
আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটারদের জীবনের গল্পে কতশত অর্জন আর রেকর্ডের ছড়াছড়ি থাকে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার লেসলি হিলটনের জীবনের শেষ অধ্যায়টি লেখা রয়েছে এক চরম ট্র্যাজেডি আর অন্ধকারের ইতিহাসে। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নিজ স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল হিলটনেকে।
১৯৩৪ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন জ্যামাইকান এই ডানহাতি পেসার। বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের সামনে ভয় ধরাতে পারতেন তিনি। দেশের হয়ে ৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলে তার শিকার ছিল ১৬টি উইকেট।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ১৯৪২ সালে লুরলাইন রোজ নামের এক নারীকে বিয়ে করেন হিলটন। ১৯৪৭ সালে তাদের সংসারে আলো ফুটিয়ে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান (পুত্রসন্তান)।
সংসার জীবনের কয়েক বছর পর ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা ও কাজের জন্য নিউইয়র্কে পাড়ি জমান লুরলাইন। সেখানেই রয় ফ্রান্সিস নামের এক বিত্তশালী ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দূরত্বের কারণে স্ত্রীর চালচলনে সন্দেহ জাগলে হিলটন খোঁজ নেওয়া শুরু করেন।
পরবর্তীতে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং স্ত্রীর মুখোমুখি হন হিলটন। হিলটনের প্রশ্নের মুখে লুরলাইনও তার সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন। স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে ক্ষোভে-দুঃখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন হিলটন। ঘরে থাকা রিভলবার দিয়ে স্ত্রীকে লক্ষ্য করে পরপর সাতটি গুলি ছুড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান লুরলাইন।
ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় লেসলি হিলটনকে। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে হিলটনের আইনজীবী যুক্তি দেখান— স্ত্রীর প্রতারণা ও আকস্মিক উত্তেজিত পরিস্থিতিতে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
জ্যামাইকার আদালত তাকে লুরলাইনকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। পরবর্তী সময়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাণভিক্ষার আকুল আবেদন জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। অবশেষে ১৯৫৫ সালের ১৭ মে জ্যামাইকার জেলের চারদেয়ালের মাঝে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে লেসলি হিলটনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ক্রিকেট ইতিহাসের ১২০ বছরেরও বেশি সময়ের যাত্রায় লেসলি হিলটনই একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, যার জীবনের গল্প শেষ হয়েছিল আদালতের রায়ে ফাঁসির কাষ্ঠে।
আরটিভি/এসআর




