ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল রূপান্তর ও এআইকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা বিএনপির

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৭ পিএম
বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান- ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে আরও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দলটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি সরকারি খাত, বেসরকারি খাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেবে। এর মাধ্যমে এআই গবেষণাগার, ডেটা সেন্টার ও উদ্ভাবন হাব গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুনভাবে গড়ে দিচ্ছে, “কিন্তু বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।” তবে বিএনপি চায় না কেবল প্রচার বা হাইপ তৈরি করতে। বরং তারা গুরুত্ব দিতে চায় মৌলিক প্রস্তুতিতে—ডেটা প্রস্তুতি, অবকাঠামো প্রস্তুতি এবং ব্যবহারিক প্রয়োগে। এইভাবেই টেকসইভাবে একটি এআই-সক্ষম দেশ গড়ে তোলা যায়, তিনি মন্তব্য করেন।

ডিজিটাল সাক্ষরতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বিভাজিত বা সেগমেন্টেড পদ্ধতি গ্রহণ করবে। তরুণদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে পরিচিতি তৈরি, শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কাঠামোবদ্ধ দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী আপস্কিলিং কর্মসূচিতে। আর বয়স্ক নাগরিক ও প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞদের জন্য স্থানীয় ডিজিটাল সেন্টার ও আউটরিচ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কমিউনিটি-ভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে—শুধু প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ নয়।

এআই চাকরি কেড়ে নেবে—এমন উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এআইকে প্রতিযোগী নয়, সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত। কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় হবে, কিন্তু সেখান থেকেই উৎপাদনশীলতা আসে।

সঠিকভাবে এআই ব্যবহারের দক্ষতা থাকলে শ্রমশক্তি আরও উচ্চমূল্য সংযোজনের স্তরে যেতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, বিএনপি এআইকে একটি ‘ক্রস-কাটিং ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে দেখছে এবং স্লোগানের বদলে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবায় বাস্তব প্রয়োগে গুরুত্ব দিতে চায়।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি জাতীয় এআই দক্ষতা কাঠামো চালুর পরিকল্পনাও করেছে, যেখানে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ থাকবে—সাধারণ মানুষের জন্য মৌলিক সচেতনতা, পেশাজীবীদের জন্য প্রয়োগভিত্তিক দক্ষতা এবং প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের জন্য উন্নত গবেষণা। আমরা সবাইকে এআই ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চাই না। শিক্ষা সংস্কার শুরু হবে স্কুল পর্যায়ে এআই ও ডিজিটাল মৌলিক ধারণা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। এরপর উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন খাতে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত গবেষণা ট্র্যাক চালু করা হবে।

তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই প্রয়োগভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় নেতৃত্ব দেবে, আর ভবিষ্যতের একটি আইসিটি মন্ত্রণালয় প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করবে।

অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ মিলেনিয়াল ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য, তিনি বাংলা ভাষাভিত্তিক একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) তৈরির ওপর জোর দেন, যাতে এআই ইন্টারফেস বাংলায় কাজ করে। ইংরেজি ভাষা বাধা হয়ে মানুষ যেন বাদ না পড়ে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলা এলএলএম তৈরি করা কঠিন হবে এবং এর জন্য বিপুল পরিসরে বাংলা বই, আর্কাইভ ও জ্ঞানভান্ডার ডিজিটাল করতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান ডিজিটাল আইনগুলো ত্রুটিপূর্ণ এবং আগের সরকার এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি হলো একটি জাতীয় এআই কৌশল প্রণয়ন করা, যা একটি এআই টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং এতে স্পষ্ট নৈতিক সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নীতিমালায় একটি এআই এথিকস কমিটি থাকবে, যা গোপনীয়তা, পক্ষপাত ও জবাবদিহির বিষয়গুলো দেখবে—OECD ও UNESCO–এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা অনুযায়ী। বিএনপি নাগরিক অধিকার সংগঠন, শিক্ষাবিদ, খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এবং রাজনৈতিক অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে দেশের প্রথম এআই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায়।

বিদেশি এআই টুলের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতাও একটি উদ্বেগের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ক্ষেত্রে বিএনপির উত্তর শুরু হবে অবকাঠামো দিয়ে—এআই-প্রস্তুত ডেটা সেন্টার, বিশেষায়িত কম্পিউটিং সক্ষমতা (জিপিইউ/টিপিইউ শ্রেণির), নির্ভরযোগ্য ডেটা পাইপলাইন এবং স্বল্প-বিলম্বের ক্লাউড সিস্টেম। তাদের “বাংলাদেশ রিইম্যাজিনড: দ্য টেক ডিকেড” ব্লুপ্রিন্টে দেশের প্রথম এআই-সক্ষম ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংযোগ বা কানেক্টিভিটিকে তিনি পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রয়োজন হলে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সংস্কার শুরু করতে চায়, এরপর সারা দেশে সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে। দেশীয় এআই প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষ্য থাকবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত—এআই-সক্ষম সংযুক্ত স্কুল, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। ঠিকভাবে করতে পারলে এই খাতগুলোতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা সম্ভব।

উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তুলতে বিএনপি সরকারি-বেসরকারি-একাডেমিক অংশীদারত্বকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। এখানে সরকার হবে সহায়ক, কেবল অনুদান বিতরণকারী নয়। টেকসই উদ্যোগ, যৌথ দায়িত্ব ও যৌথ ঝুঁকিই হবে মডেল—চাই তা উদ্ভাবন হাব, ডেটা সেন্টার কিংবা গবেষণাগারই হোক।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখছে। একীভূত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘এআই বনাম নন-এআই’ এই দ্বৈততায় চাকরি সৃষ্টি মাপা যায় না। বিএনপির লক্ষ্য প্রথম মেয়াদে ডিজিটাল উদ্যোগ থেকে জিডিপিতে ২.০–৫.০ শতাংশ পয়েন্ট অবদান, সরাসরি ২ লাখ আইসিটি চাকরি এবং পরোক্ষভাবে আরও ৭–৮ লাখ চাকরি সৃষ্টি, যদি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়।

তার ভাষায়, আমাদের লক্ষ্য শব্দচয়ন নয়—স্কেল, টেকসইতা ও অর্থনৈতিক অবদান।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে
নতুন বছর ২০২৬ প্রযুক্তির জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ ও বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছর জেনারেটিভ এআই, ডিজিটাল টুইন এবং হাইপার অটোমেশনের মতো প্রযুক্তিগুলো আমাদের দৈনন্দিন ও কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআই এখন আর কেবল চ্যাটবট বা ছবি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে যাচ্ছে। এর ফলে রিপোর্ট লেখা থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ ও কোড তৈরির মতো জটিল কাজগুলোতে এআই সরাসরি মানুষের সহকারী হিসেবে কাজ করবে। এমনকি ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই-প্রস্তুত কর্মী বাহিনী তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ সার্টিফিকেশন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম চালু করার পরিকল্পনা করছে। একইভাবে ২০২৬ সালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি। কোনো বাস্তব বস্তু বা সিস্টেমের হুবহু ভার্চুয়াল কপি তৈরির এই পদ্ধতিটি কারখানা, ভবন বা বিমানের রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও কাজের গতি সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে সক্ষম হবে। এটি মূলত শিল্প খাতের জন্য একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-পাইলট হিসেবে কাজ করবে, যা উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতকে আরও দক্ষ ও নিরাপদ করে তুলবে। এর পাশাপাশি হাইপার অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন ও এআই এজেন্টদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্রাহক সেবায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আরও পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির মিছিলে ২০২৬ সালে বিশেষ নজর কাড়বে ডোমেন-স্পেসিফিক ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা ডিএসএলএম। সাধারণ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই মডেলগুলো স্বাস্থ্য, আইন কিংবা ব্যাংকিংয়ের মতো নির্দিষ্ট খাতের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে, যা সাধারণ এআই-এর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল ফলাফল দেবে। উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ডিএসএলএম সাধারণ এআই-এর চেয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যে অনেক বেশি পারদর্শী হবে। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হবে জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার। ‘কাউকে বিশ্বাস না করে যাচাই করা’—এই মূলমন্ত্রে পরিচালিত এই নিরাপত্তা মডেলে প্রতিটি অ্যাকসেস অনুরোধ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই মডেলটি গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সাল হবে প্রযুক্তির আরও পরিণত ও ব্যবহারিক রূপের বছর, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে। আরটিভি/এএইচ
প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে
আইফোনে আড়ি পাতলে শনাক্ত করবেন যেভাবে
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সংরক্ষিত থাকে অসংখ্য সংবেদনশীল তথ্য। তবে ফোনের মাইক্রোফোন, ক্যামেরা বা লোকেশন ব্যবহার করে কোনো অ্যাপ আপনার ওপর নজরদারি করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের আইওএস সিস্টেমে এমন কিছু শক্তিশালী নিরাপত্তা ফিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে খুব সহজেই গোপন নজরদারি শনাক্ত করা এবং তা বন্ধ করা সম্ভব। আইফোন ব্যবহারের সময় পর্দার ওপরের অংশে হঠাৎ কমলা বা সবুজ রঙের বিন্দু দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। যদি পর্দার ওপরের দিকে ছোট একটি কমলা রঙের বিন্দু দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে ফোনের মাইক্রোফোনটি সক্রিয় রয়েছে এবং শব্দ ধারণ করছে। অন্যদিকে, সবুজ বিন্দুর অর্থ হলো ফোনের ক্যামেরাটি বর্তমানে চালু আছে। কল করা বা ভিডিও ধারণের সময় এই সংকেতগুলো স্বাভাবিক হলেও, কোনো কারণ ছাড়া এগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে কোনো অ্যাপ গোপনে আপনার কথা শুনছে বা ভিডিও করছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কন্ট্রোল সেন্টার পরীক্ষা করে কোন অ্যাপটি এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করছে তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আরও পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইফোনের ‘অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট’ একটি অত্যন্ত কার্যকর টুল। সেটিংসের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি অপশন থেকে এটি চালু করলে সহজেই জানা যায় কোন অ্যাপ কতবার আপনার লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছে। এছাড়া ‘ফাইন্ড মাই অ্যাপ’ ফিচারের মাধ্যমে আপনার অবস্থান বা লোকেশন অজান্তে অন্য কারো সাথে শেয়ার করা হচ্ছে কি না, তাও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুরনো পরিচিত কেউ যাতে আপনার চলাচলের ওপর নজর রাখতে না পারে, সেজন্য এই সেটিংসটি যাচাই করা নিরাপদ। জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইওএসে ‘সেফটি চেক’ নামক একটি বিশেষ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। সেটিংসের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি মেনুর অধীনে থাকা এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন কোন কোন ব্যক্তি বা অ্যাপের সঙ্গে তার তথ্য শেয়ার হচ্ছে। যদি মনে হয় কোনো অ্যাপ সন্দেহজনকভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে, তবে এর ‘ইমার্জেন্সি রিসেট’ বাটন চেপে মুহূর্তের মধ্যেই সব ধরনের তথ্য শেয়ারিং বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। প্রযুক্তির এই সাধারণ কিন্তু শক্তিশালী ফিচারগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আইফোন ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন। আরটিভি/এএইচ
আইফোনে আড়ি পাতলে শনাক্ত করবেন যেভাবে
নির্বাচনের আগে সিম কার্ড নিয়ে ‘নতুন সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে সরকার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক ব্যক্তির নামে সিম কার্ডের সংখ্যা আরো কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি নতুন সিম নিবন্ধন করতে পারবেন।  বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম কার্ড রয়েছে, সেগুলোর সংখ্যাও ধাপে ধাপে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আগের মতোই আপত্তি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। এদিকে সিম ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে সিম কেনার সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করা হচ্ছে। এই অনিয়মের বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক এক দিনেই দুইটির বেশি সিম কিনছেন, যা স্বাভাবিক নয়। বিটিআরসির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিল ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত ১০ বছরে দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে যেখানে ব্যবহারকারী ছিলেন ১৩ কোটি ৩৭ লাখ, তা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।সিম ব্যবহারের অপব্যবহার রোধে সরকার ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। সংস্থার একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ নিবন্ধিত সিম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় এবং বাকি সিমগুলো নিবন্ধিত হলেও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি। এসব সিম গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, তিন মাস সময় দেওয়ার পরও যারা ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের সক্রিয় সিম বাতিল করা হবে। কত সংখ্যক সিম এখনো বাতিল হয়নি তা পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন করে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না। আরটিভি/এএ 
নির্বাচনের আগে সিম কার্ড নিয়ে ‘নতুন সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে সরকার
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা
২০২৫ সালে বাংলাদেশের তরুণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে—আর তা হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ডিভাইস সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ। শিল্প পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, স্মার্টফোন এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষা, আর্থিক লেনদেন, পেশাগত কাজ ও বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠায় এর নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গবেষণা বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্মার্টফোন চুরি, ফিশিং বা অনলাইন প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণরাই মোবাইল ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, অনিরাপদ চার্জিং অভ্যাস এবং দুর্বল প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণের কারণে ডিভাইসগুলো দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় দেশের বাজারে সক্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোও এখন কেবল ফিচারের দিকে না তাকিয়ে ডিজিটাল সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। ইনফিনিক্স জানিয়েছে, ২০২৫ সাল জুড়ে তরুণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তারা ডিভাইস ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করেছে। সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস ও গেমিং প্ল্যাটফর্মে তরুণদের উপস্থিতি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। টেলিকম খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাড়তি নির্ভরতার কারণেই ব্যবহারকারীরা এখন স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ডেটা সুরক্ষা, ব্যক্তিগত ফাইলের গোপনীয়তা এবং অ্যাপের ‘পারমিশন’ বা অনুমতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। খুচরা স্মার্টফোন বাজারের তথ্যও একই ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন ফোন কেনার সময় এখন ক্রেতারা ডিজিটাল সিকিউরিটি ফিচার নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। আরও পড়ুন ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেতনে নিয়োগ দেবে চ্যাটজিপিটি বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্যবহারকারীদের আচরণগত পরিবর্তনের একটি বড় প্রমাণ, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক ডেটার সুরক্ষাকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্র্যান্ড তাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনের চুরি সতর্কতা ব্যবস্থা, নিরাপদ ফাইল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ডিভাইস প্রোটেকশন মোড এবং আধুনিক চার্জিং প্রযুক্তির মতো ফিচারগুলো সচেতন অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হলে দৈনন্দিন ডিজিটাল ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেবল উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া, সন্দেহজনক সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ পারমিশন বন্ধ রাখা এবং বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় নিরাপদ চার্জিং অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে ডিজিটাল জীবনযাত্রা যত বেশি বিস্তৃত হচ্ছে, স্মার্টফোন সুরক্ষার বিষয়টি ততই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা বলছে, নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাই আগামী দিনে তরুণদের ডিজিটাল জীবনকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি হবে। আরটিভি/এএইচ
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা
টিকটক নিয়ে সুখবর
চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক ঘিরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। ডেটা নিরাপত্তা ও চীনা মালিকানার কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালু রাখার পথ তৈরি করেছে জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ। চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একদল মার্কিন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য TikTok USDS Joint Venture LLC নামে একটি নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানই অ্যাপটির দৈনন্দিন পরিচালনা, ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা, অ্যালগরিদম তদারকি ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। নতুন বিনিয়োগকারী দলে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল, প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম সিলভার লেক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্স। তাদের সম্মিলিত মালিকানা হবে ৪৫ শতাংশ। বাইটড্যান্সের হাতে থাকবে প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার, আর বাকি অংশ থাকবে অন্যান্য অংশীদারদের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বরাতে জানা গেছে, টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। নতুন প্রতিষ্ঠানটি অ্যালগরিদম নিরাপত্তা, সফটওয়্যার যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। চুক্তি অনুযায়ী, বাইটড্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের কোনো ডেটায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং অ্যালগরিদম পরিচালনায় তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আলাদা একটি অ্যালগরিদম তৈরি করা হবে, যেখানে বাইটড্যান্সের সম্পৃক্ততা থাকবে না। ওরাকল এই উদ্যোগে প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত অডিট পরিচালনা করবে এবং চুক্তির শর্তগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করবে। বাইটড্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলবে এবং মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য টিকটক চালু রাখবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬। এদিকে ব্লুমবার্গ জানায়, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ব্যবহৃত টিকটক অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে নতুন অ্যাপটির ফিচার বা কাঠামো সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাও নতুন করে সামনে আনবে। আরটিভি/এসকে
টিকটক নিয়ে সুখবর
আরও পড়ুন
বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন রুমিন ফারহানা
মাকে কবরে রেখে বিষণ্ন মনে বাসায় ফিরলেন তারেক রহমান
বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
স্বামীর কবরের পাশে সমাহিত খালেদা জিয়া