
বয়স জালিয়াতি ও নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। একই অপরাধে ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ মোট ৬৫ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সংস্থাটি।
আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র ও মূল কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বয়সসংক্রান্ত বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। তদন্তে রোহিত যাদবের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির বয়সের প্রায় ২৭ মাসের ফারাক পাওয়া যায়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চলতি মাসের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজের জন্য তিনি বিবেচনাধীন ছিলেন। তার নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
একই তদন্তে রবি কুমারসহ আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। সিএবির তথ্যমতে, রবি কুমারের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে নথির বয়সের পার্থক্য ৪০ মাসেরও বেশি।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বাঁহাতি পেসার রবি কুমার। একই বছর বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হলেও ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি দলছুট ছিলেন।
সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবি কুমারের বয়সভিত্তিক ক্যারিয়ারের সূচনা থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত অর্জিত সব ব্যক্তিগত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে জালিয়াতি রোধে বিসিসিআই বেশ কিছুদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২০ সালে সংস্থাটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ নীতি চালু করে স্বেচ্ছায় সঠিক বয়স প্রকাশের সুযোগ দিয়েছিল। বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে বয়স প্রমাণের জন্য জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে




