসনে আইওসির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে বিবৃতিতে জানায়, আমরা পুরো বিষয়টি জানার পর শেষ চেষ্টা হিসেবে ভারত সরকারের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। কিন্তু পাকিস্তানি প্রতিযোগীদের ভারতে হতে চলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়েই অলিম্পিক নির্বাহী বোর্ড ভারত সরকার এবং ভারতের জাতীয় অলিম্পিক সংস্থার সঙ্গে সব রকমের আলোচনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী দিনে ভারত অলিম্পিক কমিটি অনুমোদিত যে সমস্ত প্রতিযোগিতার আবেদন করেছিল বা করবে বলে ভেবেছে, সেসব বাতিল করা হল।
পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার জেরে দুই পাকিস্তানি শুটার জি এম বশির এবং খালিল আহমেদের ভিসা দেয়নি ভারত। অলিম্পিক সংস্থা জানিয়েছে ভারত সরকার যতদিন না অলিম্পিক সনদ মেনে চলার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়, ততদিন পর্যন্ত তারা কোনও রকম অলিম্পিক সংক্রান্ত প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারবে না।
অলিম্পিক কমিটির এই সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেল ভারত। দেশটি ২০২৬ সালে যুব অলিম্পিক, ২০৩০ সালে এশিয়ান গেমস এবং ২০৩২ সালে অলিম্পিক আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল। অবস্থার পরিবর্তন না হলে তার কিছুই তারা আয়োজন করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে এ বছরের শেষে যে হকি অলিম্পিক কোয়ালিফায়ার আয়োজিত হওয়ার কথা তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। মেঘ দেখা দিয়েছে। মেঘের ছায়া ২০২১ সালের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের উপরেও।
এর আগে গত বছর নভেম্বর মাসে ভারত দিল্লিতে আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কসোভোর এক বক্সারকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে। সে বারও ভারত অলিম্পিক সনদ অমান্য করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। অলিম্পিক সনদের ৪৪ নং ধারায় বলা রয়েছে, প্রতিটি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি (এক্ষেত্রে ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা) “কেউ যাতে জাতিগত, ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে বৈষম্যের শিকার না হন, তা সুনিশ্চিত করবে।”
এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার অবস্থান খুবই কঠোর। রিও অলিম্পিকের আগে এরকম ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার জন্য কুয়েতের অলিম্পিক যোগ্যতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সম্প্রতি ইসরায়েলিদের ভিসা দিতে অস্বীকার করার জন্য মালয়েশিয়ার ওয়ার্লড প্যারা সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ সংগঠিত করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
এএ




