
অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল সহকারী জেমিনি চালু করার চূড়ান্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেশিরভাগ ডিভাইসে জেমিনিকে ডিফল্ট সহকারী হিসেবে চালুর কথা থাকলেও, ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জেমিনিতে স্থানান্তরের এই আপডেট আগামী বছরজুড়েই চলবে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
২০২৪ সালে পিক্সেল ৯ সিরিজের মাধ্যমে জেমিনিকে ডিফল্ট সহকারী হিসেবে চালুর পর থেকেই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠে। ধীরে ধীরে স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলো জেমিনিতে যুক্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ট্যাবলেট, গাড়ি, হেডফোন এবং স্মার্টওয়াচের মতো ডিভাইসেও জেমিনি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের।
তবে এই সুবিধা পেতে ডিভাইসটিতে অন্তত অ্যান্ড্রয়েড ১০ ভার্সন এবং ন্যূনতম ২ জিবি র্যাম থাকা প্রয়োজন।
২০১৬ সালে পিক্সেল ফোনের এক্সক্লুসিভ অ্যাপ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। দীর্ঘ সময় ধরে এটি সিরি বা অ্যালেক্সার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ২০২১ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সহজ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৬.৫৭ শতাংশ সফল ছিল, যেখানে অ্যালেক্সা এবং সিরির সফলতা ছিল যথাক্রমে ৫৬.২৯ শতাংশ ও ৪৭.২৯ শতাংশ।
তবে বর্তমান সময়ের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রবল প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে একসময়ের জনপ্রিয় এই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। সূত্র: এন গ্যাজেট।
আরটিভি/এএইচ




