
প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার হাতছানি ছিল বাংলাদেশের সামনে। সে ক্ষেত্রে রোববার (৮ নভেম্বর) ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের ওপর নির্ভর করছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল। ভুটান এই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশকে শেষ ম্যাচের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হতো।
রোববার জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। দুই দলের লড়াই দেখতে ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। তাই প্রতিপক্ষকে সরাসরি দেখার সুযোগটাও কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
ভুটানের বিপক্ষে শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। ১৩ মিনিটে অলিভার কেলার্টের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর একাধিক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না দলটি। উল্টো ৩৪ মিনিটে দাওয়া শেরিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ভুটান। তবে এক মিনিট পরই দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান কেলার্ট। বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে ওয়াসিম রাজিকের হেডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও শুরুতে কাজে লাগাতে পারেনি ভুটান। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল তারা। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন চেনচো গিলশেন। তবে ৭৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে সেই আক্ষেপ ঘোচান ভুটানের এই ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ফলে শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১ করে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৩। ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হওয়ায় শেষ ম্যাচের আগেই সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচে এখন গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। ভুটান অপেক্ষায় আছে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, দলটিতে ১৯ জন বংশোদ্ভূত ফুটবলার রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও সাইপ্রাসের লিগে খেলেন। প্রকৃত স্ট্রাইকার না থাকার সমস্যা নিয়ে ডুলিও অকপট।
তিনি বলেন, নম্বর নাইন না থাকলে কঠিন হয়ে পড়ে। আপনাকে আঘাত করার মানসিকতা থাকতে হবে, আক্রমণাত্মক হতে হবে, চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, ওদের মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আপনি যখন খেলবেন, তখন আপনাকে শক্ত হতেই হবে, নতুবা গোলকিপার বেরিয়ে আসবে। তাই আপনি যদি সেখানে যেতে ভয় পান, তবে আপনার কাউকে নেওয়ারই দরকার নেই।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্কোয়াডে ফিরবেন মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী ও ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ। আগামীকাল দেশে আসবেন তারা।
আরটিভি/টিআর




