ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

৩৬৭ দিন ধরে তাণ্ডব ‘তাপঝড়ের’, প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
কাল্পনিক ছবি

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একসময় স্বল্পস্থায়ী ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা দেওয়া তাপপ্রবাহ এখন বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, কখনো কখনো স্থায়ী হচ্ছে মাসের পর মাস। এমন বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহকে ‘তাপঝড়’ বা ‘হিট স্টর্ম’ হিসেবে অভিহিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী একটি রেকর্ড গড়া তাপঝড় কোনো না কোনো সময়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাকে প্রভাবিত করেছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচটি তাপঝড় সক্রিয় থাকলেও চলতি দশকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০২টিতে। গত ছয় দশকের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিবর্তন শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।

কী এই তাপঝড়?

রয়টার্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো স্থানে টানা পাঁচ দিন বা তার বেশি সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করলে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এমন তাপপ্রবাহ পৃথিবীর মোট আয়তনের অন্তত এক শতাংশ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে তাকে ‘তাপঝড়’ বলা হয়।

রয়টার্স বিশ্বের ১০ লাখের বেশি ভৌগোলিক এলাকার ১৯৬০ সাল থেকে প্রতিদিনের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এ গবেষণায় দুই ডজন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬০-এর দশকে সবচেয়ে বড় তাপপ্রবাহটি প্রায় ৪৬ দিন স্থায়ী হয়েছিল। আটলান্টিক মহাসাগর, লাতিন আমেরিকার কিছু অংশ ও পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে বিস্তৃত ওই তাপপ্রবাহ পৃথিবীর প্রায় ছয় শতাংশ এলাকাকে প্রভাবিত করেছিল।

অন্যদিকে, চলতি দশকের সবচেয়ে বড় তাপঝড়টি ৩৬৭ দিন স্থায়ী হয়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাকে কোনো না কোনো সময়ে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ, তাপপ্রবাহের বিস্তার ও স্থায়িত্ব দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তাপঝড়ের ভয়াবহ প্রভাব

তাপঝড়ের প্রভাব শুধু অসহনীয় গরমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে খরা তীব্র করতে পারে, বাড়াতে পারে দাবানলের ঝুঁকি এবং ব্যাহত করতে পারে কৃষি উৎপাদন। একই সঙ্গে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতায় প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ে।

২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী তাপঝড়ের সময় সৌদি আরবের মক্কায় হজ চলাকালে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ওই সময় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লিবিয়ার দেরনা শহরে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। তবে এসব দুর্যোগের প্রতিটির সঙ্গে তাপঝড়ের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন কতটা দায়ী?

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশক থেকে চলতি দশক পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তাপপ্রবাহ ও তাপঝড়ে আক্রান্ত পৃথিবীর গড় অংশ বেড়েছে ১২ গুণেরও বেশি।

জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে এবং অনেক অঞ্চলে চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির পর্যায়ক্রমিক ঘটনা এল নিনোও নির্দিষ্ট সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের অধ্যাপক জেমস রেনউইকের মতে, তাপঝড় বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তাপ। দীর্ঘস্থায়ী চরম গরমের ফলে খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষ, প্রাণহানি এবং সীমিত সম্পদ নিয়ে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো না গেলে দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, কৃষিনির্ভর অঞ্চল এবং যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শীতল থাকার ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় এর প্রভাব বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত, কর্মক্ষেত্রে গরম থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং তাপসহনশীল নগর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। কারণ, তাপঝড় কেবল আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও ক্রমবর্ধমান হুমকি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর
দেশের চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর
বৃষ্টি হতে পারে যেসব এলাকায়, জানাল আবহাওয়া অফিস
সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টি হতে পারে যেসব এলাকায়, জানাল আবহাওয়া অফিস
আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানাল অধিদপ্তর
উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানাল অধিদপ্তর
আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, কমবে তাপমাত্রা
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ রাতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ পরিষ্কারের পাশাপাশি আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। রাতের তাপমাত্রা কমবে।
রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, কমবে তাপমাত্রা
আরও পড়ুন
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, পুড়ল ১ হাজার একর বনাঞ্চল
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝুঁকিতে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ 
এশিয়াজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, মাটির নিচেই সেদ্ধ হচ্ছে আলু