
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও দেশজুড়ে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’-এর সফল সমাপ্তি হয়েছে। ২৫ হাজারের বেশি প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ২১ জন উদীয়মান বোলার। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন চারজন নারী বোলার। এছাড়া বয়সসীমার বাইরে থাকলেও অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন দুই খুদে স্পিনার।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ছিল আকর্ষণীয় ভিডিও প্রদর্শনী, ফায়ার শো ও আতশবাজিসহ নানা আয়োজন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেটসহ দেশের নয়টি ভেন্যুতে শুরু হয় প্রাথমিক বাছাইপর্ব। সারা দেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ১৪৩ জনকে (১০৮ পুরুষ ও ৩৫ নারী) ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ট্রায়ালের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৭ জন পেসার ও ৮৬ জন স্পিনার ছিলেন। দুই ধাপের চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে সেরা ২১ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ট্রায়াল ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, বিসিবির কোচ কোরি কলিমোর ও দিপু রায় চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং রবি আজিয়াটা পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নির্বাচিত বোলারদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি জানান, বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে তাদের। সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা হবে প্রতিভাবান বোলারদের।
তামিম বলেন, ‘বিসিবির তরফ থেকে এটাই বলতে চাই, ওদের দায়িত্ব এখন আমার। আমাদের এইচপি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবে, তাদেরকে গ্রুম করা হবে। ওরা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরো অনেক বেশি সার্ভিস দিতে পারে। আমরা নিশ্চিত করব, তাদেরকে যেন ভালোভাবে দেখভাল করা হয়। আশা করি তাদেরকে কোনো প্লাটফর্ম দিতে পারব, যেখানে তারা পারফরম্যান্সটা দেখাতে পারবে।’
নির্বাচিত বোলারদের জন্য বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগে বিশেষ একটি উইং গঠন করা হবে। প্রাথমিকভাবে মেডিকেল পরীক্ষা ও কয়েকটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাদের। এরপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে যারা পরবর্তী পর্যায়ের ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত প্রমাণিত হবেন, তাদের মূল এইচপি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে বোলার হান্টে সর্বোচ্চ গতিতে বল করে আলোচনায় আসা আবিদকে ইতোমধ্যে ডি থ্রি ট্রফির ফ্র্যাঞ্চাইজি একমি গ্রুপ দলে ভিড়িয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তামিম। পাশাপাশি দেশজুড়ে ক্রিকেটারদের উন্নয়নে বিসিবির আরও একটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা শিগগিরই আসছে বলে জানান তিনি।
তামিম বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন একটি প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হবে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, রবি আজিয়াটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, তরুণ প্রতিভাদের সামনে সুযোগ তৈরি করতেই রবি বোলার হান্টের আয়োজন। প্রতিভা যেকোনো জায়গা থেকে উঠে আসতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসিবির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করাই রবির লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং শওকত কাদের চৌধুরীও জানান, এই আয়োজন তরুণদের ক্রিকেটে এগিয়ে আসতে এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুই খুদে স্পিনার। মাত্র ৯ বছর বয়সী ব্যতিক্রমী অ্যাকশনের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সাইফ এবং ১২ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার শোয়েবকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়। নির্ধারিত বয়সসীমা ১৬ বছর হলেও তাঁদের অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, রবি বোলার হান্টের আগের আসরগুলো থেকেই উঠে এসেছেন এবাদত হোসেন ও রিশাদ হোসেনের মতো জাতীয় দলের ক্রিকেটার। এবার নির্বাচিত ২১ বোলারের মধ্য থেকেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট নতুন প্রতিভা খুঁজে পাবে বলে আশাবাদী আয়োজকরা।
আরটিভি/এসকে


