ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে গর্ভকালীন জটিলতা, ঝুঁকিতে মা-শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহে সময়ের আগে সন্তান জন্ম ও মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভের শিশুর ওপর। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তীব্র গরমের কারণে সময়ের আগে সন্তান জন্মের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকিও বাড়ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সাড়ে ছয় দশকে তাপপ্রবাহের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে তাপপ্রবাহ ছিল তুলনামূলক ছোট ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বিস্তৃত হয়ে এখন বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। রয়টার্স এসব ব্যাপক বিস্তৃত তাপপ্রবাহকে ‘তাপঝড়’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মেক্সিকোর লাখ লাখ শিশুর জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ বা সাধারণ তাপপ্রবাহের মুখে পড়লে সময়ের আগে সন্তান জন্মের হার সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসাবিষয়ক গবেষক দর্শনিকা লাখুও এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। জোহানেসবার্গে তাপপ্রবাহের সময় তিনি নিজেও গর্ভাবস্থায় তিনবার গুরুতর জটিলতার শিকার হয়েছেন।

লাখু ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারী যে এলাকায় বসবাস করেন, সেখানকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে মৃত সন্তান জন্মের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

গবেষকেরা বলছেন, সুস্থ অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও অতিরিক্ত গরমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে আগে থেকেই শারীরিক বা সামাজিক নানা ঝুঁকিতে থাকা নারীদের ক্ষেত্রে তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা বাড়ছে। ফলে অন্তঃসত্ত্বা নারী, গর্ভের শিশু এবং নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে।


সূত্র: রয়টার্স


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ জনে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৬ জন। সবচেয়ে বেশি ৫২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে একই সময়ে হাম ও উপসর্গে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন আরও দুইজন। ফলে এক দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ১ হাজার ১৫৩ জন রোগী। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৪৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।  একই সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৬ জন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন। বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৯৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৪ জনে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন। আরটিভি/টিআর
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামে গত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নারী–শিশুসহ তিনজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
জেলা-উপজেলায় নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ, প্রায় এক কোটি মানুষের ভরসা শেবাচিম
বরিশাল বিভাগের প্রায় এক কোটি মানুষের চোখের চিকিৎসার প্রধান সরকারি ভরসা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। বিভাগে প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ছানি রোগে আক্রান্ত হলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ। ফলে চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় শহরে ছুটতে হচ্ছে রোগীদের। এতে বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়, ভোগান্তি ও চিকিৎসার অপেক্ষা।
জেলা-উপজেলায় নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ, প্রায় এক কোটি মানুষের ভরসা শেবাচিম
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আরও পড়ুন
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সেনাবাহিনীর সহায়তা, গাড়িতেই জন্ম নিল কন্যাসন্তান
সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারতে ৫৫ হাজার মৃত্যুর শঙ্কা
জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে ৫ লাখের বেশি মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: পরিবেশমন্ত্রী