ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নুসরাত হত্যাকাণ্ড: পাঁচদিনের রিমান্ডে মনি

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০২:০৪ পিএম
নুসরাতের সহপাঠী ও কিলিং মিশনের ৫ জনের একজন কামরুন নাহার মনিকে আদালতে হাজির করা হয়, ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নুসরাতের সহপাঠী ও কিলিং মিশনের ৫ জনের একজন কামরুন নাহার মনির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) গোলাম জিলানি জানান, বুধবার দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ হাকিম (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) সরাফউদ্দিন আহমেদের আদালতে তোলা হয় কামরুন নাহার মনিকে। এসময় পিবিআই কর্মকর্তা আসামি মনির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে অপর আসামি মোহাম্মদ শামীমের আজ রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পুলিশ গতকাল তার ৭দিনের রিমান্ড চেয়েছিল।

অপরদিকে নুসরাত হত্যা মামলায় মোহাম্মদ শরিফ নামে এক আসামিকে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে আটক করা হয়েছে বলে পিবিআই এর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে ফেনীর পিবিআইয়ের কোনও কর্মকর্তা এ বিষেয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি। শরিফসহ এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার সকালে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফেনী ও সোনাগাজীতে একাধিক সংগঠন মানববন্ধন করেছে। সকালে ফেনী শহরের শান্তি নিকেতন এলাকায় সিটি গার্লস, সেন্ট্রাল পাবলিক, শান্তি নিকেতন প্রি-ক্যাডেট ইনস্টিটিউটসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান মানববন্ধন করে।

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত জাহান রাফি আলিমের আরবি পরীক্ষা প্রথমপত্র দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কাফনের কাপড় পরে একদল নারীর অভিনব প্রতিবাদ
কাফনের কাপড় পরে নারী নিপীড়ন এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে 'ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি' শীর্ষক এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে ভিক্টিমপক্ষ নামের একটি সংগঠন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই প্রতিবাদীরা। কাফনের কাপড় পরা ছয় নারীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক তরুণীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড লেখা ছিল; “আমি ‘মানুষ’ বিচারহীন রাষ্ট্রে খুন ও ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভিক্টিম পক্ষ।” প্রতিবাদ কর্মসূচিতে 'নারী নিপীড়ন এবং বিচারহীনতার প্রতিবাদ' শীর্ষক এ আয়োজনের উদ্যোক্তা শারমিন অর্পি। জানতে চাইলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ফেনীতে যৌন নিপীড়নের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় নুসরাত জাহান রাফিকে। তার মতো হাজার হাজার ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে বিচারের বাইরে। এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় নতুন করে অপরাধের সাহস পাচ্ছে।  রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নিপীড়নের মাত্রা বাড়ছে উল্লেখ করে শারমিন অর্পি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছে নিপীড়কের বিচার চাওয়ার চেয়ে নিজেদেরই খুন বা ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। তাই আমাদের এ ধরনের প্রতিবাদ। অভিনব প্রতিবাদের এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।  এসজে/জেএইচ
কাফনের কাপড় পরে একদল নারীর অভিনব প্রতিবাদ
আনিসুলের দেখানো পথেই পরিবর্তন সম্ভব: রুবানা হক
ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিণী রুবানা হক বলেছেন, আমাদের চ্যালেঞ্জটা হবে, কী করে শ্রমিক-মালিক একসঙ্গে কাজ করবে। আমার প্রয়াত স্বামী আনিসুল হক দুই বছরে সেটা দেখিয়ে গেছেন; কিভাবে পরিবর্তন আনতে হয়। তার দেখানো পথেই পরিবর্তন সম্ভব। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের (বিজিএমইএ) নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শনিবার (৬ এপ্রিল) রাতে তিনি একথা বলেন। রুবানা হক বলেন, দেশের পোশাক খাত নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যে ইমেজ সংকট রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। অনেকে মনে করেন, আমরা সবচেয়ে সস্তা। এই সস্তা কোনোভাবেই ভালো না বলে আমি ও আমার পরিষদ মনে করি। আমরা বলতে চাই, প্রতিযোগিতা হলো সবচেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা সম্মিলিতভাবে দরকষাকষির জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। সবাই এ বিষয়ে একমত হতে পারিনি। এখন সময় এসেছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে একটা উদ্যোগ নেয়ার। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন শেয়ার বিল্ডিং মোটেও অ্যালাউড নয়। অথচ বহু চার লাইন, ছয় লাইন ফ্যাক্টরির শেয়ার বিল্ডিং রয়েছে। এখন আমাদের উচিত হবে অন্ততপক্ষে এসব কারখানায় যেন ফায়ার ও ইলেক্ট্রিক সেফটিটা নিশ্চিত করা যায়। গার্মেন্ট সেক্টরে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে ও গণমাধ্যম আমাদের সঙ্গে কাজ করলে এ খাতের হারানো ইমেজ অবশ্যই ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের বেশ ভালো মানের ফ্যাক্টরি রয়েছে। আমরা মনে করি সেলফ মনিটরিংয়ের এখনই সময়। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত পোশাক। দেশেও সবচেয়ে বেশি মানুষ এ খাতের সঙ্গে জড়িত। আমরাই মূলত দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের দায়বদ্ধতার কোনও ত্রুটি দেখবেন না। তারপরও কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে সেটা ধরিয়ে দেবেন। উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ ভবনে বিজিএমইএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৬ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১৪৯২ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৯৯ ভোট। ভোটের হার ৭৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। দুই বছর মেয়াদী (২০১৯-২১) এই নির্বাচনে পরিচালনা পর্ষদের ৩৫টি পরিচালক পদে ৫৩ প্রার্থী অংশ নেন। তবে এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২৬ পদে ভোটগ্রহণ হয়। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৪ প্রার্থী। পি
আনিসুলের দেখানো পথেই পরিবর্তন সম্ভব: রুবানা হক
প্রবাসী নারীকর্মীদের সুখ-দুঃখের সাতকাহন
বহুকাল আগে থেকেই অধিক উপার্জন আর উন্নত জীবন জীবিকার আশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও প্রবাসের বিভিন্ন কর্মে নিজেদের নিয়োজিত করে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর শ্রম অভিবাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিপুল জনগোষ্ঠীর এইদেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখেরও বেশি নারী ও পুরুষ কর্মী যুক্ত হচ্ছে। তার তুলনায় কর্মসংস্থানের হার একেবারে কম। তাই এর বিরাট একটি অংশ প্রতিবছর কর্মহীন হয়ে পড়ে। কর্মহীন থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সমাজে নানারকম সমস্যার সূত্রপাত হয়। তখন আমাদেরকে একরকম বাধ্য হয়েই ভাবতে হয় শ্রম অভিবাসনের কথা। যদিও স্বাধীনতার পরপরই আমাদের দেশের নারীরা দেশের অভ্যন্তরে নানা কর্মক্ষেত্রে যোগদান করে পারিবারিক স্বচ্ছলতা ও দেশের অর্থনীতিতে নিরন্তর অবদান রাখা শুরু করেছে। এর যাত্রা অনেক আগেই বাংলাদেশের নারী কর্মীদের শ্রম অভিবাসন শুরু হয়েছিল তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের নারীরা সরাসরি শ্রম অভিবাসনের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশে নারীকর্মী প্রেরণ শুরু করে। বাংলাদেশের নারীকর্মীদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের হার কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। আবার কখনো বন্ধ হয়ে ফের চালু হয়েছে। নারীকর্মী প্রেরণের এই উত্থানপতনের ধারায় বাংলাদেশ প্রায় ২০-২৫ টি দেশে মোট ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৫ জন নারীকর্মীকে বিদেশে চাকুরির জন্য প্রেরণ করেছে। আমরা তাদের শ্রমঘামের রেমিটেন্সও পেয়েছি প্রচুর। তাদের রেমিটেন্সই আমাদের বিকাশমান অর্থনীতিকে দেখিয়েছে নতুন গতিপথ। আমরা কতটুকু ভাবছি তাদের কথা। রেমিটেন্সের ডলার বা টাকার গায়ে যেমন একাধিক রঙ বিদ্যমান। তেমনি বিশাল রেমিটেন্স পাহাড়ের গহীনকোণে প্রবাসী নারীকর্মীদের রেমিটেন্স অর্জনের স্মৃতিতে আছে দুটি রং- একটি সুখের, আরেকটি দুঃখের। কিছু স্মৃতি সুখময় আবার কিছু স্মৃতি রীতিমত ভয়ঙ্কর। সাম্প্রতিককালে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত এসে দুঃসহ স্মৃতির বর্ণনা তুলে ধরছেন। গণমাধ্যমের সুবাদে তা আমাদেরকেও রীতিমতো বিচলিত করে তুলেছে। বাংলাদেশের নারীকর্মীদের শ্রম অভিবাসনের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রথমদিককার ইতিহাস অতটা সুখকর ছিলনা। তখন যেসব নারীকর্মী বিদেশে যেতেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন অদক্ষ। তাদের অনেকেই দেশের অভ্যন্তরে কোন নিয়মিত চাকরি বা কর্মে নিযুক্ত ছিলেন না। তাদের অনেকে সমাজ সংসারের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে পরিবারের হাল ধরার আশায় বাধ্য হয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে। তাদের কেউ কেউ দেশে মাটিতে সহায় সম্বলহীন হয়ে, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে,পরিবারের সদস্যদের উপেক্ষার পাত্র হয়ে, প্রতারক প্রেমিকের প্রেম বঞ্চনার শিকার হয়ে, পাড়া মহল্লায় উঠতি মাস্তান আর বখাটে যুবকের উৎপাতে,দেশের অভ্যন্তরে কর্মক্ষেত্রে নানা লোকের কুপ্রস্তাব হতে রক্ষা পাওয়ার আশার হাতছানি দেখেছিল সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে। শ্রম অভিবাসী নারীকর্মীর এই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন বাগেরহাটের চার সক্ষম সন্তানের এক জননী। এই মিছিলে আজও শরিক হচ্ছে দেশের হাজার হাজার কিশোরী-তরুণী-যুবতী-মহিলা। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিদেশের মাটিতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে কর্মস্থলে হাসিমুখে কাজ করে গেছেন। আর হাসি ফুটিয়েছেন দেশে রেখে যাওয়া অসহায় পরিবারের মুখে। বীরত্বের সাথে নিজ কর্মস্থলে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রশংসাও পেয়েছেন প্রচুর। আপন করে নিয়েছেন বিদেশকে,আপন হয়েছেন বিদেশের মানুষের। অর্জিত অর্থে দেশে গড়েছেন স্বপ্নের সিঁড়ি। সেই সিড়ি বেয়ে এগিয়ে গেছে দেশের অর্থনীতি। প্রতিবেশীর কাছে হয়েছেন অনুকরণীয় উদাহরণ। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ বিরতিহীন ভাবে দীর্ঘ সময়ধরে কাজ করানো,সঠিক বেতনাদি সময়মত পরিশোধ না করা, দীর্ঘ সময় খেতে না দেওয়া, অবসর-বিনোদন-ছুটির ব্যবস্থা না করা, নিরাপত্তাহীনতা, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি কারনে ব্যর্থতার ডালি মাথায় বিফল হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। কেউ সমাজ বা পরিবার কর্তৃক ধিকৃত হয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন। কেউ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। কেউ কেউ হাসপাতালে শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই তাদেরকে অচ্ছুৎ, দায় বা বোঝা জ্ঞান করছেন। সফল হোন আর বিফল হোন-এরা কারো না কারো মা বোন। ব্যর্থ হলেও এরা কেউ ফেলনা নয়। এরা কোন ভাবেই বাংলাদেশের জন্য দায় বা বোঝা নয় বরং এরা বাংলাদেশের মানবসম্পদ। সরকার তাদেরকে এইভাবেই মূল্যায়ন করে। তাই সরকার তাদের প্রেরিত অর্থ আর অর্জিত মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে উৎসর্গ করতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকারের সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে প্রত্যাগত নারীকর্মীদের পুনর্বাসনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে প্রত্যাগত নারীকর্মীদের সবধরনের সামাজিক নিরাপত্তাসহ দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে। এছাড়া সরকার ওয়েজ আর্নার্স আইন-২০১৭ নামে একটি আইন পাস করেছে। এতে বলা আছে- ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড বিদেশে কর্মরত কোন নারী অভিবাসী কর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্যকোন কারণে বিপদগ্রস্ত হলে তাদের উদ্ধার ও দেশে আনয়ন, আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তা নিশ্চিত দেওয়া, এছাড়া দেশে প্রত্যাগত নারীকর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন ও পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং দেশে বিদেশে সেফহোম ও হেল্প ডেস্ক পরিচালনা করতে পারবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ থেকে নারীকর্মী প্রেরণ শুরু হলে প্রথম বছরই ২১৮৯ জন নারী কর্মী বিদেশে গমন করে। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল এই সংখ্যা কোনভাবেই দুই হাজারকে অতিক্রম করতে পারেনি। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই চার বছরে মোট ২৪১৮ জন নারীকর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার ২০০৪ সাল থেকে এই সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তেই থাকে। প্রসঙ্গত ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের নারীকর্মীদের সৌদিআরবে কর্মসংস্থান প্রায় বন্ধই ছিল। ২০১৫ সালে সৌদির শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার ফলে ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ সালে নারীকর্মীর বিদেশ গমনের সংখ্যা রাতারাতি লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই বছরে মোট ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৩২ জন নারীকর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গিয়েছে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার নারীকর্মী। ১৯৯১ সাল ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৯৫ জন নারী কর্মী বিদেশে গমন করেছে। উল্লেখ্য ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া, যশোর, বরিশাল, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের নারীকর্মীদের বিদেশে গমনের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশ সরকার নতুন করে হংকং, জর্ডান, লেবানন, ওমানসহ কয়েকটি দেশের সাথে বিভিন্ন সেক্টরে নারীকর্মী প্রেরনের কার্যক্রম সংক্রান্ত চুক্তি করেছে। অন্যান্য দেশেও নারী কর্মী প্রেরনের জন্য বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বিস্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পুরুষকর্মীর তুলনায় নারীকর্মীর শ্রম অভিবাসন একটু কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। সিডও সনদের ১১.৫ নং ধারায় অভিবাসী নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে সমঅধিকার ও সমমর্যাদা সম্পর্কে বলা আছে-স্বাক্ষরকারী সদস্য রাষ্ট্রসমুহকে নারীকর্মীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তারপরেও বিভিন্ন দেশে নারী কর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনমূলক ঘটনা ঘটছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। যেমন-আমাদের নারীকর্মীরা গৃহপরিচারিকা পেশায় বিদেশে যায়। যেহেতু তারা কাজ করেন ঘরের ভিতরে আর নারী কর্মীরা অধিকাংশই উঠতি বয়সের কিশোরী-যুবতী হয়ে থাকেন এবং গৃহস্বামী বিমানভাড়া, মেডিকেলসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে মনোনীত করে নারীকর্মীদের তাদের ঘরে নিয়ে যান, একারণেই হয়তো কিছু কম মানবিকতাবোধ সম্পন্ন বিত্তশালী মালিক নারীকর্মীদের নিজেদের কেনা বাদী মনে করতে পারে। নিজের ঘরে অন্যদেশের গৃহকর্মীর উপর যাদের লোলুপ দৃষ্টিতে নির্যাতন, খুন জখম ধর্ষণ গর্ভধারণ-সত্যিই অত্যন্ত পরিতাপের। প্রতারিত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের নারীকর্মীরাও কিছু অংশে কমবেশি দায়ী আছেন। যেমন-কেউ কেউ আছেন যে গ্রামের অশিক্ষিত ও দরিদ্র নারী নানা লোভের বশবর্তী হয়ে পরিবারের একরকম মতামত ছাড়াই যথাযথ দক্ষতা অর্জন না করেই, ভাষা-সংস্কৃতি-আইন কানুন-খাদ্যাভ্যাস সমন্ধে কোন কিছু না জেনে কোন প্রকার ট্রেনিং না নিয়ে আগেপাছে কিছু না ভেবে বিদেশ নামক অজানার পথে পা বাড়ায়। এমন ও অনেকেই আছে যারা জীবনে একবারও দেশের রাজধানী শহর ঢাকাতেই আসেননি অথচ এক দৌড়ে চলে যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। এদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন আধুনিক প্রযুক্তির যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে অতটা পরিচিতও নন। এমনও নারী কর্মী পাওয়া যায় যারা আরবি ভাষার অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটা শব্দও জানেনা। তারা জানেনা 'আমি বিপদে আছি' এর আরবি কি, 'আতিকা খুলুস ' এর বাংলা কি? তারা এও জানেনা সৌদিআরবের 'মামা' পুরুষ না মহিলা। যারা বাংলাটাই ঠিকমতো পড়তে লিখতে জানেনা তাদের জন্য বৈদেশিক ভাষায় যোগাযোগ রক্ষা সত্যিই দুরুহ। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে অতিরিক্ত হোমসিকনেস, কম অভিযোজন ক্ষমতা, অধিক কাজের চাপ সহ্য করতে না পারা, চেনাপরিচিত লোকের সাক্ষাৎ না পাওয়া, খাদ্যাভ্যাস-পরিবেশ-সংস্কৃতির মিল না পেয়ে, অবসর-বিনোদন-ছুটি না পেয়ে দেশে ফিরতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন। আবার অনেকে দুধের শিশু, কোলের বাচ্চা, স্বামীর সংসার, বৃদ্ধ পিতামাতা, প্রাণপ্রিয় প্রেমিক প্রমুখের টানে সামান্য বিচ্যতিতেও নারীকর্মী দেশে ফিরে আসেন। অনেকে অভিযোগ করেন, কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার উদাহরণ সারা পৃথিবীতেই বিদ্যমান। তার মানে এই না পৃথিবীর সবাই খারাপ। যেসব নারীকর্মী বিদেশে গেছেন তাদের মধ্যে শতকরা নব্বই ভাগ ভালো অবস্থায় আছেন।বাকিরা হয়ত কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এর জন্য যথাযথ শাস্তির বিধানও আছে। সরকার, মন্ত্রণালয়, দূতাবাস, যথারীতি বিষয়গুলি মনিটরিং করছে। যেহেতু তারা একরকম বিনা খরচে বিদেশে যায় তাই হুটকরে দেশে ফিরে আসতে তেমন চিন্তাভাবনা বা স্ট্রাগল করার বিষয়টি বিবেচনায় আনেন না। তবে শিক্ষিত মহিলাদের উন্নত ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে বিদেশে পাঠালে তারাও নিরাপদে কাজ করতে পারবে এবং দেশেও অধিক পরিমাণ রেমিটেন্স আসবে। দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। আর বৈদেশিক হোক আর দেশীয়ই হোক কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নারীকর্মীকেও সচেতন ভাবে কিছু ভুমিকা পালন করতে হবে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশ থেকে প্রত্যাগত হয়ে নারীকর্মীরা বাংলাদেশে আসছেন। শোনা যাচ্ছে নানা বিষাদময় সব গল্প। তখন দেশের অনেক মহল থেকেই নারী কর্মীদের বিদেশে প্রেরণের ব্যাপারে নানা উদ্বিগ্ন মতামত আসছে। কেউ কেউ আবার বিদেশে নারীকর্মী পাঠাতে সরাসরি নিষেধ করছেন। তবে অভিবাসন একটি স্বাভাবিক এবং প্রায় স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। কাজের খোঁজে মানুষ স্বউদ্যোগেই বিদেশে যায়। এই স্বাভাবিক অবস্থা অস্বাভাবিক করে তুললে পরিণামে চরম মূল্য পরিশোধ করতে হয়। বাংলাদেশের নারী সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি ও টেকসই সামাজিক অবস্থান সৃষ্টি করতে নারীকর্মীর শ্রমভিবাসন অত্যন্ত জরুরি। লক্ষণীয় যে, বিগত সময়ে নারী কর্মীর অভিবাসন বিভিন্ন কারনে ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে যৌনব্যবসার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ভাবে নারীপাচারের ঘটনা ঘটতো। তাই বলা হয় অভিবাসন ও মানবপাচার একে অপরের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত। অভিবাসন ব্যাহত হলে মানব পাচার বেড়ে যাবে -এটাই স্বাভাবিক। নিঃসন্দেহে সৌদিআরব বাংলাদেশের বড় একটি শ্রমবাজার এবং ভাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ। ধর্মের খাতিরে আমরা আরো কাছাকাছি ভাবি। আমাদের শ্রমিকেরাও সেখানে যেতে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যেদেশে প্রেমের শাস্তি শিরশ্ছেদ, চুরির শাস্তি হাত কেটে ফেলা সেদেশে ভিন দেশের গৃহকর্মীর উপর পাশবিক নির্যাতন কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও সবাই জড়িত নয়, তারপরও যেকোন বিরূপ ঘটনার তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত। আমরা সৌদিআরব কে আমাদের হৃদয়ে যে শ্রদ্ধার অবস্থানে রেখেছি নিশ্চয় সৌদিআরব সে সম্মান সম্পর্কে সচেতন আচরণ করবে। এতে দুই দেশই লাভবান হবে। নারীকর্মীর নিরাপদ, নিয়মিত, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশেই বিদেশ গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিএমইটি তে নারী অভিবাসী কেন্দ্র স্থাপন করেছে,দেশের প্রায় সব জেলা/উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে যথাযথ ভাষা ও ট্রেড প্রশিক্ষণ প্রদান করে নারী কর্মীদের যোগ্য করে তুলছে, নারীকর্মীর অধিকার রক্ষায় দেশেবিদেশে আলাপ আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীকর্মীদের জন্য সেফহোম, শেল্টার হাউজ, দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, দূতাবাস ও লেবার উইংয়ের মাধ্যমে নারীকর্মীর সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নারীকর্মীর নিরাপত্তা-নিরাপদ কর্মপরিবেশ-বেতন ও ক্ষতিপূরন আদায়ে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিয়ত নেগোসিয়েশন করছে। প্রত্যাগত নারীকর্মীরা বিমানবন্দরে আসার সাথে সাথে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে মেডিকেল সুবিধাসহ নানা সহায়তা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে। আর সবার জন্য রয়েছে বিপদের সাথী ২৪ হটলাইন প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার যার নাম্বার (+88 01784 333 333, +88 01794 333 333 এবং +88 02-9334888)। কোনরকম প্রতারণার ঘটনা ঘটলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। তবে সরকার বিদেশ গমনেচ্ছু নারী পুরুষ সকলকে জেনে বুঝে ভাষা শিখে যথাযথ ট্রেনিং নিয়ে শ্রম অভিবাসনে যুক্ত হতে আহ্বান করছে। নারী কর্মীরা জেনে, বুঝে, ভাষা শিখে,বেসিক আইনকানুন জেনে, যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে, দেশীয় প্রশিক্ষণের মান ও মেয়াদ বাড়ালে, তাদের প্রত্যেকের হাতে স্মার্ট ফোন দেওয়া হলে, পাসপোর্ট ও ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে আরো নজরদারি বাড়ালে এবং সকার ও দূতাবাসের মাধ্যমে নারীকর্মীর খোঁজ নিলে, সময়ে সময়ে মালিকের সাথে কর্মীর ব্যাপারে নেওয়া হলে,মাঝেমধ্যে ছুটি-অবসর-বিনোদনের ব্যবস্থা করা হলে, সুষ্ঠু ডাটাবেইস ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হলে, নির্যাতন ও প্রতারণাকারীকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারলে নারীকর্মীর শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাই লাঘব হতে পারে। টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে জাপান প্রবাসী নারী কর্মী নাসরীনের গল্প দিয়েই শেষ করছি। ২০১৭ সালে আইএম জাপানের পৃষ্ঠপোষকতায় পুরান ঢাকার মেয়ে নাসরীন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে সম্পূর্ণ বিনা খরচে জাপানে যায়। নাসরীনের ব্যক্তিত্ব, আচার -ব্যবহার, জাপানী ভাষা শিক্ষণের পারদর্শিতা, কর্মস্পৃহা ও দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে যান আইএম জাপানের সিইও কিয়োই ইয়ানাগিসাওয়া। নাসরীনও খুব সহজে জাপানী ভাষা ও সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস ও পরিবেশের সাথে নিজেকে মানানসই করে গড়ে তুলেন। এতে খুশি হয়ে ইয়ানাসান তাকে নাতনী বানিয়ে নেন। গড়ে তোলেন এক পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক। এবছর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নাসরীনের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে। সেই অনুষ্ঠানে আইএম জাপানের সিইও মহৎপ্রাণ ইয়ানাসান স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। নিজে উপস্থিত থেকে বিয়ের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। নাতনীর বিয়ে বলে কথা! বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে নাসরীন আবার চলে গেছেন জাপানে। নাসরীন নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে শুধু ইয়ানাসান নয় পুরো জাপানকে জয় করেছে। নাসরীন সফল হয়েছে। নাসরীনই হোক বাংলাদেশের সকল প্রবাসগামী নারী কর্মীর প্রতিচ্ছবি। সব নারীকর্মীর গল্প হোক নাসরীনের গল্পের মত। সকল প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে জয় হোক নাসরীনদের। জয় হোক সকল নারীকর্মীর। মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, জনসংযোগ কর্মকর্তা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
প্রবাসী নারীকর্মীদের সুখ-দুঃখের সাতকাহন
আরটিভির আলোকিত নারীর সম্মাননা পাচ্ছেন লালমনিরহাটের জহিরন
সফল সমাজসেবক হিসেবে আরটিভি আলোকিত নারীর সম্মাননা পাচ্ছেন লালমনিরহাটের জহিরন বেওয়া। ৮ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে। গেল সোমবার বিকেলে  আরটিভির  আমন্ত্রণপত্রটি তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেন আরটিভি লালমনিরহাটের স্টাফ রিপোর্টার হাসান- উল- আজিজ।   জহিরন বেওয়ার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা তালুক দুলালী গ্রামে। স্বামী সায়েদ আলী মারা গেছেন ১৯৬৮ সালে। এরপর শারীরিক ও মানুষিকভাবে ভেঙে পড়েন জহিরন বেওয়া। তিন ছেলে আর  এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ১০ বছর আগে বড় ছেলে দানেশ আলী ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। ছোট ছেলে তোরাব আলীর বয়স ৫৫। সংসারে এই সংগ্রামী নারী এখনও সচল, সজাগ আর কর্মদ্যোমী হয়ে বেঁচে আছেন। এ বয়সে তার বাড়ির বারান্দায় কিংবা কোনও গাছের ছায়ায় বসে নাতি-নাতনিদের গল্প শোনানোর কথা। কিন্তু তিনি প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পর গ্রাম মাইলের পর মাইল। কারও অসুস্থতার সংবাদ পেলেই নাওয়া-খাওয়া ভুলে বাইসাইকেলে চড়ে ছুটে যান সেই রোগীর বাড়িতে চিকিৎসা সেবা দিতে। সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি ভেঙে ১৯৭৩ সালে জহিরন পরিবার পরিকল্পনার অধীনে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেন। পরে চুক্তিভিত্তিক মাসিক মজুরিতে কাজে যোগ দেন। নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাইসাইকেল চালিয়ে গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতেন। দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা অবশেষে পাঁচশ’ টাকা মাসিক মজুরি পেয়ে  চাকরি করে অবসরে যান জহিরন। আরটিভি আলোকিত নারীর সম্মাননার খবরে আনন্দিত মহিয়সী নারী জহিরন বেওয়া । তিনি বলেন,আরটিভি আমাকে যে সম্মান দিতে যাচ্ছে এতে আমি গর্ববোধ করছি। তিনি আরটিভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ছোট ছেলে তোরাব আলী বলেন, আমার মা সারাটি জীবন এলাকার মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। তাকে সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের খবরে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দিত এবং আরটিভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আরও পড়ুন : নারী-পুরুষের সমতা আছে মাত্র ৬ দেশে জেবি
আরটিভির আলোকিত নারীর সম্মাননা পাচ্ছেন লালমনিরহাটের জহিরন
জীবন রণে অদম্য নারী
বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাজ বরাবরই বেশ চ্যালেঞ্জিং। কমিউনিকেশনের মাধ্যমে ব্র্যান্ড কিংবা সার্ভিস কনজিউমারদের কাছে সহজে, সঠিকভাবে প্রচারে দিন-রাত ভুলে কাজ করাটাই যেন এখানে নিয়ম। এই চ্যালেঞ্জটা আরও বেড়ে যায় যখন কাজ করতে হয় এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশন লিমিটেড এর মতো সুবিশাল ও স্বনামধন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে। কারণ বিজ্ঞাপন জগতে এশিয়াটিক অনেক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এখানে প্রতিষ্ঠান হিসেবে এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনের নাম উঠে এসেছে বিশেষ একটি কারণে। অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপনী সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানসহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়োজিত কর্মীদের মাঝে পুরুষই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেখানে এশিয়াটিকের চিত্রটি একদমই ভিন্ন। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এখানে নারী কর্মীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। পুরুষ সহকর্মীদের পাশাপাশি প্রায় ৪০ শতাংশ নারীদের নিরলস শ্রমে-উদ্যমে এশিয়াটিক আজ দেশের সফল একটি প্রতিষ্ঠান। এই সফলতার উপাখ্যান গড়েছেন যারা, অল্প করে তুলে ধরছি তাদের কথা-  সারা যাকের (ভাইস চেয়ারপারসন এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি গ্রুপ অফ কোম্পানিস) বাংলাদেশের অনন্য নারীদের মাঝে তিনি অন্যতম। টিভি নাটক, মঞ্চ নাটক, চলচ্চিত্র- সব ভুবনেই রেখে চলেছেন দৃঢ় পদচ্ছাপ। কর্মক্ষেত্রেও তিনি অতুলনীয়া। পথচলার শুরু থেকেই অভিভাবকের মতো নিযুক্ত আছেন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে। যেমনভাবে স্বীকৃত হয়েছেন নিজের ভুবনে, তেমনভাবেই বিশ্ব পরিসরে স্বীকৃতি পেয়েছেন কর্মদক্ষতার গুণে। এত দায়িত্বের মাঝেও ছাড় দেননি নিজের পরিবার নিয়ে। সন্তানদের গড়ে তুলেছেন সুশিক্ষিত, সুনাগরিক এবং সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে। পুরো এশিয়াটিকজুড়ে রয়েছে তার তুমুল জনপ্রিয়তা। মিষ্টি হাসি, আন্তরিকতা আর নিষ্ঠার সমন্বয়ে তিনি একজন উদাহরণ সৃষ্টিকারী নারী। শারমিন রহমান (এসোশিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্রিয়েটিভ) তিনি যে অবস্থানে কর্মরত আছেন তা ঈর্ষণীয়, একই সঙ্গে ভীষণ অনুপ্রেরণার। এডভার্টাইজিং ইন্ডাস্ট্রিতে এর আগে এমন অবস্থানে কোনও নারী পৌঁছাননি। মেধা, সৃজনশীলতা আর পরিশ্রমের নিপুণ মেলবন্ধনে তিনি প্রতিনিয়ত সামলে চলেছেন কর্ম জীবন। নিত্যনতুন আইডিয়া আর সমাধানে তার টিমকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন একের পর এক মাইলফলক ছোঁয়ার অসাধারণ যাত্রায়। তার তত্ত্বাবধানে ক্রিয়েটিভ টিমের আর্ট সেকশনে কাজ করছেন ডেইজি দেওয়ান, ফারজানা তামান্না, তাসমিত আফিয়াত আর্নি, ফারজানা আক্তার পুষ্পের মতো একদল উদ্দীপ্ত নারী। শারমিন সুযোগ পেলেই নেমে পড়েন বিশ্ব ভ্রমণে। নতুনকে জানার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার আকাঙ্ক্ষা তাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়। এতকিছুর পরও পিছিয়ে নন ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তার ডিজাইন করা পোশাক প্রদর্শিত এবং প্রশংসিত হয়েছে। এশিয়াটিক একটি পরিবারে মতো। এই পরিবারে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন কাশফিয়া নাহরিন। যিনি পরিবারের সদস্য, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ডিপার্টমেন্ট ক্লায়েন্ট সার্ভিস আর ক্রিয়েটিভ টিমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার মতো কাজটা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে থাকেন। সৈয়দা মেহের নূর (অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ক্লায়েন্ট সার্ভিস ডিরেক্টর) চ্যালেঞ্জ নেয়াটা মেহের এর চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দক্ষতার সঙ্গে অনেক বছর সামলেছেন দেশের নামকরা সব ব্র্যান্ড। নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছা থেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন ক্যারিয়ার বিষয়ক উচ্চ শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে। ফিরে এসেই সম্পৃক্ত হয়েছেন আরও বড় দায়িত্বে। স্বামী, দুই শিশুকন্যা নিয়ে তার সুখের সংসার। আদর্শ বসের মতো করেই আদর্শ মায়ের দায়িত্বটা পালন করে আসছেন দারুণভাবে। নারীদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দিক নির্দেশনা দিতে তিনি সবসময় হাসিমুখে প্রস্তুত। তাই তার অধীনে কাজ করা নারী কর্মীদের সংখ্যাটাও বেশ প্রশংসনীয়। ফারাহ দিবা, ফৌজিয়া করিম, ইয়াশনা ইসলাম, লামিয়া আলমগীর, জান্নাত বুশরা অন্তরা তার টিমের পার্ফেক্ট টিমমেট হয়ে কাজ করছেন, এগিয়ে চলেছেন অর্জনে।  তাহরিমা রহমান পুশকিন (সিনিয়র ডিরেক্টর, সোশ্যাল কমিউনিকেশন) কাজ ভালোবাসেন, গভীর আন্তরিকতায় কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোও দিন শেষে সহজে পরিণত করেন। তার এই এগিয়ে যাওয়ার যাত্রায় কোনোকিছু কখনও বাধ তুলতে পারেনি। বিশ্বাস করেন নারীর ক্ষমতায়নে। কর্ম এবং ব্যক্তি জীবনে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন অসংখ্য নারীদের। তার টিমে আরও একটি দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান এসোসিয়েট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন মিথিলা হোর। দু’জনেই শুধু কর্ম জীবন নয়, পারিবারিক জীবনকেও আগলে রেখেছেন পরম মমতায়। ফারাহ্ তানজীন সুবর্ণা (এসোসিয়েট ডিরেক্টর, গ্রুপ এইচআর) রিসোর্সিং এবং রিক্রুটিং প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ করে যেতে হয় একাগ্রতায়। যাচাই করতে হয় অগণিত অ্যাপ্লিকেশন, বাছাই করতে হয় যোগ্য ক্যান্ডিডেট। এখানেই শেষ নয়। নিয়োগকৃত কর্মীর সুযোগ সুবিধাসহ সকল বিষয়াদি গুরুত্বের সাথে আপ-টু-ডেট রাখতে হয়। এশিয়াটিকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াটি আরও চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জ সুবর্ণা প্রতিনিয়ত সামলে চলেছেন নারীদের নিয়ে গঠিত টিম নিয়ে। এ টিমে তার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন লুবনা তনিমা এবং আঞ্জুমানারা সুমি। ব্যস্ততার ভিড়ে হিউম্যান রিসোর্স টিম এশিয়াটিক পরিবারের খোঁজ রেখে চলেছে, সময়-অসময়ে পাশে থাকছে যেকোনো প্রয়োজনে। কর্ম জীবনের পাশাপাশি রন্ধন শিল্পী হিসেবেও সুবর্ণার বেশ সুনাম রয়েছে। তানজিলা বাহার চৌধুরী তৃষা (গ্রুপ ম্যানেজার, স্ট্রেটিজিক প্ল্যানিং) সময় কিংবা বয়স নয়, বিশ্বাস রাখেন পারদর্শিতায়, আত্মবিশ্বাসে। যেখানে সবাই চায় তার কমফোর্ট জোনে বিচরণ করতে, সেখানে তিনি বেশ অল্প বয়সেই অবতীর্ণ হয়েছেন চ্যালেঞ্জিং সব ভূমিকায়। নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপে। শিখেছেন, শিখিয়েছেন এবং প্রতিবারই আলোকিত হয়েছেন নিজের আলোয়। কর্মজীবনে জয়ী তানজিলা একইসঙ্গে ব্যস্ত আছেন আন্তর্জাতিক গবেষণাভিত্তিক কাজে। শখের বসে লেখালেখি, আঁকিবুঁকিও চলছে অবিরাম। স্ট্র্যাটিজিক প্ল্যানিং টিমে আরও কাজ করছেন গ্রেস কান্তা সরকার, রেবেকা আলী। ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটিজির দাঁড় করাতে শহর নেই, গ্রাম নেই যেকোনো প্রান্তেই তারা ছুটে যান ফিল্ড ভিজিটে, করেন দীর্ঘ রিসার্চ, কেস স্টাডি, কনজিউমার এনালাইসিসের মতো শ্রমসাধ্য, বুদ্ধিদীপ্ত কাজ।  নারীরা বাইরে নিরাপদ নন, নারীরা কাজে বাড়তি সুবিধা পান, নারীরা বড় দায়িত্বে পিছপা- এই সকল ধারণাকে ভ্রান্ত করে দিয়ে এশিয়াটিকের অদম্য নারীরা নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন স্ব-স্ব আকাশে। ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন সব জীবন যুদ্ধেই ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার। সমাজে মিডিয়াকেন্দ্রিক সমালোচনার বিপক্ষে নিজ গুণে, নিজ শক্তিতে তারা প্রমাণ করছেন নিজেদের। তাদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হচ্ছে বিজ্ঞাপন শিল্প, অনুপ্রাণিত হচ্ছে নারীরা, এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ। আর/এসএস
জীবন রণে অদম্য নারী
আরও পড়ুন
সেই পুলিশ সদস্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে (ভিডিও)
তিন দিনের রিমান্ডে সংগ্রাম সম্পাদক
রুম্পার বন্ধু সৈকত চার দিনের রিমান্ডে
এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় ইসির দুই কর্মচারী রিমান্ডে