ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতিহাসের স্মরণীয় ভয়ঙ্কর বছরগুলো

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:২৪ পিএম
ইতিহাসের স্মরণীয় ভয়ঙ্কর বছরগুলো

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক ধসে ২০২০ সালকে ভবিষ্যতে বিপর্যয় হিসেবে মনে রাখবে মানুষ । তেমনি অতীতের স্মরণীয় ভয়ঙ্কর বছরগুলো এখন ইতিহাসের পাতায় নিদের্শনা হিসেবে রয়েছে।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষ এবং মারা গেছেন ১৬ লাখ। কিন্ত ইতিহাসে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর মহামারির ঘটনা অতীতে ঘটেছে।

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারি ছিল বিউবোনিক প্লেগের প্রার্দুভাব। ১৩৪৬ সালে প্রথম প্লেগের প্রার্দুভাব ছড়াতে শুরু করে।

ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু নামে ইতিহাসে পরিচিত ওই মহামারি পরবর্তী কয়েক বছরে কেড়ে নিয়েছিল শুধু ইউরোপেই আড়াই কোটি জীবন- সারা পৃথিবীতে ওই প্লেগে মারা যায় বিশ কোটি মানুষ। ইতিহাস বলে প্রায় অর্ধেক ইউরোপ উজাড় হয়ে গিয়েছিল ওই ভয়ঙ্কর মড়কে।

স্পেন ও পর্তুগাল থেকে ১৫২০ সালে অভিযাত্রীরা আমেরিকায় নিয়ে যায় গুটি বসন্ত রোগ। ওই মড়কে আমেরিকার আদি জনগোষ্ঠীর ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ উজাড় হয়ে যায়।

এরপর ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু থেকেও পৃথিবীতে মারা গিয়েছিল পাঁচ কোটি মানুষ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ঘরে ফেরা সৈন্যদের থেকে এই ফ্লু ভাইরাস ছড়িয়েছিল। ওই মহামারিতে গোটা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩ থেকে ৫% প্রাণ হারায়।

এইচআইভি এইডস যখন মহামারি আকারে প্রথম ছড়িয়েছিল ১৯৮০র দশকে, তখন সেই মহামারিতেও প্রাণহানি ঘটেছিল তিন কোটি ২০ লাখ মানুষের।

দিও এই ইতিহাস খুবই প্রাচীন, কিন্তু ঐতিহাসিক মাইকেল ম্যাকরমিক বলছেন ৫৩৬ সালে আঠারো মাস ধরে বিশ্বের বিরাট একটি অঞ্চলে আকাশ ছিল অন্ধকার।

আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যযুগ বিষয়ে ইতিহাসবিদ এবং নৃতত্ত্ববিদ মি. ম্যাকরমিক বলছেন ঐ বছর একটা রহস্যজনক কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য ও এশিয়ার অনেক জায়গার আকাশ।

যেসব দেশের আকাশে এই কুয়াশা নেমে এসেছিল সেসব দেশে ১৮ মাস একনাগাড়ে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। সূর্যকে আঠারো মাস ধরে ঢেকে রেখেছিল ঐ কুয়াশার চাদর।

একজন ইতিহাসবিদ লিখেছেন ঐ ১৮ মাস সূর্যের আলো ছিল চাঁদের আলোর মত স্তিমিত ও ঠাণ্ডা।

মাইকেল ম্যাকরমিক বলছেন, "সেটা সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুঃস্বপ্নের সময় ছিল, বেঁচে থাকার জন্য এত খারাপ সময়" পৃথিবীর ওই দেশগুলো আর কখনও পার করেনি।

পৃথিবীর একটা বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশ গ্রাস করেছিল ওই রহস্যজনক কুয়াশা। দীর্ঘ অতগুলো মাস সূর্য তাপ ছড়াতে না পারায় তাপমাত্রা নেমে যায়। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়, মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়।

বিগত ২৩০০ বছরের মধ্যে সেই সময়টাই ছিল সবচেয়ে শীতল যুগ।

এই শীতলতম যুগ ও রহস্যময় কুয়াশার কথা ইতিহাসবিদরা অনেক দিন থেকেই জানতেন। কিন্তু এর সঠিক কারণ জানা ছিল না। সূত্র: বিবিসি বাংলা

মাইকেল ম্যাকরমিক বলছেন তাদের গবেষণা থেকে তারা ধারণা করছেন আইসল্যান্ড অথবা উত্তর আমেরিকার কোথাও একটি ভয়াবহ অগ্নুৎপাত থেকে সম্ভবত এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এই বিশাল অগ্নুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরি থেকে উত্তর গোলার্ধে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে ব্যাপক পরিমাণ ছাই।

গবেষকদের ধারণা আগ্নেয়গিরির ওই উদ্গীরণ থেকে সৃষ্ট কুয়াশা বাতাসের সাথে ছড়িয়ে গিয়েছিল ইউরোপে এবং পরে মধ্য প্রাচ্য ও এশিয়ার অনেকগুলো দেশে। এর থেকেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও শীতল যুগের বিপর্যয় নেমে এসেছিল দেশগুলোর ওপর।

অর্থনৈতিক ধস
করোনা মহামারি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কম বেশি অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। কোটি কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

কিন্তু বেকারত্বের ভয়াবহতা ১৯২৯ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত 'গ্রেট ডিপ্রেশন' বা বিশ্বব্যাপী 'মহা মন্দা'কে এখনও ছুঁতে পারেনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল ১৯৩৩ সাল। বলা হয় আমেরিকায় দেড় কোটির মত লোক এ মন্দার কবলে বেকার হয়ে পড়েন।

ওই অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জার্মানিতে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন বেকার হয়েছিল। ওই বছরই সেসময়কার জনপ্রিয় রাজনীতিক ও তখন দেশটির চান্সেলার অ্যাডল্ফ হিটলার জার্মানির ক্ষমতায় আসেন।

মহা খরা ও মনুষ্য জাতি
ইতিহাসের পাতায় আরেকটি সময় বিশেষ করে এই করোনা মহামারির বছরে সামনে এসেছে। সেটি হল চলাচল নিষিদ্ধ করে মানুষকে এক জায়গায় আবদ্ধ রাখার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমাদের পূর্ব পুরুষরা গিয়েছিলেন বলে নৃতত্ত্ববিদরা মনে করেন।

সেটি ছিল এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগের ঘটনা। তখন এমন এক ঠাণ্ডা ও শুষ্ক যুগের শুরু হয়েছিল ইতিহাসের পাতায় যে যুগের উল্লেখ আছে 'মেরিন আইসোটোপ স্টেজ সিক্স' নামে।

নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কার্টিস ম্যারিয়ান এবং আরও কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন আবহাওয়ার ঐ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির ফলে যে মহা খরা দেখা দিয়েছিল তা মানবজাতিকে প্রায় নিশ্চিহ্ণ করে দেবার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

অধ্যাপক কার্টিস ম্যারিয়ান বলছেন সেসময় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে মনুষ্য প্রজাতির বহু মানুষ একসঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল আফ্রিকার একেবারে দক্ষিণ উপকূলে সমুদ্রের ধারের সম্ভবত কোন এক গুহায়।

সেখানে তারা আবদ্ধ অবস্থায় যে জায়গায় একসঙ্গে ছিলেন সে জায়গায় তার নাম কালক্রমে দেয়া হয় "ইডেনের উদ্যান"।

সেখানে মানুষ প্রজাতি তখন সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করতে শেখে বলে বলছেন অধ্যাপক ম্যারিয়ান। এবং মানুষ প্রজাতির এই মানুষগুলোকে সেসময় বাঁচানো না গেলে মানবজাতি সেসময় পুরো বিলুপ্ত হয়ে যেত।

বিস্ফোরণ বিপর্যয়
এবছর অর্থাৎ ২০২০য়ে বৈরুতের বন্দরে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২,৭৫০টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়ে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে মারা যায় ১৯০জন এবং আহত হয় ৬ হাজারের বেশি মানুষ।

এই ঘটনার পর ইতিহাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলেন বৈরুতের এই বিস্ফোরণ ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ অপারমাণিক বিস্ফোরণ।

তারা বলছেন এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরকের ক্ষমতা ছিল এক কিলো টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান যা হিরোশিমা বোমার শক্তির বিশভাগের এক ভাগ।

তবে ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ভোপাল শহরে মার্কিন কীটনাশক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করা হয়।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী ঐ দুর্ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ এবং এ পরবর্তী বছরগুলোতে ঐ দুর্ঘটনা থেকে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আরও ১৫ হাজারের বেশি মানুষের।

রাসায়নিক থেকে বিষাক্ত যে ধোঁয়া সৃষ্টি হয়েছিল তা পরবর্তী কয়েক দশক ধরে শহরের আবহাওয়ায় ছড়িয়েছিল। ঐ বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে এখনও জীবন কাটাচ্ছে বহু মানুষ, বিধ্বস্ত হয়ে গেছে বহু মানুষের জীবন।

সবশেষে আরেকটি অন্য ধরনের বিস্ফোরণের কথা।

সেপ্টেম্বর ১৯২৩য়ে জাপানে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের ফলে একটা বিধ্বংসী আগুনের ঝড় সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার থেকে এমনকি ভয়ঙ্কর একটা অগ্নি-ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছিল টোকিও আর ইয়োকোহামা শহরের মধ্যে। আর এতে মারা গিয়েছিল এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ।

এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দেশের ২১ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও তিনদিন
সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি আজ শৈত্যপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ ২১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনার ঈশ্বরদী, নওগাঁর বদলগাছী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, বরিশাল ও বরগুনার খেপুপাড়া অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আরও তিনদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে গতকালের মতো আজও (মঙ্গলবার) চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তাপমাত্রা আজ আরও কমেছে। ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তাপমাত্রা নেমে আজ হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে শ্রীমঙ্গলেও। পি  
দেশের ২১ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও তিনদিন
আজ গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বসুন্ধরা গলি থেকে নিউমার্কেট এলাকায় পাইপলাইন নির্মাণকাজ চলবে। এ কারণে বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে। সোমবার তিতাসের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বসুন্ধরা গলি থেকে নিউমার্কেট এলাকায় পাইপলাইন নির্মাণকাজ হবে। এ কারণে গাউছিয়া, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা গলি, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল ও এর আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।  তিতাস কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। পি  
আজ গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়
কাল রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না
বসুন্ধরা গলি ও নিউমার্কেট এলাকায় পাইপলাইন নির্মাণ কাজের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাস থাকবে না। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গাউছিয়া, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা গলি, নিউ এলিফ্যান্ট রোড ও হাতিরপুল সংলগ্ন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আরো পড়ুন... কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ গ্যাস-বিদ্যুতের বকেয়া বিল দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যেই: প্রতিমন্ত্রী পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়েছিল তিতাস গ্যাস: মসজিদ কমিটির সভাপতি (ভিডিও) এসি নয় গ্যাস লাইন থেকে বিস্ফোরণ : ফায়ার সার্ভিস (ভিডিও) পি  
কাল রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না
শিবচরে পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি থামছেই না 
মাদারীপুরের শিবচরে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি। গত রাতে নতুন করে বাঁশকান্দি ও ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়ন থেকে পল্লীবিদ্যুতের আরও দুটি ট্রন্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে উপজেলায় গেলো তিন মাসে ৭ ইউনিয়নে ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ফলে এখনও একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ অন্ধকারে রয়েছে কয়েকশ পরিবার।  এদিকে পল্লীবিদ্যুতের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করার পরেও চুরি থামছে না। মাঝে মাঝেই ঘটছে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। গেলো ৩ মাসে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে পল্লীবিদ্যুতের ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য ভর্তুকির টাকা যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক গরীব পরিবার। শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি, নিলখী, উমেদপুর, শিরুয়াইল, বরেহাতলা দক্ষিণ, ভান্ডারিকান্দি ও পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নসহ তিন মাসে ৮ ইউনিয়নে পল্লীবিদ্যুতের ১৯ ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব এলাকা অন্ধকারে থাকায় একদিকে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সন্ধ্যা হলেই চুরি ডাকাতির আতঙ্কে থাকছে এলাকাবাসী। এখনও বহেরাতলার ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ ভান্ডারিকান্দি ও বাঁশকান্দি এলাকার শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারের রয়েছে। কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়া বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের। মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির (শিবচর জোনাল অফিস) ডিজিএম মোঃ আকমাল হোসাইন বলেন, গেলো দুই মাসে শিবচরে বিদ্যুতের ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি ঠেকাতে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। জনসচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিং করেছি। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে এখনও একটি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রসহ প্রায় একশ পরিবারের মতো মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। অনেক গ্রাহকই আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়া ভর্তুকির টাকা যোগাতে পারছেন না। মাদারীপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে সম্প্রতি শিবচরে পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় চুরি করছে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো উদ্ধারসহ এই চক্রটিকে ধরার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১৯ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শিবচর উপজেলায় বর্তমানে এক লাখ পাঁচ হাজার পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে ৩০০ শিল্প মিটার, ৮ হাজার বাণিজ্যিক মিটার ও ৯৬ হাজার ৭০০ আবাসিক মিটার ব্যবহারকারী রয়েছে। পি  
শিবচরে পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি থামছেই না 
নওগাঁয় ইটের প্রাচীরে ২১ মাস অবরুদ্ধ এক পরিবার 
নওগাঁর রাণীনগরে প্রায় ২১ মাস ধরে নিজ বসত বাড়িতে ঢুকতে না পেরে পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে এক অসহায় পরিবার। বৃদ্ধ দাদীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে রিপন উদ্দিন শাহ। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়ে বিচার না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত ওই পরিবারের সদস্যরা একযোগে আত্মহত্যা করার পথ বেছে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে রিপন উদ্দিন শাহ্ ঘোষগ্রাম মৌজার ৪৮২ খতিয়ানে ৬১৬ দাগের তার পৈতৃক সম্পত্তির ৩১ কাতে ৩ শতক জমির উপরে প্রায় ১০ বছর আগে টিন দিয়ে বাড়ি তৈরি করেন। বাকি জায়গায় নানান জাতের গাছপালা লাগিয়ে তার পরিবার ও বৃদ্ধ দাদীকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার দাদী আম্বিয়া বেগম জীবদ্দশায় নাতি রিপন ও তার বোনদের গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৫১৯৩ নং দলিলমূলে ৩ শতক জমি লিখে দেন।  শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল ও বসবাসের এক পর্যায়ে গত বছরের মার্চ মাসে রিপন শাহ্ তার পরিবারসহ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এই সুযোগে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক স্থানীয় প্রভাবশালী জিয়া উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারিক সরদার তার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে রিপনের বসতবাড়ির চারিদিকে ৫ থেকে ৭ ফিট উঁচু করে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলেন। এক কাপড়ে বের হওয়া রিপন মই দিয়ে প্রাচীর টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলেও চারিদিকে ইটের প্রাচীর অবরুদ্ধ থাকায় তার নিজ বাড়িঘর ছেড়ে স্বজনদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছে।  ভুক্তভোগী রিপন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিকভাবে জানালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বারিক উদ্দিনকে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডেকে পাঠায়। কিন্তু তার ডাকে উপস্থিত না হয়ে বহিরাগত লোকজন নিয়ে প্রাচীরটি আরও মজবুত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।  রিপনের পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়ে মানবিক আর্তনাত করেও অদ্যাবধি কোনো ফলাফল না পেয়ে স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গেলে প্রভাবশালী বারিকের লোকজনরা ওই পরিবারে সদ্যসদের উপর চরাও হয়। এমনকি তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকিও প্রদান করে। প্রভাবশালী আব্দুল বারিক সরদারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন জানান, বিষয়টি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারিক উদ্দিনকে জমির কাগজপত্র নিয়ে আসতে বললেও বারিক আসেনি। পি
নওগাঁয় ইটের প্রাচীরে ২১ মাস অবরুদ্ধ এক পরিবার 
আরও পড়ুন
অনুদানের ছবি পেতে ছুটছেন তারকারা!  
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
বিনাদোষে ৪ বছর কারাগারে আরমান, মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের
ফ্রান্সে নতুন বছরের উদযাপন ঠেকাতে এক লাখ পুলিশ মোতায়েন