
বাংলাদেশ দলের বর্তমান স্পিন কোচ ও পাকিস্তানের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার মুশতাক আহমেদ জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে নিজ দেশের জাতীয় দলের কোচ হতে চান তিনি। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হঠকারী সিদ্ধান্ত ও ছাঁটাই সংস্কৃতি তাকে সেই দায়িত্ব নিতে ভয় পাইয়ে দেয়।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজের মাঝপথে সাত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মুশতাক। বিবিসি স্টাম্পড পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের কোচ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি অবশ্যই দেশের জন্য এটি করতে চাই, বিশেষ করে এই সময়ে। তবে স্পষ্ট করে বলতে গেলে, আমার শুধু একমাত্র বিষয় নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অনেক সময় নিজের দেশের হয়ে কাজ করতে ভয় লাগে, যখন মানুষ আপনাকে সম্মান দেয় না এবং এখানে-সেখানে কিছু আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাকে চাকরিচ্যুত করে।
তিনি আরও বলেন, যখন আপনি কাউকে দায়িত্বের মাঝপথে বরখাস্ত হতে দেখেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয়ের পর লর্ডস টেস্টের আগেই মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলি আগা, আলী উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মুহাম্মদ আওয়াইজ জাফরকে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। তাদের কয়েকজন কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েন। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়। তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসন ও অস্ট্রেলীয় পেসার অ্যাশলে নফকে।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে মুশতাক বলেন, চলমান ট্যুরের মধ্যেই সাতজন খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টকে বদলে ফেলা কোনোভাবেই সঠিক কাজ নয়। পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একজন সাবেক ক্রিকেটার এবং একজন পাকিস্তানি হিসেবে আমি ব্যথিত। এসব ঘটনা ঘটা উচিত নয়।
সরফরাজ ও উমর গুলের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরফরাজ একসময় অধিনায়কও ছিল। যদি তাদের বরখাস্ত করতেই হয়, তবে অবশ্যই ট্যুর শেষ হওয়ার পর করা উচিত ছিল। এই সময়টা শান্ত থাকার এবং কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার।
পাকিস্তান ক্রিকেটের বিশৃঙ্খলা কাটাতে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের পরামর্শও দিয়েছেন মুশতাক। তার ভাষায়, অতীতে যেসব ক্রিকেটার ও অধিনায়করা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের টেবিলে আনতে হবে এবং তাদের মতামত শুনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারণ আপনি যদি সঠিক কাজের জন্য সঠিক লোকগুলোকে না আনেন, তবে এমন বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে। পেশাদার কাজের জন্য আপনার পেশাদার এবং বিশেষজ্ঞ মানুষ প্রয়োজন।
আরটিভি/এসকে




