ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পৌষের প্রথম বৃষ্টি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শৈত্যপ্রবাহ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৫৯ পিএম

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি তার সঙ্গে মৃদুমন্দ হাওয়া। পৌষ মাসের এ সময়ে শীতের আবহ না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতের অনুভূতি বাড়িছে আজকের পৌষের প্রথম বৃষ্টি।

আজ (সোমবার) ভোর থেকে ঝির ঝির বৃষ্টি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিমাণ বাড়তে থাকে। তবে অঝোরে বৃষ্টি হয়নি।

ছাতা বা রেনকোট ছাড়া যারা বের হয়েছে তারাই পড়েছেন বিড়ম্বনায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল যাত্রীরা। কাউকে ছাতা নিয়ে আবার কাউকে মাথায় পলিথিন দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার ভেজা কাপড়ে দাঁড়িয়ে আছে যাত্রী ছাউনিতে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় পেথাইয়ের প্রভাবে রোববার মধ্যরাত থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।

এদিকে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ।

সোমবার সকালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন তিনি। এসময় ভারতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় পেথাইয়ের প্রভাবে সারাদেশে ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরএস/জেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সারাদেশের সঙ্গে খুলনার ট্রেন চলাচল বন্ধ
ঝিনাইদহে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পার্বতীপুর থেকে খুলনাগামী রকেট ট্রেন শনিবার রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহের বারো বাজার স্টেশনে পৌঁছালে ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। তবে ট্রেনের অন্য কোনো বগি লাইনচ্যুত হয়নি এবং যাত্রীদের কারও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। রেলের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপার এ এন এম শাহনেওয়াজ জানান, লাইনচ্যুত ইঞ্জিন উদ্ধারে খুলনা থেকে রিলিফ ট্রেন যাত্রা করেছে। তবে কতক্ষণে সেটি পৌঁছাবে এবং লাইন ঠিক হবে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি রেলের এই কর্মকর্তা। আরও পড়ুন : ভোটের আগের রাতে দুই যুবক খুন জেবি
সারাদেশের সঙ্গে খুলনার ট্রেন চলাচল বন্ধ
মিরপুরের বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তিতাস গ্যাস কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজের জন্য গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর করতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত মিরপুর- ১, ২, ৬, ৭, ১০, ১১ ও ১২ এর রাস্তার উভয় পাশ, ইস্টার্ন হাউজিং, রূপনগর, আরামবাগ, আলুবদি, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, ডিওএইচএস ও এর আশে পাশের এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সিএনজি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। জেএইচ
মিরপুরের বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে
হঠাৎ শীতে ভোগান্তিতে মানুষ, বৃষ্টি হতে পারে আজও
গেল দু’দিনের বৃষ্টির কারণে সারাদেশে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হঠাৎ শীতের ভোগান্তিতে আছে মানুষ। গ্রামীণ ও শহুরে মানুষের জীবনে এসেছে নতুন পরিবর্তন। গত দু’দিন ধরে  রোদের দেখা মেলেনি। ফলে বেড়ে যায় শীতের তীব্রতাও। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে সব থেকে অসুবিধায় পড়েছে রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষগুলো। হঠাৎ শীতের আগমনে বেড়ে গেছে শীতের কাপড়ের বিক্রি। ভিড় বেড়েছে মার্কেটগুলোতে। আবহাওয়া অফিস জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’-এর প্রভাবে আজ বুধবারও সারাদেশে বৃষ্টিপাত এবং কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। বৃষ্টিপাত এবং কুয়াশা বৃদ্ধির সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা কমবে। ফলে শীতের প্রকোপ বাড়বে।  মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফেথাই ভারতের অন্ধ্র উপকূল (কাকিনাদার নিকট দিয়ে) অতিক্রম করে উত্তর/উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে ক্রমান্বয়ে গভীর নিম্নচাপ, নিম্নচাপ, সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সর্বশেষে লঘুচাপে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থান করছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া আজ বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মেঘলা থাকতে পারে, আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ০৮-১২ কিলোমিটার/ঘণ্টায় বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং  দিনের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে। জিএ/এসএস
হঠাৎ শীতে ভোগান্তিতে মানুষ, বৃষ্টি হতে পারে আজও
খাল ভরাটে জলাবদ্ধতায় তিন হাজার পরিবার
শরীয়তপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে ভরাট করেছে। ফলে প্রায় ১০ বছর যাবত পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চর পালং এলাকার প্রায় চারশ বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে আছে। এতে কমপক্ষে তিন হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। চরপালং এলাকার ইদ্রিস মাদবর ও মোসলেম মিয়া বলেন, শরীয়তপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও তৃতীয় শ্রেণির কোনও সুযোগ-সুবিধা পায়নি এই এলাকার মানুষ। বিশেষ করে শরীয়তপুর পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একমাত্র শরীয়তপুর-কোটাপাড়া খালটি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে বড় বড় ইমারত তৈরি করেছে। ফলে পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড এলাকার পানি নামতে পারছে না। কোটাপাড়া থেকে রাজগঞ্জ পর্যন্ত চরপালং এলাকায় প্রায় চারশ’ বিঘা ফসলি জমি প্রায় ১০ বছর ধরে পানির নিচে ডুবে আছে। ১২ মাস পানির নিচে ডুবে থাকার কারণে কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। ওই এলাকার প্রায় তিন হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে যেকোনো ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। শুকনো মৌসুমেও তাদের নৌকা দিয়ে বাড়ি থেকে শহরে আসতে হচ্ছে। এলকাবাসীর অভিযোগ প্রতি বছর দফায় দফায় পৌরকর বাড়লেও পৌরসভার কোনও সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও তারা কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের দাবি এ এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যতায় কৃষকের দুরবস্থা শেষ হবে না। শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, ১০-১২ বছর ধরে চর পালং এলাকায় জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়েছে। শুকনো মৌসুমেও আমাদের পানি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। পৌরসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পরে তা আর রাখে না। আমরা এখন অসহায়। চরপালং এলাকার ইসহাক মাদবর বলেন, আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। এ জলাবদ্ধতা দূর করতে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে এ এলাকার বাসিন্দারা চরম কষ্টের মধ্যে বসবাস করছে। জরুরি ভিত্তিতে একটি ড্রেন নির্মাণ করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তিন নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ কারণে কৃষকেরা জমিতে ফসল করতে পারে না। এ জলবদ্ধতা দূর করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ড্রেন করে পালং খালে পানি নামানো ব্যবস্থা করব। এরপরে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য পদক্ষেপ নেব। জেবি
খাল ভরাটে জলাবদ্ধতায় তিন হাজার পরিবার
খেলার জায়গা নেই, রেস্টুরেন্টমুখী কিশোররা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
কিশোর বা যুবক বয়সে বসে থাকা কি সেটা বুঝতাম না। আমাদের মতো ব্যস্ত মনে হয় তখনকার কোনও ভিআইপি লোকও ছিল না। সারাদিন থাকতাম দৌড়ের উপর। স্কুলে যখন পড়তাম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতাম। স্কুলে যেয়ে বেঞ্চে ব্যাগটা রেখেই প্রথম ধাপের খেলাটা শেষ করে ফেলতাম। পরে টিফিন টাইমে আবার খেলা শুরু। স্কুল শেষ করে কোনমতে খেয়ে আবার মাঠে দৌড়। মাঝে মাঝে মাঠে যেতে না পারলে রাস্তায়ও খেলতাম। আর শীত আসলে আবার রাতেও ব্যস্ত থাকতাম ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে। কথাগুলো বলছিলেন ইয়াসিন নামে (৪৮) একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনাদের শৈশব কেমন কেটেছিল। এই রকম প্রশ্ন আরও বেশ কয়েকজনকে করা হলে তাদের উত্তরও প্রায় একই আসে। কিন্তু রাজধানীতে এখন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বলতে গেলে অবাকই হওয়ার মতো। হঠাৎ করেই ঢাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খাবারের দোকানগুলো বা রেস্তোরাঁয়। একসময় ঢাকায় বিদেশি খাবার মানেই ছিল চায়নিজ ও থাই ফুড। কিন্তু তখন যেখানে সেখানেও চাইনিজ খাবার পাওয়া যেত না।   বর্তমানে ধানমণ্ডি, বেইলিরোড বা খিলগাঁওয়ের কথাই ধরা যাক। এখানে এখন বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি খাবারের রেস্তোরাঁ বেশ জমে উঠেছে। উৎসব উৎসব একটা ব্যাপার থাকে সবসময়। রাকিব (২২) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভার্সিটির ক্লাস শেষে প্রায় প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেয়। সেখানে চিকেন, পিজ্জা, বার্গারসহ নানা ধরণের জাঙ্ক ফুড খায়। রাকিবের সঙ্গে আসে মোহনা, সুপ্রিয়া, অর্ণব, মৃদুল ও পিয়াস। প্রতিদিন একজন অন্যদের ট্রিট দেয়। কখনও ভাগাভাগি করে ট্রিট দেয়। তারপর গল্প-আড্ডা শেষ করে বাসায় ফিরে। শুধু রাকিব, পিয়াস, মোহনা, সুপ্রিয়া নয় এখন শহরের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের কর্মসূচী এমনই। অনেক রেস্তোরাঁয় তরুণদের আকর্ষণ করতে খাবারের পাশাপাশি চালু করেছে আকর্ষণীয় মিউজিক শোনার ব্যবস্থা। কোথাও কোথাও আছে ধূমপানের জন্য আলাদা জোনও।  যেসময় কিশোর বা তরুণদের খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা সেসময় তারা সময় কাটাচ্ছে এইসব রেস্তোরাঁয়। বিনোদন হিসেবে এটাকে বেছে নিয়েছে অনেকে। যেহেতু তারা রেস্তোরাঁয় সময় কাটাচ্ছে, তাদের কিছু না কিছু খেতেই হচ্ছে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ। মুখরোচক ফাস্টফুড ঠিক কতটুকু ক্ষতিকর সেটা তাদের অনেকেরই অজানা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. বেলাল হোসাইন বলেন, জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড গ্রহণ করার পর শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি সঞ্চয় হয়। যেহেতু তারা খেলাধুলা বা শারীরিক ব্যায়াম ও কসরত করছে না ফলে স্থূলতা বেড়ে যাচ্ছে বা মোটা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ডায়াবেটিক, হাইপারটেনশন ও কিডনি সমস্যা হচ্ছে।  তিনি বলেন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়, রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল হয়। ইদানীং ছোট-বড় সবার কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিচ্ছে।  এটা তো গেল একদিক। তবে কেন রেস্তোরাঁয় এইসব কিশোর-কিশোরী বা তরুণরা সময় কাটাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে খেতে আসার কারণ খুঁজতে গিয়ে কথা হয়, ধানমণ্ডির কেএফসিতে আসা সুলতানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আসলে মাঠে যেতে মন চায়, কিন্তু মাঠ কোথায় খেলবো কোথায়? খোলা জায়গাও নেই। ধানমণ্ডির ১৫ নম্বরে কেবি স্কয়ারের একটি রেস্টুরেন্টে রিফাত(১৬) নামের এক কিশোরকে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের জন্য বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা আছে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মজার সময় পার করা যায়। যে সুবিধা অন্য জায়গায় পাওয়া যায় না। আর অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই।’   রাজধানীর স্বনামধন্য একটি রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে খেতে আসা নাসিমা বেগম (৩৮) বলেন, বাচ্চারা বাহিরে খোলা কোনও পরিবেশ পায় না। না পেতে পেতে এখন যেতেও চায় না। আর এখন খোলা মাঠ বা পার্কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর অবস্থা অতি করুন। এসবের কোনওটি চলাচলের অনুপযোগী, কোনওটিতে প্রবেশের অধিকার নেই, কোনওটিতে সংস্কারের কাজ চলছে, আবার পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে কেউবা ইচ্ছে করেই ওইসব জায়গায় প্রবেশ করেন না।     এদিকে কিশোর বা তরুণদের রেস্টুরেন্টমুখী হওয়ার বিষয়ে  জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মেখলা সরকার বলেন, ‘রেস্টুরেন্টে জাঙ্কফুড বা ফাস্টফুড খেয়ে অনেক রকমের রোগ হবার সম্ভাবনা তো বেড়ে যাচ্ছেই, পাশাপাশি বাচ্চাদের স্থূলতা বেড়ে যাচ্ছে, মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিনোদন শুধুমাত্র রেস্টুরেন্ট কেন্দ্রিক হচ্ছে। ফলে এখানে না আসতে পারলে মন খারাপ হচ্ছে। মানসিকভাবে একটা অশান্তি তৈরি হচ্ছে। যা অদূর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের দৈনন্দিন গতিশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য অবশ্যই স্বল্প পরিমাণে বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও সেখানে যেতে হবে|’   সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, কাগজে কলমে দুই সিটিতে ১৬টি খেলার মাঠ ও ৪১টি পার্ক উল্লেখ আছে। কিন্তু অভিযোগ আছে, অনেকগুলো মাঠ ও পার্কের অস্তিত্ব বাস্তবে নেই। কয়টি আছে তাও আবার অবৈধ দখলে। অনেকগুলো মাঠ আছে যেগুলোতে সাধারণ মানুষ খুব কম ঢুকতে পারে।  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ন প্রকৌশলী তারিক বিন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২টি পার্ক এবং ৪টি খেলার মাঠ রয়েছে। যেগুলো প্রত্যেকটি উন্নয়নের কাজ চলছে। কোনও গতানুগতিক ধারায় না নতুন প্রজন্মের কাছে যেন তাদের পছন্দসই জায়গা হিসাবে পরিচিত করা যায় সেজন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও নগরায়ণ-সুশাসন কমিটির সদস্যসচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য একটি মাঠ থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের শহরে প্রতি স্কয়ার কিলোমিটারে মানুষের সংখ্যা ৪৭ হাজার। সেখানে প্রতি স্কয়ার কিলোমিটারে ৪টি মাঠ প্রয়োজন। এ তথ্য অনুসারে রাজধানীতে মাঠ করার মতো সক্ষমতা আমাদের  নেই। তবে যেসব মাঠ রয়েছে তা সাংবিধানিকভাবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া বুঝিয়ে দেয়া সরকারের উচিত।  তিনি আরও বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ৫০টি খেলার মাঠের পরিকল্পনা নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছে। দক্ষিণ জল সবুজের ঢাকার অধীনে ৩১টি ও আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্টের আওতায় ২৪টি। বর্তমানে যেসব প্রজেক্ট তৈরি করা হচ্ছে সব পার্কে খেলার মাঠ, বয়স্ক ও নারীদের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হচ্ছে। ঢাকার বাড়িগুলো রিজেনারেশন করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকায় বেশির ভাগ বাড়ি তিন থেকে চার তলা। তবে বাড়িগুলো রিজেনারেশন করে উঁচু বাড়ি করা হলে আবাসনের বাহিরে দেড়গুণ জায়গায় উঠান, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বয়স্ক, নারী ও শিশুদের ঘোরাফেরার জন্য স্থান বের করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ সিঙ্গাপুর গেল ২৫ বছর ধরে সরকারি প্রণোদনায় পাবলিক ও প্রাইভেট বিনিয়োগের মাধ্যমে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এভাবেই তাদের শহর গড়ে তুলেছে। যা আমাদের দেশেও পরিকল্পিতভাবে করা সম্ভব। জিএ/এসএস
খেলার জায়গা নেই, রেস্টুরেন্টমুখী কিশোররা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
আরও পড়ুন
হঠাৎ শীতে ভোগান্তিতে মানুষ, বৃষ্টি হতে পারে আজও
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে
‘ঝড় বৃষ্টি আঁধার রাতে, আমরা আছি নৌকার সাথে’
‘নীল আকাশের বৃষ্টিতে’